বাংলাদেশে আদম ব্যবসা: যে সব নীতিমালা না মানার কুফল লিবিয়া ট্র্যাজেডি

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: আমাদের দেশে বিদেশে জনশক্তি রফতানি আদম ব্যবসা নামে পরিচিত। যুগ যুগ ধরে বিশ্বব্যাপী এ ব্যবসা চলে আসছে। কিন্তু সম্প্রতি দেশে কিছু অসাধু ব্যক্তি, রিক্রুটিং এজেন্সি ও সিন্ডিকেটের আবির্ভাব ঘটেছে, যারা যথাযথ কর্তৃপক্ষের বৈধ অনুমোদন ব্যতিরেকে চোরা পথে মানুষ পাচার করে থাকে। আবার যারা অনুমোদিত এদের মধ্যেও দেখা যায় প্রতারণা, ধোঁকা ইত্যাদির আশ্রয় নিয়ে সাধারণ মানুষকে জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলে দেয়। এদের মধ্যে দেশের অনেক বড় বড় রাঘব বোয়ালকেও জড়িত দেখা যায়। তারা উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে দেশের সাধারণ মানুষকে সমুদ্র ও মরুভূমিতে অসহায় অবস্থায় ছেড়ে দেয়। ফলে কখনো সাগরে কখনো মরুভূমিতে কখনো বরফাচ্ছাদিত উপত্যকায় কখনো ডাকাতের কবলে পড়ে নিহত বিভিন্ন বাঙ্গালী যুবকের লাশ পাওয়া যাওয়ার খবর গণমাধ্যমে আসে। গত ২৮ শে মে লিবিয়ায় এমনি একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে।

পত্রপত্রিকা থেকে  জানা যায়, গত ২৮ মে লিবিয়ার ত্রিপলি থেকে ১৮০ কিলোমিটার দক্ষিণের শহর মিজদাহতে ২৬ বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা করে একদল মানব পাচারকারী ও তাদের স্বজনরা। ওই ঘটনায় চার আফ্রিকান অভিবাসীও নিহত হন।

ওই ঘটনায় বেঁচে যাওয়া একজনের বরাতে সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, উন্নত জীবিকার সন্ধানে ইউরোপ যাওয়ার জন্য লিবিয়ায় দুর্গম পথ পাড়ি দিচ্ছিলেন ৩৮ বাংলাদেশি। বেনগাজি থেকে মরুভূমি পাড়ি দিয়ে মানবপাচারকারীরা তাদের ত্রিপোলি নিয়ে যাচ্ছিল।

ত্রিপলি থেকে ১৮০ কিলোমিটার দক্ষিণের শহর মিজদাহতে ওই দলটি লিবিয়ার মিলিশিয়া বাহিনীর হাতে জিম্মি হয়। তখন পাচারকারীরা আরও টাকা দাবি করে।

এ নিয়ে বচসার মধ্যে আফ্রিকার মূল পাচারকারীকে মেরে ফেলা হলে তার পরিবার এবং বাকি পাচারকারীরা এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে ৩০ জনকে হত্যা করে, আরও ১১ জন আহত হন।

এ হত্যাকাণ্ডের খবর প্রকাশের পর বাংলাদেশে মানবপাচারকারীদের ধরতে মাঠে নামে পুলিশ-র‌্যাব। একের পর এক ঘটনা উদঘাটনের সঙ্গে সঙ্গে মামলা দায়ের এবং মানব পাচারে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হয়।

লিবিয়ায় ২৬ বাংলাদেশিকে হত্যার ঘটনা তদন্তে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে এখন পর্যন্ত ৫২ জন ‘মানবপাচারকারীকে’ গ্রেপ্তার করেছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী।

লিবিয়ার এই হৃদয়বিদারক ঘটনাসহ এ জাতীয় ঘটনা বন্ধ করতে হলে আমাদেরকে এ বিষয়ে  শরীয়ত কর্তৃক বিভিন্ন নীতিমালা ও সরকারের বিভিন্ন নিয়ম অনুসরণ করতে হবে। বস্তুত যে সব দুর্ঘনার খবর আসে তার অধিকাং এসব নীতি না মানার কুফল। বিদেশে জনশক্তি রফতানির বিষয়ে শরীয়তের দিকনির্দেশনা হল  –

১. কোনো প্রকার মিথ্যা বা প্রতারণার আশ্রয় নিতে পারবে না। যেমন এক কাজের ভিসা দিয়ে অন্য কাজের কথা বলা। ভিজিট ভিসা দিয়ে চাকরি ভিসার কথা বলা ইত্যাদি।

২. যাকে বিদেশে পাঠাবে তাকে যে কাজ যে বতন ভাতা ও সুযোগ সুবিধার প্রতিশ্রুতি দিবে তা যথাযথভাবে দিতে হবে। অর্থাৎ, যা দিতে পারবে সে প্রতিশ্রুতিই প্রদান করবে। যে সব সেবা দিতে পারবে না সেগুলোর প্রতিশ্রুতি দিবে না।

৩.  যে দেশ থেকে লোক পাঠাবে এবং যে পাঠাবে উভয় দেশের জনশক্তি আমদানি-রফতানি সংক্রান্ত যাবতীয় নীতিমালা ও বিধিনিষেধ মেনে চলতে হবে।

৪. যে পরিমাণ টাকায় বিদেশে নেওয়ার চুক্তি হবে তাই নিতে অতিরিক্ত টাকা দাবি করবে না এবং অন্যায়ভাবে অনেক কমদামি ভিসা অধিক মূল্যে বিক্রি করবে না।

পাশপাশি অভিবাসন প্রত্যাশীদেরকে আরও সংযম ও অল্পেতুষ্টির পরিচয় দিতে হবে। আমাদেরকে আল্লাহর উপর ভরসা করতে হবে এবং জীবিকার জন্যে মধ্যপন্থায় চেষ্টা করতে হবে। অধিক মুনাফার জন্যে নিজের জীবনকে শংকায় ফেলে দেওয়া বিবেকবুদ্ধির যেমন খেলাফ, তেমনি শরীয়তেরও খেলাফ।

 

পূর্ববর্তি সংবাদকী রয়েছে বোল্টনের বইয়ে, কেন এর প্রকাশ ঠেকাতে চান ট্রাম্প
পরবর্তি সংবাদডিয়ার ডিপ্রেশন, তোমাকে স্বাগতম