ইসলাম টাইমস ডেস্ক: জর্জ ফ্লয়ড নামের এক নিরস্ত্র কৃষ্ণাঙ্গের মাথা শ্বেতাঙ্গ এক পুলিশ অফিসার কর্তৃক মাটিতে চেপে ধরার ভিডিও, যাতে প্রায় নয় মিনিট ধরে নিশ্বাস নেওয়ার চেষ্টা করে অবশেষে নির্মমভাবে মৃত্যু হয় লোকটির, অনেক ফিলিস্তিনী এবং ইস
রাইলী দখলবিরোধী কর্মীদের নাড়া দিয়েছে।
গত মে মাসের শেষ দিকে ‘আমি নি:শ্বাস নিতে পারছি না’ ‘তারা আমাকে মেরে ফেলছে’ ইত্যাদি ক্যাপশন সম্বলিত জর্জ ফ্লয়ডের হত্যার ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ হওয়ার পর থেকে ইসরাইলী বিভিন্ন সেনাদের বিভিন্ন ছবিও প্রকাশ পাচ্ছে যাতে দেখা যাচ্ছে পশ্চিত তীরে এবং অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় তারা নিরস্ত্র ফিলিস্তিনীদের উপর জর্জ ফ্লয়ডের মত একই কায়দায় নির্যাতন চালাচ্ছে।
অবশ্য ইসরাইলী দখলদার বাহিনী এখন নিজেদের এধরণের কায়দায় নির্যতন করার কথা অস্বীকার করতে চাইছে। একের পর এক বিবৃতি দিচ্ছে কী ঘটেছে। এবং এ মর্মেও বিবৃতি দিচ্ছে যে তাদের সৈনিকরা এধরণের ঘাড়ে হাঁটু চাপা দেওয়ার কৌশলে অভ্যস্ত নন।
কিন্তু গত মার্চের বিভিন্ন ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, তারা আল আকসা চত্বরে নিরস্ত্র ফিলিস্তিনীদের উপর একই কায়দায় নির্যাতন চালিয়েছে।
এই সব নিষ্ঠুর নারকীয় চিত্রগুলো অবশেষে এই অভিযোগকেই শক্তিশালী করছে যে, আমেরিকা তার পুলিশ সদস্যদেরকে ইসরাইলে পাঠিয়ে থাকে ইসরাইলের পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী থেকে প্রশিক্ষণ নেওয়ার জন্য। নব্বইয়ের দশক থেকে শত শত এফবিআই, সিআইএ, এবং আইসিই কর্মকর্তাকে ইসরাইল পাঠানো হয়েছে অথবা সেসব প্রগ্রামে অংশ গ্রহণ করানো হয়েছে যা ইসরাইলি লবি সংস্থাগুলোর মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনেক বড় বড় মানবাধিকার সংস্থাগুলো আমেরিকার আদান প্রদানমূলক এ আয়োজনের নিন্দা করেছে। তারা সতর্ক করছেন এই বলে যে আমেরিকায় ইসরাইলি পুলিশের কৌশলগুলো পুলিশি নির্যাতন ও বর্ণবাদ আরো বাড়িয়ে তুলবে।

ইসরালি নিরাপত্তা বাহিনী খুবই অবিশ্বাস্য রকমের সংমস্যা সৃষ্টিকারী একটি প্রশিক্ষণ অংশীদার। তাদের রয়েছে মানবাধিকার লংঘনের এক লম্বা রেকর্ড। বলছিলেন প্যাট্রিক উইলকেন, যিনি অ্যামন্যাস্টি ইন্টারন্যাশনালের আমেরিকান অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক গবেষক।
মিকি রোসেন ফেল্ড, ইসরাইল পুলিশের একজন মুখপাত্র, এই সমালোচনাকে অস্বীকার করে বলেছেন, আমেরিকা ও ইসরাইলের পুলিশের আদান প্রদানমূলক এসব প্রগ্রামে কেবল আমেরিকার পুলিশকে কীভাবে হামলা প্রতিরোধ করতে হয় ও জবাব দিতে হয় তার তথ্য প্রদান করা হয়।
ডেরেক চোভিন, যিনি ফ্লয়ডের ঘাড়ে হাঁটু চেপে ধরেছিলেন, তার বিরুদ্ধে এখন হত্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। আর অপর ৩ অফিসারের বিরুদ্ধে দুস্কর্মে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে।
জানা গেছে, এ চার অফিসারই the Minneapolis Police Department (MPD) মাধ্যমে নিযুক্ত হয়েছেন, যা ২০১২সনে এফবিআই ও শিকাগোর ইসরাইলি কনসুলেট আয়োজিত প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছেন।
তাছাড়া ফাদি খাওরি, যিনি ইসরাইলের একজন সংঘালঘু অধিকার কর্মকর্তা এবং আইনবিশারদ, জানিয়েছেন, ইসরাইল পুলিশের পাঠ্যসূচী এধরণের জঘন্য কৌশল অবলম্বনে নিষেধ করে না।
আমাদের কাছে ভূরি ভূরি ডকুমেন্টারি আছে যাতে দেখা যায় ইসরাইল পুলিশ বন্দীদের ঘাড় হাঁটিু দিয়ে মাটিতে চেপে ধরেছেন। যোগ করেন খাওরি।

তিনি আরও বলেন, ইসরাইল পুলিশ শুধু দখলকৃত ফিলিস্তিনেই নয়, এই কৌশল খোদ ইসরাইলেও প্রয়োগ করে থাকে।
ফ্লয়ড হত্যার কয়েকদিন পর মুহাম্মদ আল কাযী নামে ফিলিস্তিনের একজন খোলোয়াড় তার সামাজিক মাধ্যমে কয়েকটি ছবি পোস্ট করেছেন যাতে দেখা যায়, ইসরাইলের পুলিশের ড্রেস পরিহিত কয়েকজন ফিলিস্তিনি যুবকদের ঘাড় হাঁটু দিয়ে মাটিতে চেপে ধরেছেন।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই
অনুবাদ: এনাম হাসান জুনাইদ।
















