যুগে যুগে দেশ দখলের পর খৃস্টানরা অন্যদের ইবাদতখানা কী করত!

ভ্যাটিক্যানে অবস্থিত সেন্ট পিটার্স বেসিলিকা যা খৃস্টানদের সবচেয়ে বড় গীর্জা, রোমান বিভিন্ন মন্দিরের উপরেই নির্মিত হয়েছে।

 ইসলাম টাইমস ডেস্ক: গত শুক্রবার ইস্তান্বুলের বিখ্যাত মসজিদ আয়া সোফিয়া দীর্ঘ ৮০ বছর জাদুঘর হিসাবে বেদখল থাকার পর পুনরায় মসজিদ হিসাবে ব্যবহারের ঘোষণা দিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট। আর এতেই গা জ্বলুনি শুরু হয়ে গেছে ইউরোপের বিভিন্ন খ্রিষ্টান দেশের।

গত শুক্রবার তুরস্কের আদালত আয়া সোফিয়ার জাদুঘর থাকার কথা নাকচ করে দেওয়ার এক ঘণ্টা পর প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান সেটিকে মসজিদ করার ঘোষণা দেন। এরপরই শুরু হয়ে যায় পশ্চিমা দেশগুলোর নিন্দা সমালোচনা।

মসজিদ করার ঘোষণায় নিন্দা জানিয়েছে রাশিয়ার অর্থোডক্স চার্চ। রাশিয়ার পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষের পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির উপ-প্রধান ভ্লাদিমির ঝাবারভ তুরস্কের এই সিদ্ধান্তকে ‘ভুল’ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

বুলগেরিয়ার সেভেন সেন্টস চার্চও মসজিদ থেকে রুপান্তরিত চার্চ

এদিকে এই সিদ্ধান্তকে সভ্য বিশ্বে তুরস্কের উসকানি হিসেবে উল্লেখ করেছে গ্রিস। এক বিবৃতিতে গ্রিসের সংস্কৃতিমন্ত্রী লিনা মেন্ডনি বলেন, এরদোগান যে জাতীয়তাবাদ দেখালো… তা তার দেশকে ছয় শতাব্দী পিছনে নিয়ে গেল।

তবে যারা আয়া সোফিয়াকে মসজিদ হিসাবে দেখতে আপত্তি তোলেন, তাদের উদ্দেশ্যে সেটিফ ইউনিভার্সিটির পুরাতত্ত্ববিভাগের নৃতাত্ত্বিক খালিদ ইয়াকসিন বলেন, এখানে যা হয়েছে সবই স্বাভাবিক এবং দরকারি। অদরকারি কিছুই হয়নি।

’আয়া সোফিয়া তুরস্কের মূল ইতিহাসের অংশ বিশেষ। আয়া সোফিয়াকে ছাড়া না তুরস্কের কথা কল্পনা করা যায়, না ইস্তাম্বুলের কথা,’ বলেন খালিদ।

’যদিও নানা ধর্মের সাথে এর সম্পৃক্ততার কারণে এর সংবেদনশীলতা বেড়ে গেছে। কিন্তু তারপরও যদি নামাজীদের সাথেসাথে পর্যটকদেরও এখানে আসতে অনুমতি দেওয়া হয় তাহলে তো এটা অন্যরা আমাদের সাথে যা করেছে সে তুলনায় অনেক বেশী।’

মেক্সিকো সিটি মেট্রোপলিটন ক্যাথড্রেল এটা মূলত নির্মিত হয়েছে অ্যাজটেক মন্দিরের উপর।

কী বুঝাতে চাইলেন-এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি স্মিত হেসে জবাব দিলেন, ‘মানুষ জানে না, কিন্তু একটা ঐতিহাসিক সত্য কথা যে খোদ ভ্যাটিক্যানে অবস্থিত সেন্ট পিটার্স বেসিলিকা যা খৃস্টানদের সবচেয়ে বড় গীর্জা, তা কিন্তু রোমান বিভিন্ন মন্দিরের উপরেই নির্মিত হয়েছে। যখন স্পেনের খৃস্টানরা সরকারি তদন্তের নামে স্পেন থেকে মুসলমানদের বের করে দিল, তখন কিন্তু তারা কর্ডোভার সবচেয়ে বড় মসজিদটিকে গীর্জা বানিয়ে ফেলল। সেখানে আজও পর্যন্ত মুসলমানদের নামাজ পড়া নিষিদ্ধ,’ বলেন খালিদ।

’অনেক মসজিদ তো একেবারেই ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। অনেকগুলো চার্চ বানিয়ে ফেলেছে। একইভাবে স্পেনিশরা যেখানেই গিয়েছে, সেখানেই অন্যদের ইবাদতখানাকে তারা গীর্জা বানিয়েছে। আজকের যে মেক্সিকো সিটি মেট্রোপলিটন ক্যাথড্রেল এটা মূলত নির্মিত হয়েছে অ্যাজটেক মন্দিরের উপর। স্পেন মেক্সিকো জয়ের আগে  সেখানে অ্যাজটেক জাতির সাম্রাজ্য ছিল। স্পেনিশরা তাদের মন্দিরের উপর বানাল আজকের  মেক্সিকো সিটি মেট্রোপলিটন ক্যাথড্রেল,’ যোগ করেন খালেদ।

আরো পড়ুন: ৮৬ বছর পর আয়া সোফিয়ায় আজান শুনতে পেয়ে খুশিতে মেতে উঠে তুর্কিরা

’গ্রীসের থেসেলোনিকিতে অবস্থিত প্রফেট এলিজার চার্চ মূলত ছিল একটি মসজিদ। এটিকে গীর্জায় পরিণত করা হয়েছে। বুলগেরিয়ার সেভেন সেন্টস চার্চও মসজিদ থেকে রুপান্তরিত চার্চ। ক্রোয়েশিয়াতে ৩টি উসমানি আমলের মসজিদকে চার্চ বানানো হয়েছে। ভিয়েতনামে ফরাসীরা বৌদ্ধ মন্দির ধ্বংস করে সেন্ট জোসেফ ক্যাথড্রেল বানিয়েছে।’

প্রফেট এলিজার চার্চ মূলত ছিল একটি মমসজিদ।

সুতরাং দেখা যাচ্ছে, খৃস্টানদের ইতিহাসে অন্যদের ইবাদতখানাকে গীর্জা বানানোর নজির একটি দুটি নয় অনেক। শুধু তাই নয়, মসজিদ থেকে রুপান্তরিত গীর্জায় আরবী আযান দিলে গ্রেফতারও করা হয়। এই যাদের ইতিহাস, তারা কিভাবে আয়া সোফিয়ার মসজিদের গৌরব লাভ করার উপর আপত্তি তোলে?