কুরবানী নিয়ে অপপ্রচার: জবাবে যা বলছেন ইসলামী চিন্তাবিদরা

নুরুদ্দীন তাসলিম।।

সামনে ঈদুল আযহা। এবার করোনা পরিস্থিতিতে সংক্রমণের কারণে ঈদুল আযহায় স্বাস্থ্যবিধি সুরক্ষার বিষয়টিকে প্রধান্য দিয়ে বেশ কিছু নির্দেশনাসহ পশুর হাট বসানোর কথা জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন সমবায় মন্ত্রী তাজুল ইসলাম। এছাড়াও ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ১৪টি পশু হাট কমিয়ে ৪টি হাট বসানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এসবের পরেও সংক্রমণের দোহাই দিয়ে কুরবানীর পশুর হাট বন্ধের দাবি জানাচ্ছেন কেউ কেউ। কোন কোন টিভি টকশোতে আবার পরিস্থিতি বিবেচনায় এবার কুরবানীর কোন ‘যৌক্তিকতা নেই’ বলেও কথা বলতে শোনা গেছে। অথচ ঈদুল আযহা আল্লাহ তায়ালা নির্ধারিত মুুমিনের দুই আনন্দের দিনের একটি। শরীয়তের বিধান অনুযায়ী আবার কারো কারো উপর কুরবানী ওয়াজিব। মুসলিম প্রধান দেশে ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ বিধান নিয়ে কথিত সুশীলদের এমন বেফাঁস মন্তব্যে বরাবরের মতো এবারো অবাক দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমান।

টিভি টকশোতে কুরবানী বিষয়ে এমন মন্তব্যকারীর জ্ঞানের অপ্রতুলতা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বসুন্ধরার শায়খ যাকারিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক মুফতী মিজানুর রহমান সাঈদ।

মুফতী মিজানুর রহমান সাঈদ আরো বলেছেন, রাসূল সাঃ মাদানী জীবনের ১০ বছরে নিয়মিত কুরবানী করেছেন। রাসূল সাঃ-এর ধারাবাহিক আমল হিসেবে ঈদুল আযহায় কুরবানী করা ওয়াজিব। পরিস্থিতির দোহাই দিয়ে কুরবানীর কোন ‘যৌক্তিকতা নেই’ এমন মন্তব্যের কোন সুযোগ নেই। এছাড়া এমন মন্তব্যকে অবান্তর বলছেন তিনি।

বিগত বছরগুলোতে কুরবানীর সময়ে পশুর হাটে গিয়ে পরিবারের সবাই মিলে পশু কেনা এক রকম রেওয়াজ ও ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছিল, এবার তা পরিহার করে পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ কেউ একজন গিয়ে পশু কিনে নিয়ে আসতে পারেন বলছেন মুফতি মিজানুর রহমান সাঈদ।

বিগত বছগুলোতে ঈদের আগের রাতে বাজারগুলোতে পশু কেনার হিড়িক পড়তো। এবার তা না করে আগেই পশু কেনার কাজ সম্পন্ন করা যেতে পারে, এমন মত দিচ্ছেন এই ইসলামী চিন্তাবিদ।

এদিকে মালিবাগ জামিয়ার সিনিয়র মুহাদ্দিস মাওলানা আবু সাবের মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বলছেন, কুরবানীর মতো মহান ইবাদতসহ অন্য যেকোন ইবাদত পালনে মুমিনের কোন আপত্তি থাকে না। এছাড়া লকডাউনের দীর্ঘ সময়ে ঘরবন্দী থাকার ফলে শিশু-কিশোর, শিক্ষার্থীসহ দেশের এক তৃতীয় মানুষের জীবনে বিষণ্ণতা বিরাজ করছে। এমন সময় কুরবানী সবার জীবনের বিষণ্ণতা ও আড়ষ্ঠতা দূর করতে সহায়ক হবে।

মালিবাগের সিনিয়র মুহাদ্দিস মাওলানা আবু সাবের মুহাম্মদ আবদুল্লাহর ভাষায়, কুরবানীর সাথে দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম বাংলাদেশের সভ্যতা, সংস্কৃতি ও আবেগ জড়িত। এছাড়াও এই কুরবানীর সাথে দেশের খামারীসহ লক্ষ লক্ষ গরিবের জীবন-যাপনের ব্যাপারটি সম্পৃক্ত। তাই কুরবানীর হাট কমিয়ে আনলে রাষ্ট্র অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে বলছেন তিনি।

মাওলানা আবু সাবের মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আরো বলছেন, মিডিয়ায় কুরবানীর হাট ও কুরবানী বন্ধের আওয়াজ তোলা শ্রেণীটি যে শুধু পরিস্থিতির কারণে এবার এসব বলছেন ব্যাপারটা এমন নয়। এর আগে পরিস্থিতি ভাল থাকা অবস্থায়ও তারা বিভিন্ন সময়ে কুরবানী বন্ধের আওয়াজ তুলতো। তবে মজার বিষয় হল, এদের এসব কথা সবসময় মিডিয়ায় ঘুরপাক খায়। দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষের কাছে তাদের কথা কখনো মূল্যায়িত হয় না।

শুধু কুরবানীর বাজার নয়, নিত্য-প্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারগুলোতে প্রতিদিন মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে কিন্তু সেখান থেকে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা এখনো সামনে আসেনি, তাই কুরবানীর হাট নিয়ে এমন আতঙ্ক ছড়ানোর কোন অর্থ হয় না বলছেন মালিবাগ জামিয়ার এ সিনিয়র মুহাদ্দিস।

এছাড়া তিনি বলছেন, করোনাকালে জনগণকে সুরক্ষিত রাখতে বাজারের সংখ্যা বাড়াতে হবে, কমালে এতে স্বাস্থ্য সুরক্ষার পরিবর্তে ঝূুঁকি বাড়ার সম্ভবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

করোনা মহামারির বিপদ থেকে রক্ষা পেতে অন্যতম ভূমিকা পালন করতে পারে আল্লাহর নবী হযরত ইবরাহীম ও ইসমাঈল আঃ-এর প্রভুপ্রেমে আত্মত্যাগের অনুসরণ । এই ‘ঈদুল আযহায়’ তাই আল্লাহ তায়ালার নির্ধারিত ওয়াজিব বিধান নিয়ে বেফাঁস মন্তব্য নয়, শতভাগ স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে তা পালনে একে অপরকে সহযোগিতা করাই একান্ত কাম্য বলে মত দিয়েছেন ইসলামী চিন্তাবিদরা।

পূর্ববর্তি সংবাদঈদযাত্রায় বাড়ছে না ট্রেনের সংখ্যা, বাসের বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি
পরবর্তি সংবাদরাজধানীর বেশকিছু এলাকায় মঙ্গলবার ৬ ঘন্টা বন্ধ থাকবে গ্যাস সরবরাহ