সাংবাদিক যায়দি প্রেসিডেন্ট বুশকে আবারও জুতা নিক্ষেপ করতে চান

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: আজ থেকে আরো ১৭ বছর আগে আমেরিকা বাগদাদে হামলা করেছিল। বাগদাদের উপর বোমা হামলা করে আমেরিকা প্রায় দেড় লক্ষাধিক ইরাকের নিরীহ নাগরিককে হত্যা করেছিল। কোটি কোটি টাকার সম্পদ বিনষ্ট করেছিল যার প্রভাব পড়েছিল গোটা দেশ জাতি এবং কোটি কোটি পরিবারের উপর।

একথা দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট যে এই হামলা ছিল আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লংঘন এবং তখন বিশ্বজুড়ে এই হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছিল। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ৩০ লক্ষ লোক রাস্তায় নেমে এসেছিল আমেরিকার এই যুদ্ধের বিরোধিতা করার জন্য। ইরাক এবং ইরাকের জনগণ ছিল একেবারেই নিরীহ। তারা আমেরিকার জন্য মোটেই হুমকি ছিল না। তখনকার ইরাকী  সরকারের কোন ইচ্ছা ছিল না আমেরিকার সাথে যুদ্ধ করার।

এটি ছিল আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের চাপিয়ে দেওয়া একটি যুদ্ধ। বুশ তখন বলেছিল, যদি সে  ইরাকে প্রবেশ করতো তাহলে ইরাকের জনগণ তাকে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করত। বুশের  এই কথা তখন প্রসিদ্ধ হয়ে গিয়েছিল আমেরিকার তল্পিবাহী মিডিয়ার কল্যাণে। কিন্তু ২০০৮ সনে তাদের এই কথা ভুল প্রমাণিত করে দিলেন একজন সাংবাদিক, যিনি প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশকে এক সাংবাদিক সম্মেলনে জুতা নিক্ষেপ করে একথা পরিষ্কার বুঝিয়ে দিলেন, ইরাকের সাধারণ জনগণ আমেরিকার দখলদারি  কখনো মেনে না।

তখন সাংবাদিক সম্মেলনে তৎকালীন ইরাকের প্রেসিডেন্ট নুরি আল-মালিকির উপস্থিতিতে সাংবাদিক যায়দি জর্জ বুশকে জুতা নিক্ষেপ করলেন এবং বললেন, এটি ইরাকের জনগণের পক্ষ থেকে তোকে ‍চুম্বন, হে কুকুর!  এটি তোকে দেওয়া হলো ইরাকের বিধবা এতিম এবং সে সকল লোকের পক্ষ থেকেই যারা ইরাকে নিহত হয়েছিল

এই ভিডিও তখন সারা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। কিন্তু তারপরও সাংবাদিক যায়দিকে ৩ মাস কারা বরণ করতে হয়েছিল। কারাগারে তাকে তাকে নির্যাতন করেছিল নিরাপত্তা বাহিনি।

যায়দি বলেন, যখন আমি আমার বাথরুম পুনরায় বানালাম আমি মেপে দেখলাম এটা আমার জেলখানার প্রকোষ্ঠের চেয়েও  বড়। আমার সেলে আমি কোনো রকম থাকতাম। সেখানে আমি হাতও বাড়াতে পারতাম না।

কেন তিনি এমন করলেন এর জবাবে যায়দি বলেন, আমি কসম খেয়েছিলাম যদি আমি কখনো বুশকে দেখি তাহলে তাকে জুতা পেটা করব। এবং বলব, ইরাকি লোকজন তোকে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করার দাবি মিথ্যা।

কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করে যায়দি সাংবাদিকতা ছেড়ে দেন এবং ইরাক যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্যে মানবিক সহায়তায় কাজ করেন। যুদ্ধের যারা এতীম হয়েছেন এবং বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের সহযোগিতা করাই এখন তার কাজ। এখন তিনি শুধু একজন দর্শক কিংবা শ্রোতা নন, সাবেক এই সাংবাদিক নিজকে এখন ভুক্তভোগী গণ্য করেন। তিনি মনে করেন, যারা তার মত তাদের জন্য তার অনেক কিছু করার আছে।

যায়দি চান, মানুষ যেন তার অন্যায়ের প্রতিবাদ ভুলে না যায়। ‘আমি আশা করি, বিশ্বের সব মানুষ অন্যায়ের বিরুদ্ধে সব সময় সোচ্চার থাকবেন। আমি যদি এখনও যেতে পারতাম, তাহলে আবারও বুশকে জুতা নিক্ষেপ করতাম। আমার স্বপ্ন, আমি তাকে এবং যারা ইরাকে হামলা করেছিল তাদেরকে একদিন অবশ্যই কারাগারে দেখব।’ বলেন যায়দি।

সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর, অনুবাদ: এনাম হাসান জুনাইদ

 

পূর্ববর্তি সংবাদকালো খেজাব ব্যবহার করার শরয়ী বিধান কী
পরবর্তি সংবাদকুমিল্লায় প্রাইভেটকার খাদে পড়ে তিনজন নিহত