প্ল্যাকার্ড হাতে ইয়েমেনি শিশুরা: ‘আমরা ক্ষুধা এবং বোমা হামলায় বেঘোরে প্রাণ হারাচ্ছি’

তারিক মুজিব ।।

ছবিটি রয়টার্সের তোলা। শিশু তিনজনের হাতে ধরা ছেঁড়া কাগজের প্ল্যাকার্ডের বক্তব্যটি অত্যন্ত মর্মস্পর্শী। সরল বাংলায় অনুবাদ করলে এর অর্থ দাঁড়ায়- “আমরা ক্ষুধা এবং বোমা হামলায় বেঘোরে প্রাণ হারাচ্ছি”।

ওরা অনাহারের দেশ ইয়েমেনের বাসিন্দা। একদা ফুলে-ফলে সজ্জিত ছিল দেশটি। আলীশান কোনো অট্টালিকায় ওদের প্রানবন্ত শৈশব কাটানোই স্বাভাবিক ছিল। এখন কেমন করুণ জীবন তাদের। নিজেদের এবং বন্ধুদের মৃত্যুর কারণ জানিয়ে বিশ্বকে তাদের দুরাবস্থার খবর পড়াচ্ছে।

বৈশ্বিক ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে যে কয়েকটা দেশ ইয়েমন তার অন্যতম। ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহী এবং সৌদি জোটের প্রভাব বিস্তারের যুদ্ধে বিপর্যস্ত ইয়েমেনের সাধারণ নাগরিকদের জীবন।

জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তেনিও গুতরেস সম্প্রতি এক বার্ষিক প্রতিবেদনে জানিয়েছেন, গত বছরে ইয়েমেনে বোমা হামলার শিকার হয়ে ৬১৫ ইয়েমেনি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। তন্মধ্যে ২২২ জন শিশু হত্যার জন্য দায়ি করা হয়েছে সৌদি জোটকে এবং হুথি বিদ্রোহীদের বোমা হামলায় প্রাণ হারিয়েছে ৩১৩ শিশু। এছাড়া ইয়েমেন সরকারকে দায়ি করা হয়েছে ৯৯ শিশুকে হত্যার জন্য। আর ১১ শিশু বোমার আঘাতে প্রাণ হারিয়েছে সুরক্ষা বেল্টে।

জাতিসংঘ মহাসচিবের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী গত একবছরে অপুষ্টির শিকার হয়ে মারা গেছে আরও ৮৩২ জন ইয়েমেনি শিশু।

ইয়েমেনের রাজধানী সানাকে অনেক আগেই ক্ষুধার নগরী ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ইয়েমেনের শিশুরাই সবচেয়ে বেশি অপুষ্টিতে ভুগছে। গত কয়েক বছরে কেবল অপুষ্টিতে ইয়েমেনে মারা গেছে ৮৫ হাজারেরও বেশি শিশু।

অপুষ্টি এবং অনাহারের পাশাপাশি ইয়েমেনের জন্য অপর অভিশাপ অশিক্ষা। ইয়েমেন এখন মৃত্যু ও ক্ষুধার নগরী। দুর্ভিক্ষের নগরী। অশিক্ষার নগরী। অশিক্ষা ক্ষুধা এবং অনাহারকে আরও তরান্বিত করে।

আল আরাবিয়ার খবরে বলা হচ্ছে, দূর ভবিষ্যতে ইয়েমেনে যদি স্থিতিশীলতাও ফিরে আসে তবুও সেখানের নাগরিকদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে কয়েক যুগ লেগে যাবে। কারণ দেশটিতে বর্তমাণে ৪ দশমিক ৫ মিলিয়ন শিশু শিক্ষা বঞ্চিত।

প্রতিবেদনে বলা হয়, রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ইয়েমেনের অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান বিরাণ পড়ে আছে। যেগুলো আছে অতর্কিত হামলার ভয়ে শিশুরা সেগুলোতে নিয়মিত যাতায়াত করতে সাহস পাচ্ছে না।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ভ্রাতৃঘাতি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর প্রায় ৩ মিলিয়ন শিশু জন্মগ্রহণ করেছে। অপুষ্টি এবং সঠিক স্বাস্থ্যসেবার অভাবে তাদের অধিকাংশই মরে গেছে। জীবিত যারা আছে তারাও অপুষ্টি এবং নানা রোগে আক্রান্ত। জীবন বাঁচানোই যেখানে কঠিন সেখানে শিক্ষা তো পরবর্তী বিষয়।

পূর্ববর্তি সংবাদ৩ মাস পর বাংলাদেশ থেকে চালু হল আন্তর্জাতিক ফ্লাইট
পরবর্তি সংবাদচেয়ারম্যানের বাড়িতে মিললো ৪০ হাজার ইয়াবা