ইসলাম টাইমস ডেস্ক: বর্তমান বিশ্বরাজনীতিতে ’অভ্যন্তরীণ ব্যাপার’ এমন একটি শব্দ যার আড়ালে বিনা বাধায় রাষ্ট্রীয়ভাবে অনেক অন্যায় কর্ম সম্পাদন করা হয়। ’অভ্যন্তরীণ ব্যাপার’ বলে মুসলিম দেশগুলো অন্যায়ের প্রতিবাদ থেকে পিছিয়ে থাকে। ’অভ্যন্তরীণ ব্যাপার’ বলে অমুসলিম দেশগুলো নানা অমানবিক কর্ম করেও সমালোচনার উর্ধ্বে থাকতে চায়। তবে এ ক্ষেত্রে ইন্দোনেশিয়া সম্ভবত কিছুটা ব্যতিক্রম। ইন্দোনেশিয়া কোনো বেদেশী রাষ্ট্রের ভেতরের কোনো বিষয়ে নাক না গলানোর নীতি যথাযথভাবে পালন করে তবে তারা কোনো দেশের মানবতাবিরোধী কোনো অপরাধ দেখে চুপ থাকে না। বিশেষত অমানবিক আচরণ যখন মুসলমানদের সাথে হয়, তখন তারা আরও বেশী সরব হয়ে ওঠে। ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রনীতি এক্ষেত্রে অনেক প্রশংসাযোগ্য।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি২০২০ যখন দিল্লিতে গণহত্যা চলে তখন ইন্দোনেশিয়ায় নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হয় দিল্লিতে মুসলিম গণহত্যার বিষয়ে জবাব দেওয়ার জন্য। ইন্দোনেশিয়া তাদের উদ্বেগের কথা জানিয়ে দেয় ভারতকে। এর কয়েকদিন পরই জাকার্তায় ভারতীয় দূতাবাসের সামনে শুরু হয় ভয়াবহ বিক্ষোভ। ক্ষুব্ধ জনতা তখন দিল্লীর সাথে কাশ্মীর প্রসঙ্গও টেনে আনে।
সাম্প্রতিক সময়ে ইন্দোনেশিয়া সরকারের মুসলিম বিশ্বের প্রতি নেওয়া আরও বিভিন্ন পদক্ষেপগুলো অত্যন্ত প্রশংসা কুড়িয়েছে। ফিলিস্তিন, মিয়ানমার, উইঘুর মুসলিমদের অধিকার রক্ষায় ইন্দোনেশিয়া সবার আগে আওয়াজ তুলেছে।
২০১৮ সনে ইন্দোনেশিয়ার সংসদীয় ফরেন রিলেশনস কমিশন এক বিবৃতিতে সেদেশের সরকারের নিকট চীনের জিনজিয়াং প্রদেশের পূর্ব তুর্কিস্তানীয় অঞ্চল উইঘুরের সংখ্যালঘু মুসলমানদের উপর নির্যাতন ও বৈষম্যের প্রতিরোধ করে উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
ইন্দোনেশিয়ার সংসদীয় ফরেন রিলেশনস কমিশনের উপদেষ্টা সুকুমতা এ ব্যাপারে বলেন: উইঘুর মুসলিম নাগরিকদের অধিকারের লঙ্ঘন রোধে চীনের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কূটনৈতিক পরামর্শকে শক্তিশালী করার জন্য আমরা সরকারের নিকটে আহ্বান জানাচ্ছি।
এছাড়াও তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বিশেষ করে মুসলিম দেশসমূহের নিকটে উইঘুরে সংখ্যালঘু মুসলমানদের সমর্থন করার জন্য আহ্বান জানান।

২০১৭সনে যখন মিয়ানমার রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালানো হয়, তখন এই হত্যাযজ্ঞ ও সহিংস নির্যাতন বন্ধের দাবিতে ইন্দোনেশিয়া বিক্ষোভ করে। রাজধানী জাকার্তায় মিয়ানমার দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ করার চেষ্টা করলে পুলিশে সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের হাতাহাতিও হয়।
বিক্ষোভকারীরা শেষপর্যন্ত মিয়ানমারের কূটনৈতিক মিশনের সামনে সমাবেশ করে। এ সময়ে তারা মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে চলমান সহিংসতা বন্ধের দাবিতে শ্লোগান দেয়। এ ছাড়া, মিয়ানমারের মুসলমানদের সঙ্গে সংহতিও প্রকাশ করে তারা।
বিক্ষোভকারীরা ইন্দোনেশিয়া থেকে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতের বহিষ্কারের দাবি জানায়। তারা অং সান সুকির সরকারের বিরুদ্ধে শ্লোগান দেয়। এ সময়ে তারা সুকির ছবি সংবলিত পোস্টার পদদলিত করে। পোস্টারে সুকির ছবির নিচে ‘সবচেয়ে আমানবিক নারী’ কথাটি লিখে দেয়।
মুসলমান মুসলমান ভাই ভাই। পৃথিবীর কোথাও কোনো মুসলিম নির্যাতিত হলে যে কোনো মুসলিমকেই সেজন্য ব্যথিত হতে হবে-এটাই ইসলামের শিক্ষা। এই শিক্ষার দিকেই মুসলিমদের আবার ফিরে আসতে হবে। মুসলমানদের অধিকার রক্ষায় সব মুসলিম দেশকেই ইন্দোনেশিয়ার মত সরব হতে হবে।
















