আনন্দবাজারের ‘ভিত্তিহীন’ প্রতিবেদনে কড়া প্রতিবাদ বিজিবির পক্ষ থেকে

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: ভারতের কলকাতার সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকায় ‘‘অরক্ষিত জমিতে পা পড়ছে বাংলাদেশির’’ শিরোনামে প্রকাশিত ভিত্তিহীন সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বিজিবি বলে, প্রকাশিত সংবাদটি ভিত্তিহীন, বানোয়াট এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। পত্রিকায় ঘটনাস্থল রানীনগর সীমান্তের কথা বলা হয়েছে কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সেখানে কোনো ঘটনা ঘটেনি। উল্লেখিত এলাকাটি রাজশাহী বিজিবির দায়িত্বপূর্ণ এলাকা চারঘাট বিওপি থেকে শুরু করে তালাইমারি বিওপি পর্যন্ত বিস্তৃত এবং এখানে পদ্মা নদী বরাবর শূন্য লাইন অতিক্রম করেছে। এর দুই পাশে বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল।

জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে আন্দবাজারের সংবাদ উল্লেখ করে বলা হয়, সংবাদে বলা হয় সীমান্তের রানীনগর ১ ও ২ ব্লক এবং জলঙ্গি জুড়ে প্রায় ২২ হাজার একর অরক্ষিত জমিতে বাংলাদেশিরা অবাধে চাষাবাদ করছে। এই প্রসঙ্গে দেখা যায় বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। ভারতের অভ্যন্তরে গিয়ে চাষাবাদ তো দূরের কথা, বর্তমানে আন্তর্জাতিক সীমারেখা বরাবর চাষাবাদ করাই অসম্ভব একটি ব্যাপার। সেখানে প্রতিনিয়ত শূন্য লাইন বরাবর বিজিবি সদস্যরা রাত দিন টহল করে সীমান্ত রক্ষা করছে।

আরো পড়ুন: ক্ষমা চেয়েও ফের বাংলাদেশ নিয়ে মিথ্যাচার ‘আনন্দ বাজারে’র প্রতিবেদনে

বিজিবি জানায়, প্রকাশিত সংবাদে আরো বলা হয় যে, দিন কয়েক আগে দুজন বাংলাদেশি সীমান্ত পেরিয়ে ভারতীয় এলাকায় চলে আসলে বিএসএফ তাদের আটক করে এবং ফলশ্রুতিতে তার মুক্তিপণ স্বরূপ রানীনগর সীমান্তের গ্রাম থেকে দুইজন গ্রামবাসীকে তুলে নিয়েছে বাংলাদেশি দুষ্কৃতিকারীরা। কিন্তু বাস্তবে আসল ঘটনা সম্পূর্ণ উল্টো এবং প্রকাশিত সংবাদটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

বিবৃতিতে বলা হয়, মূলত গত ২ জুলাই জলঙ্গি সীমান্তে দুটি ঘটনা ঘটে যা পত্রিকার মূল বক্তব্যের সম্পূর্ণ বিপরীত। ২ জুলাই আনুমানিক সাড়ে ১১টায় নয়ন শেখ এবং শহিদুল শেখ নামক দু’জন জলঙ্গী নিবাসী ভারতীয় চোরাকারবারি অবৈধভাবে জলঙ্গী সীমান্ত দিয়ে আন্তর্জাতিক সীমারেখা অতিক্রম করে এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ইউসুফপুর গ্রামে মাদক ব্যবসা এবং অর্থ লেনদেনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় লোকজনের উপর চড়াও হয়।

আরো পড়ুন: অপপ্রচারের অভিযোগে নেপালে নিষিদ্ধ ভারতীয় সব টিভি চ্যানেল

আরো বলা হয়, স্থানীয়রা ব্যাপারটি সহজভাবে না নিয়ে তাদের ঘেরাও করে ফেলে। পরবর্তীতে ইউসুফপুর বিজিবি ক্যাম্প খবর প্রাপ্তি সাপেক্ষে ভারতীয় দুজনের নিরাপত্তার কথা ভেবে নিজেদের হেফাজতে তাদের  নিয়ে নেয়। এতে আরো বলা হয়, অপরপক্ষে একই দিন ১২টায় বিএসএফ টহল দল অবৈধভাবে আন্তর্জাতিক সীমারেখা অতিক্রম করে ৩০০ মিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে (পিলার ৭২/৪-এস বরাবর) প্রবেশ করে ইউসুফপুর এলাকা থেকে তিনজন নিরীহ ও নিরাপরাধ কৃষককে ধরে নিয়ে যায় যারা চর এলাকায় শুধু চাষাবাদ করে বাড়ি ফিরছিল। উভয় ঘটনার রেশ ধরে একই দিনে বিজিবি-বিএসএফ পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে ৩ জুলাই শান্তিপূর্ণভাবে দুই দেশের নাগরিক হস্তান্তর-গ্রহণের মাধ্যমে ব্যাপারটি সুষ্ঠুভাবে মীমাংসা হয়েছে।

পূর্ববর্তি সংবাদইসরাইলের পশ্চিমতীর দখলের ব্যাপারে উদ্বেগ জানিয়েছে রাশিয়া
পরবর্তি সংবাদসুনামগঞ্জে আবারও বিপৎসীমার ১৭ সেন্টিমিটার ওপরে সুরমা নদীর পানি