করোনাকালে আত্মোপলব্ধি: ‘শোবিজ’ ছেড়ে দ্বীনের পথে দুই নারী

ওমর দামির।।

অদৃশ্য, ক্ষুদ্র এক ভাইরাস করোনা। এ থেকে রক্ষা পেতে তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে ঘরবন্দী দেশের মানুষ।পরিস্থিতি বিবেচনায় দীর্ঘ হচ্ছে এ ঘরবন্দী জীবনের মেয়াদ। এতোদিনের কর্মব্যস্ত মানুষেরা বিরক্ত এতো লম্বা ছুটিতে। এই কর্মহীন অলসকাল নিয়ে অভিযোগের শেষ নেই। তবে অভিযোগের বিপরীতে কেউ কেউ বলছেন, করোনাকালের দীর্ঘ লকডাউন তার জীবনের বসন্তকাল, স্বেচ্ছাচারিতা ছেড়ে ধর্মের পথে ফেরার সুবর্ণ সুযোগ। রবের দরবারে সেজদাবনত হয়ে দু’ফোটা প্রশান্তির অশ্রু ফেলার সেরা সময়। গুণাহের জীবন ছেড়ে আপন রবেতে ডোবার মোক্ষম সময় হিসেবে দেখেছেন অনেকেই করোনাকালের লম্বা ছুটিকে।এছাড়া করোনাকালে মানুষের মৃত্যু, মৃত্যু পরবর্তী অমানবিক ঘটনাপ্রবাহ ধাক্কা দিয়েছে অনেক মানুষের মতো শোবিজ জগতের তারকাদেরও।

সম্প্রতি শোবিজ জগত ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন দেশের শোবিজ জগতের দুই নারী অভিনেত্রী। করোনাকালে কুরআন হাদিসে নিমগ্নতা ও বিভিন্ন অমানবিক ঘটনা তাদের শোবিজ জগত ছাড়তে উদ্বুদ্ধ করেছে বলে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে জানিয়েছেন তারা নিজেরাই।

এছাড়া তারা জানিয়েছেন, সে জগতকে রঙিন আলো ঝলমলে মনে হলেও ধর্মের পথে ফিরে যে প্রশান্তি পেয়েছেন, তার ছিঁটেফোটা মেলেনি সেই জগতে। ধর্মের পথে ফিরতে তাদের কেউ বাধ্যও করেনি। করোনাকালের অমানবিকতা পাল্টে দিয়েছে তাদের বিবেচনাবোধ, খুলে দিয়েছে আত্মপলোদ্ধির দুয়ার।

সদ্য শোবিজ জগতকে গুডবাই জানানো অভিনেত্রীদের একজন মিডিয়াকে বলেছেন, ‘গেল তিন মাস কোরআন, হাদিস শিখেছি। ইসলামের আলোকে চলে মনে বেশ শান্তি পেয়েছি, যা আগে কখনই পাইনি।’

আরেকজন মিডিয়াকে বলেছেন, বর্তমানে প্রতিনিয়ত অহরহ মৃত্যুর খবরগুলো যেভাবে শুনছি আগে সেভাবে শোনা যেতো না, শুনলেও নাড়া দিত না। বাবাকে হারালাম, চোখের সামনে কাছের মানুষগুলো ছেড়ে চলে যাচ্ছে। এগুলোর কারণে রিয়ালাইজেশনগুলো এসেছে। আমি একজন মুসলিম। মুসলিম হিসেবে ধর্মীয় বিষয়গুলো যতোই জানার চেষ্টা করছি ততই ধর্ম বিষয়ক জ্ঞান বাড়ছে। এতে করে অনেক কিছুতে বিধিনিষেধ চলে আসছে। জীবনে সময় এতো স্বল্প অনুভব করছি যে মনে হচ্ছে দিনরাত ৪৮ ঘণ্টা হলে ভালো হতো। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করছি, নফল নামাজ পড়ছি, কোরআন হাদিস পড়ছি। অনেককিছু থেকে পিছিয়ে ছিলাম। সবকিছু আমাকে শিখতে হচ্ছে। এসব জানতে শিখতে কখন যে সময় চলে যাচ্ছে নিজেও বুঝতে পারছি না।

তিনি বলেন, দু মিনিট পরে আমি বাঁচবো কিনা জানি না। মৃত্যুর পরে অনন্ত কালের জন্য আমি কি সঞ্চয় করলাম? এ সবকিছু চিন্তাভাবনা মিলিয়ে আমি আর মিডিয়ার কাজে ফিরতে চাইছি না।

আত্মপলোদ্ধি থেকে শোবিজের অন্ধকার জগত ছেড়ে দ্বীনের শীতল ছায়ায় আশ্রয় নেওয়া দেশের এই দুই নারীর পরিবর্তনকে সাধুবাদ জানিয়ে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট দিতে দেখা গেছে অনেককে। আবার নিন্দার তির ছুড়েছেন কিছু মানুষ। নিন্দুকের এই নিন্দা তোয়াক্কা করছেন না সদ্য দ্বীনের পথে ফিরে আসা এই দুই নারী। তাই এমন নিন্দুকদের ব্যাপারে তাদের একজন বলেছেন, ‘শোবিজ জগত ছেড়ে দেওয়ার কারণে কেউ আমাকে ভণ্ড বলতে পারেন, খারাপ বলতে পারেন। তাতে আমার কিছু যায় আসে না। আমার রিয়ালাইজেশনগুলো কেমন সেটা একমাত্র আল্লাহই ভালো জানেন। মানুষ মাত্রই পরিবর্তনশীল। আমার মধ্যেও সবকিছু নিয়ে পরিবর্তন এসেছে। ধর্ম নিয়ে সারাক্ষণ চর্চা করে অন্যরকম এক শান্তি পাচ্ছি।’

দেশের মানুষকে বরণীয় আলেমরা যেভাবে এই সময়ে কুরআন তেলাওয়াত, তালিম ও ধর্মীয় জ্ঞান শিক্ষায় ব্যয় করতে বলেছেন তারই প্রতিফলন দেখা গেছে এই দুই নারীর জীবনে। শত অপ্রীতিকর ঘটনার ভিড়ে তাদের মতো সবার জীবনেই ভাল কিছুর রেখাপাত করে যাক করোনাকাল, আল্লাহ তায়ালার দরবারে এই প্রত্যাশা।