৮৬ বছর পর আয়া সোফিয়ায় আজান শুনতে পেয়ে খুশিতে মেতে উঠে তুর্কিরা

ইসলাম টাইমস ডেস্ক : তুরস্কের শীর্ষ আদালত  শুক্রবার  ১৯৩৪ সালের সিদ্ধান্তকে বাতিল করে দেয়ার কয়েক মিনিটের পরেই প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান ১০ জুলাই আয়া সোফিয়াকে মসজিদ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করার জন্য আদেশ জারি করেন। এই রায় প্রকাশের পরই খুশিতে মেতে উঠে তুর্কিরা। তারা আয়া ইস্তাম্বুলের আয়া সুফিয়ার আশেপাশে আল্লাহু আকবার ধ্বনিতে মুখরিত করে তোলেন।

এরদোগান তুরস্কের জনগণকে অভিনন্দন জানিয়ে আয়া সুফিয়াকে ইবাদতের জন্য উন্মুক্ত করেন। তুর্কি আদালত জানায়, চুক্তি অনুযায়ী আয়া সোফিয়া স্থাপত্যটি অন্য কোনো পরিচয় বহন করলে তা বৈধ হবে না।

আদালত জানায়,“১৯৩৪ সালে মন্ত্রিসভার যে সিদ্ধান্ত অনুযায় মসজিদ হিসেবে এর ব্যবহার বাদ দিয়ে যাদুঘরে রুপান্তরিত করেছিল তা আইন মেনে করা হয়নি”।

আয়া সোফিয়াকে জাদুঘর থেকে মসজিদে রূপান্তর করার সিদ্ধান্ত নেয় তুর্কি সরকার। কিন্তু জাদুঘর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা বেসরকারি সংস্থা দেশটির আদালতে এ বিষয়ে মামলা করলে রায় দেওয়ার আগে ২ জুলাই শুনানিতে আদালত পক্ষগুলোর যুক্তি শুনেন।

পিটিশনে বলা হয়েছে, আয়া সুফিয়া ইস্তাম্বুল বিজেতা উসমানিয়া সুলতান দ্বিতীয় মেহমুদ- এর নিজস্ব সম্পত্তি যা ১৪৫৩ সালে ইস্তাম্বুল দখলের মাধ্যমে অর্জন করে এই ধর্মীয় স্থাপনাকে মসজিদে রুপান্তরিত করেছিলেন।

আয়া সুফিয়া বিশ্বের অন্যতম ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ ও স্বাংস্কৃতিক নিদর্শন যা ষষ্ঠ শতাব্দীতে বায়জান্টাইন সম্রাজ্যের আমলে নির্মাণ করা হয়েছিল। এটা গ্রীক অর্থোডক্স চার্চ হিসেবে ব্যবহৃত হত। পরবর্তীতে ১৪৫৩ সালে উসমানিয়া খিলাফতের সময় ইস্তাম্বুল বিজয়ের মাধ্যমে মুসলিমদের হস্তগত হয়। ১৯৩৫ সালে তুর্কি সেকুল্যার পার্টি এটিকে জাদুঘরে রূপ দেয়। তবে এটিকে পুনরায় মসজিদ হিসেবে রূপান্তরের দাবি উঠে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে।

আরো পড়ুন: ২৪ জুলাই জুমার নামাজের মাধ্যমে উদ্বোধন হবে আয়া সোফিয়া মসজিদ

আহমেত ইয়েসিভী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেক্টর সেনজিজ তোমার তুর্কি গণমাধ্যম ডেইলি সাবাহকে বলেন, “আয়া সোফিয়ার বিষয়টি তুরস্কের অভ্যন্তরীণ ও সার্বভৌমত্বের বিষয়”।

তিনি বলেন, এটি তৎকালীন মন্ত্রিসভার আদেশে জাদুঘরে পরিণত হয়েছিল আবার এখন নতুন আদেশে পুনরায় মসজিদে রূপান্তরিত হবে।

যদিও কিছু গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে স্থাপনাটিকে মুসলিম উসমানীয় উত্তরাধিকার হিসেবে বিবেচনা করে আবার মসজিদে রূপান্তরিত করার জন্য চাপ দিচ্ছিল। আবার অন্যরা বিশ্বাস করেন, ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য সাইটের অংশ হিসেবে খ্রিস্টান ও মুসলিম সংহতির প্রতীক হিসেবে একটি যাদুঘর থাকা উচিত।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, গ্রিস ও ইউনেস্কো এই রায় প্রকাশের আগে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল।

আয়া সোফিয়ার আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া নিয়ে আঙ্কারার বক্তব্য হলো, এটি একান্তই তুরস্কের আভ্যন্তরীণ বিষয়।

গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট এরদোগান বলেছিলেন যে, যারা আয়া সোফিয়া সম্পর্কে তুরস্কের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছে তারা সরাসরি তুরস্কের সার্বভৌমত্বের দিকে আঙুল তুলছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও গত সপ্তাহে একটি বিবৃতিতে তুরস্ক সরকারকে আয়া সুফিয়াকে জাদুঘর হিসেবে রাখার আহ্বান জানিয়েছিল।

তখন তুর্কি প্রেসিডেন্ট উল্লেখ করেন, তুরস্কে ৪৩৫টি গীর্জা ও সিনাগগ রয়েছে যেখানে খ্রিস্টান ও ইহুদিরা প্রার্থনা করতে পারে।

তুরস্কের প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র ইব্রাহিম কালান গতকাল বৃহস্পতিবার আনাদোলু এজেন্সিকে বলেন, নামাজের জন্য ইস্তাম্বুলের আয়া সোফিয়াকে পুনরায় খোলার ফলে এটি তার পরিচয় থেকে বঞ্চিত হবে না, বরং এটি সর্বদা বিশ্বের ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

তিনি বলেন, আমাদের প্রধান মসজিদগুলো যেমন ব্লু মসজিদ, ফাতিহ ও সুলায়মানিয়া মসজিদগুলো যেমন দর্শনার্থী এবং ইবাদতের জন্য উন্মুক্ত এটিও তেমনি থাকবে।

২০১৫ সালে, একজন আলেম ৮৫ বছরের মধ্যে প্রথমবারের জন্য আয়া সুফিয়ার ভিতরে কুরআন তেলাওয়াত করেছিলেন। পরের বছর থেকে, তুরস্কের ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ পবিত্র রমজান মাস ও মুহাম্মদ সা. এর উপর কুরআন নাজিলের বছরকে কেন্দ্র করে কুরআন তেলাওয়াত ও সম্প্রচার শুরু করে।

২০১৮ সালে এরদোগান কুরআন তিলাওয়াত করে সুলতান দ্বিতীয় মুহামেত সহ আয়া সোফিয়ার জন্য প্রাণ উৎসর্গ করা সকলের রুহের মাগফেরাতে কামনা মোনাজাত করেছিলেন।

পূর্ববর্তি সংবাদআয়া সোফিয়া মসজিদ নিয়ে শুরু হল পশ্চিমাদের গা জ্বলুনি
পরবর্তি সংবাদপিরোজপুরে ক্লিনিকে ডাক্তারের সাথে অস্ত্রোপচারে অংশ নিতেন মাছ ব্যবসায়ী