নূরুদ্দীন আজিম ।।
আবারও আলোচনায় উঠে এলো ভারতের কেরালা রাজ্যের পদ্মনাভ স্বামী মন্দির। সম্প্রতি গত দুদিন আগে ভারতীয় সুপ্রিমকোর্টের এক রায়কে কেন্দ্র করে মন্দিরটির একটি বন্ধ কুঠুরি খুলে দেওয়ার দাবী ওঠে। যে কুঠুরিতে লক্ষ-কোটি টাকার গুপ্তধন আছে বলে মনে করা হয়। মন্দিরটির অপর কুঠুরিতে ইতিপূর্বে কোটি টাকার অলংকারসহ সিন্ধুক ভর্তি হীরা, মনি-মুক্তা ও বহু মহামূল্যবান পাথরের সন্ধান মিলেছে।
তবে একটি সূত্রে জানা গেছে, মন্দিরের এই কক্ষটি খোলার বিষয়ে আদালত এখনও কোন সিদ্ধান্ত দেয়নি। বরং সেটা মন্দির কর্তৃপক্ষের ওপর ছেড়ে দিয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকার সূত্রে জানা যায়, ষষ্ঠ শতাব্দীতে ত্রিবাঙ্কুর রাজ পরিবারের প্রতিষ্ঠিত কেরালার তিরুঅন্তরপুরমের এই মন্দিরের অভ্যন্তরে বিপুল পরিমাণ সোনাদানা ও ধনসম্পদ গচ্ছিত রাখা আছে বলে ভক্ত ও স্থানীয়দের বিশ্বাস ছিল।
কেন এই দ্বন্দ্ব:
ভারত স্বাধীন হওয়ার পূর্ব থেকেই এই মন্দির ত্রিভাঙ্কুর রাজপরিবারের অধীনে ছিলো। সূদীর্ঘ সময় তাদের অধীনে থাকায় ২০০৭ সালে তারা মন্দিরে আবদ্ধ সকল সম্পদ নিজেদের উত্তরাধিকার বলে দাবী করে।
তাদের এই দাবীর বিরুদ্ধে বহুবার আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। আদালত এক পর্যায়ে মন্দিরের কুঠুরি খোলা নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।
২০১১ সালে কেরালার হাইকোর্ট মন্দির উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি ট্রাস্ট গঠনের হুকুম জারী করে। কিন্তু ত্রিভাঙ্কুর রাজপরিবার আদালতে আপিল করলে আদালত মন্দির কক্ষে আবদ্ধ সকল সম্পদের তালিকা তৈরী করার আদেশ দেয়। আর তখনই সর্বপ্রথম এসব কুঠুরি খোলা হয়।
কুঠুরিতে যা পাওয়া গেছে :
মন্দিরে রয়েছে A-F মোট ছয়টি ভল্ট বা কুঠুরি। মালয়ালম ভাষায় এই ভল্টগুলিকে বলা হয় ‘কল্লরা’। E ও F -এ দুটি ভল্টে মন্দিরের আসবাবপত্র থাকায় তা প্রায়শই খোলা হতো। C এবং D ভল্টে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের সোনা-রূপার অলংকার রাখা ছিলো। বাকি রইলো A এবং B কক্ষ। A ভল্টটি খোলার পর সেখানে প্রায় এক লক্ষ কোটি টাকা মূল্যের গুপ্তধন পাওয়া যায়। তাতে ছিলো হিন্দুদের বিষ্ণু দেবতার সাড়ে তিন ফুট দীর্ঘ মূল্যবান হীরা খচিত একটি স্বর্ণমূর্তি। আঠারো ফিট লম্বা একটি সোনার চেইন। এছাড়াও সিন্ধুক ভর্তি হীরা, মনি-মুক্তা ও বহু মূল্যবান পাথর।
মন্দিরের B ভল্টটি খোল হয়নি আজও। এই ভল্টে অন্য সব ভল্টের তুলনায় বেশী সম্পদ আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও না খোলা পর্যন্ত সম্পদের পরিমাণ নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
কেন এই কুঠুরি খোলা হয়নি কখনও :
শত বছর মন্দিরের দায়িত্বে থাকা ত্রিভাঙ্কুর সম্প্রদায়ের এই কুঠুরি নিয়ে রয়েছে অনেক অন্ধবিশ্বাস। তারা মনে করে, কক্ষটি খোলা হলে বড় ধরণের কোন বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।
আর সুপ্রিম কোর্টও ২০১১ সালে কক্ষটি না খোলার রায় দিয়েছিলো। তখন আদালতের এক তদন্ত প্রতিবেদনে মন্দিরের কার্যনির্বাহী সদস্যদের কারচুপির অভিযোগ উঠে আসে। সেই সূত্রে ২০১৪ সালে আদালত ভারতের অডিট বিভাগকে মন্দিরের আয়-ব্যয় অডিট করে দেখার হুকুম দেয়।
সবশেষে এখন আবার মন্দিরের সকল দায়িত্ব উচ্চ আদালতের এই সিদ্ধান্তে ত্রিভাঙ্কুর রাজপরিবারের কাছে ফিরে এলো।
সূত্র: বিবিসি ও আনন্দবাজার
















