তারিক মুজিব ।।
স্বস্তি ফিরেছে মদীনাবাসীর মাঝে। সৌদি আরবের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে মদীনাকে করোনামুক্ত ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ফলে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে শুরু করেছেন মদীনার বাসিন্দারা। মসজিদে নববীতে নামাযে উপস্থিতির ব্যাপারে বিধি নিষেধ তুলে দেওয়া হয়েছিল আরও আগেই। তবে সংক্রমণের আশঙ্কায় মুসল্লিদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি দেখা যেতো না।

সর্বশেষ গত বুধবার মদীনা শহরকে করোনামুক্ত ঘোষণা করার পর থেকে বেড়েছে জামাতে মুসল্লি উপস্থিতির সংখ্যা। হারামাইনের ফেসবুকে পেইজে প্রচারিত একাধিক ছবিতে দেখা গেছে এখন মদীনাবাসী নিঃসংশয় মসজিদে নববীতে হাযির হচ্ছেন। তবে সবাই নিজ দায়িত্বেই পারস্পরে কিছুটা দূরত্ব বজায় রাখছেন।

করোনা পরবর্তী মদীনা মুনাওয়ারার কিছু স্থিরচিত্র প্রকাশ করেছে সৌদি আরবের একাধিক সংবাদমাধ্যম। ওয়াস প্রেস নামে একটি বার্তা সংস্থার প্রচারিত ছবিতে দেখা যাচ্ছে মদীনার হোটেল এবং রেঁস্তোরাগুলোতে লোক সমাগম এবং রাস্তাঘাটে গাড়ি চলাচল বেড়েছে। শিশুরা দল বেঁধে বাগান থেকে খেজুর পাড়তে যাচ্ছে।

ওয়াস প্রেস ড. কারিম হামিদ নামে এক প্রফেসরের করোনামুক্ত মদীনায় বিচরণের অনুভূতি প্রকাশ করেছে। ড. কারিম হামিদ বলেন, রাসূলের (সা.) শহরকে বিষণ্ন, এবং মানুষগুলোকে বিমর্ষ দেখতে আমাদের একদম ভাল লাগছিল না। মদীনাবাসী সবসময় প্রাণচঞ্চল থাকতে ভালবাসে। করোনার আগে আমরা মদীনাকে এক মুহূর্তের জন্যও কখনো থমকে যেতে দেখিনি। সারাবিশ্বের মানুষের বিচরণ কেন্দ্র মদীনা।

মদীনা ভার্সিটির এই অধ্যাপক বলেন, আল্লাহর রহমতে আমরা করোনামুক্ত হয়েছি। এখন আমাদের শহরে লোক সমাগম বাড়ছে। মদীনা আবারও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে পেয়েছে। আমরা আশা এবং দোয়া করি বিশ্ববাসী শিগগিরই করোনামুক্ত হয়ে মসজিদে নববী যিয়ারত করতে আসবে।

মদীনার রাস্তাঘাটে এখন চলতে ফিরতে বিভিন্ন দোয়া সম্বলিত বিলবোর্ড দেখা যায়। এগুলো আগেও ছিল। তবে এখন পরিমাণ অনেক বেড়েছে বলে জানিয়েছে শারকে আওসাত নামে মদীনা ভিত্তিক আরেকটি সংবাদ মাধ্যম।
শারকে আওসাতের খবরে বলা হয়, মদীনা মুনাওয়ারায় করোনা সংক্রমণ শুরুর দিকে ভয়াবহ পর্যায়ের ছিল। তবে আল্লাহর রহমতে এখানের বাসিন্দারা খুব দ্রুতই মহামারী পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেয়েছে।

শারকে আওসাত সূত্রে জানা যায়, মদীনায় করোনা আক্রান্তদের সেবা প্রদানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে ‘উহুদ হসপিটাল’টি। ১০ হাজারের বেশি করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি এই হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করেছে। তবে বর্তমানে এই হাসপাতাল পুরোপুরি করোনামুক্ত। সবাই সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি চলে গেছে।
















