আল্লামা আহমদ শফী-বাবুনগরীর যৌথ ভিডিও বার্তা: ঐক্য-সৌহার্দ্যের সাথে কাজের অঙ্গীকার

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: আল্লামা আহমদ শফী ও জুনায়েদ বাবুনগরী এক যৌথ ভিডিও বার্তায় ঐক্য ও সৌহার্দ্যের সাথে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর ব্যাপারে ভাইরাল হওয়া একটি ফোনালাপ নিয়ে দেশজুড়ে গুঞ্জন শুরু হওয়ার পর আল্লামা আহমদ শফী ও জুনায়েদ বাবুনগরী এক যৌথ ভিডিও বার্তায় এই অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

হাটহাজারী মাদরাসায় আল্লামা আহমদ শফীর উপস্থিতিতে সৌহাদ্য ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে জুনায়েদ বাবুনগরী ও আল্লামা আহমদ শফী পুত্র আনাস মাদানীর মাঝে সমঝোতা ও ভুল বোঝাবুঝির নিরসন হয়েছে। ভাইরাল হওয়া ফোনালাপ নিয়ে দেশজুড়ে গুঞ্জনের পর এই সৌহাদ্য ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের পর হেফাজতে ইসলাম নিয়ে কৌতূহলী জনতা, ছাত্র ও শিক্ষকদের মাঝে স্বস্তি বয়ে গেছে।

মঙ্গলবার (৮ জুলাই) বিকেলে হাটহাজারী মাদ্রাসায় এক বৈঠকে আল্লামা আহমদ শফী ও জুনায়েদ বাবুনগরী  যৌথ বার্তায় এই অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

আল্লামা আহমদ শফীর উপস্থিতিতে ভিডিও বার্তায় জুনায়েদ বাবুনগরী মাদরাসার শৃঙ্খলা রক্ষার্থে এই ভুল বোঝাবুঝির নিরসনকে অবশ্যক উল্লেখ করে বলেছেন, হুজুরের পুত্র আনাস মাদানী আমার ছোট ভাইয়ের মতো। আমরা ‘এক বাপের’ দুই ছেলের মতো। আমাদের মাঝে কোন দূরত্ব নাই। কিছু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে মাত্র। ঘরের  ছেলেদের মাঝে ভুল বোঝাবুঝি হলে যেমন সবাই বসে সেটা সমাধান করে। আমরাও বসে ভুল বুঝাবোঝি সমাধান করে নেব। আমাদের মুরুব্বীরা সমাধান করে দেবেন।

ভিডিও বার্তায় জুনায়েত বাবুনগরী আরো বলেন, হেফাজত আমির সর্বজন শ্রদ্ধেয়। আমাদের জন্য নেয়ামতে উজমা। আমাদের মাথার ছায়া, মুকুটহীন সম্রাট। আমরা যারা হুজুরের মনে কষ্ট দেব তারা আল্লাহর ওলির সাথে যুদ্ধ ঘোষণা করার মতো কাজে শামির হবো। এছাড়া তিনি ভিডিও বার্তায় আনাস মাদানীকে নিয়ে বিরুপ মন্তব্য না করার অনুরোধ জানিয়েছেন।

জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, দু:খের বিষয় আমাদের নিয়ে দৈনিক পত্রিকা, সোশ্যাল মিডিয়া, ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া এবং ফেসবুক পেজে বিরুপ মন্তব্য ও লেখালেখি করা হচ্ছে। এতে আমাদের ভুল বুঝাবুঝি ও দুরত্ব আরও বাড়ছে। তাই আপনার যারা ইসলাম, আলেম-ওলামা ও দ্বীনকে ভালবাসেন তারা এ ধরণের বিরুপ মন্তব্য বন্ধ করবেন। দুরে থাকবেন। এটাই আমার অনুরোধ।

বাবুনগরী আরো বলেন, হাটহাজারী মাদরাসা সকলের মাদরাসা। দ্বীনকে রক্ষার জন্য আমাদের মুরব্বীরা খেয়ে না খেয়ে এই মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেছেন। তাই আসুন আমরা সবাই হাটহাজারী মাদ্রাসার হযরতের জন্য ভালবাসা-মহব্বতের অন্তর খুলে দেই। সাথে সাথে আমাদের কৃতকর্মের জন্য আল্লাহর নিকট তওবা করি। আল্লাহ আমাদের মাফ করে দিন।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে হেফাজত আমিরের অসুস্থতাকে ঘিরে হাটহাজারী মাদ্রাসার মোহতামীম নিয়োগ ও হেফাজতে আমিরের পদাসীন হওয়ার গুঞ্জন নিয়ে ভুল বুঝাবুঝি সৃষ্টি হয় সংগঠনটির মহাসচিব জুনায়েদ বাবুনগরীর সাথে। এ নিয়ে মজলিশে শুরার বৈঠক ডেকে হাটাহাজারী মাদ্রাসার সহকারী পরিচালক পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় জুনায়েদ বাবুনগরীকে। এ পদে আসীন করা হয় মাদ্রাসার সিনিয়র মহাদ্দিস মাওলানা শেখ আহমদকে। এরপর হেফাজতে ইসলাম ও দেশের আলেম-ওলামাদের মধ্যে বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে হেফাজত ইসলামীর মহাসচিব পদ থেকেও বাবুনগরীকে সরিয়ে দেওয়ার গুঞ্জন উঠে।

এ নিয়ে কোন রকম মন্তব্য ও গণমাধ্যমে কথা বলতে রাজী হননি আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী। তবে গতকাল মঙ্গলবার (৮ জুলাই) বিকেলে হাটহাজারী মাদ্রাসায় এক বৈঠকের পর আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী এই বিবৃতি দেন। হেফাজতের দায়িত্বশীল নেতাকর্মীরা জানান, বৈঠকে সকলে সমঝোতায় উপনীত হয়েছেন।

পূর্ববর্তি সংবাদদুর্নীতির অভিযোগে স্বাস্থ্য অধিদফতরের কালো তালিকায় ১৪ ঠিকাদার
পরবর্তি সংবাদবিদেশ থেকে আসা ‘লোহার কাঁচামালে’ তাজা গ্রেনেড!