মুহাম্মাদ তাহের বিন মাহমুদ।।
আরবের প্রসিদ্ধ আলেম, সাহিত্যিক, লেখক, গবেষক, দায়ী, বিশ্বব্যাপী সাড়াজাগানো ‘লা তাহযান’ গ্রন্থের রচিয়তা, শায়খ আয়েয আল কারনী (ফাক্কাল্লাহু আসরাহু) ২০১১ সালে দারুল দেওবন্দ সফর করেন। সেখানে দারুল উলূম দেওবন্দের কার্যাবলী দেখে নিজের অভিব্যক্তি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, ‘আমি যেহেতু দারুল উলূম দেওবন্দের বিভিন্ন কীর্তি ও অবদানের কথা, সেখানকার উলামায়ে কেরামের লিখিত কিতাবাদী, দ্বীনের জন্য তাদের কুরবানী ও আত্মত্যাগের কাহিনী নিয়মিত পড়ি। তাই সব সময় এ প্রতিষ্ঠানটিকে একটু কাছ থেকে দেখা ও জানার তীব্র আগ্রহ ও আকাঙ্ক্ষা লালন করতাম। মনে মনে খুব ভাবতাম, কবে আমার এ আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হবে। সত্যি আমি দারুল উলুম দেওবন্দ সম্পর্কে অনেক কিছু পড়েছি শুনেছি ও জেনেছি। এখন তো এখানকার কোনো কোনো উলামায়ে কেরামের কিতাবাদী আমাদের ইউনিভার্সিটিগুলোতেও পড়ানো হয়।
কিন্তু আজ স্বচক্ষে আমি যা দেখলাম, আমার সে আবেগকে আমি কীভাবে প্রকাশ করবো?
আরবী কবি মুতানাব্বীর ভাষায় শুধু বলতে পারি:
واستكبر الأخبار قبل لقائه فلما التقينا صغر الخبر الخبر
তার সাক্ষাতের আগে তার সম্পর্কে শোনা কথাগুলো একটু বাড়াবড়ি বলে মনে হতো। কিন্তু যখন কাছ থেকে তাকে দেখলাম তখন অনুভুত হলো যে সে তো এর চেয়ে আরো বেশি কিছু।
আমি পৃথিবীর প্রায় ত্রিশটি দেশ সফর করেছি। কিন্তু দারুল উলূম দেওবন্দকে দেখে যে পুলক ও প্রশান্তি হৃদয়ে অনুভব করেছি তা আর কোনো কিছুকে দেখে হয়নি। আমি এখানকার আলেম ও ছাত্রদের অন্যান্য যে কোনো জায়গার তুলনায় সুন্নতের অধিক পাবন্দ ও অনুসারী পেয়েছি।
শায়খ আয়েয আল কারনী বলেন, দারুল উলূম দেওবন্দের রয়েছে একটি সোনালী ইতিহাস। হাজার হাজার উলামা, ফকীহ, মুহাদ্দীস মুবাল্লিগ এ বাগানের সৃষ্টি। আর এ উপমহাদেশে দ্বীনের হেফাজত ও রক্ষণাবেক্ষেণের পুরো দায়িত্ব তো তারাই বহন করে আসছে। প্রাচ্যের কবি আল্লামা ইকবাল আক্ষেপ কর বলেছিলেন,
وعند الناس فلسفة وفكر ولكن أين تلقين الغزالي
وجلجلة الأذان بكل حي ولكن أين صوت من بلال
আযান দেওয়ার প্রথা আছে নাই বেলালী প্রাণের সাড়া / ফালসাফা আর থাকলে কি হয় গাযযালীর ঐ শিক্ষা ছাড়া।
(আল্লামা ইকবালের মূল উর্দু কবিতাটি ছিল এই-
رہ گیا رسم اذاں روح بلالی نہ رہی
فلسفہ رہ گئی تلقین غزالی نہ رہی)
আমার দৃঢ় বিশ্বাস, যদি মরহুম ইকবাল আজ জীবিত থাকতেন এবং দারুল উলূম দেওবন্দ ও এখানকার ছাত্র-শিক্ষকদের দেখতেন তাহলে নিঃসঙ্কোচ বলে উঠতেন, এখানে দেখি বিলালের রুহানিয়ত ও গাযালীর হৃদায়ানুভূতি বিদ্যমান।
শায়খ আয়েয আল কারনী বলেন, আল্লাহকে সাক্ষী রেখে বলছি, যদি আমাকে বলা হয়, আপনি আলিশান অট্টালিকায় রাজা, বাদশা, মন্ত্রী মিনিষ্টার সাথে থাকতে চান নাকি মাটির চাটাইয়ে এই জীর্ণশীর্ণ আলেম ও তালিবে ইলমদের সাথে? তাহলে আমি অবশ্যই এই আলেম ও তালিবে ইলমদের সহবস্থানই বেছে নিব।
হে দারুল উলূমের ভাইয়েরা, মনে রাখুন, এই হিন্দুস্তানে আপনারা একা নন। নিশ্চয় আপনাদের সাথে রয়েছে আল্লাহ সুবহানু তাআলার নুসরাত। হাজার হাজার মুসলিম আপনাদের খায়ের ও কল্যাণের দুআ করে যাচ্ছেন।
সূত্র: দারুল উলূম দেওবন্দ কি জামে ও মুখতাসার তারিখ
















