নিম্ন মানের মাস্ক দেওয়া ছিল পরিকল্পিত প্রতারণা: তদন্ত কমিটি

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: এন-৯৫ মাস্কের নামে নিম্নমানের সাধারণ মাস্ক সরবরাহের ঘটনাকে ‘পরিকল্পিত প্রতারণা ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের গঠন করা তদন্ত কমিটি।

কমিটির এই প্রতিবেদনের আলোকে মাস্ক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান জেএমআই এবং মালামাল গ্রহণ, বিতরণ বা অন্য যেকোনোভাবে এ বিষয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে বলেছে মন্ত্রণালয়।

মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের (ভান্ডার ও সরবরাহ) পরিচালক বরাবর চিঠি দিয়ে এ নির্দেশ দেয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ। দুর্নীতি দমন কমিশনও (দুদক) এ বিষয়ে তদন্ত করছে।

গত এপ্রিলে মুগদা জেনারেল হাসপাতালসহ বেশ কিছু হাসপাতালে ‘এন-৯৫’ মাস্কের নামে যেসব মাস্ক দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর মান নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়। জেএমআই হসপিটাল রিকুইজিট ম্যানুফ্যাকচারিং লিমিটেড নামের দেশীয় একটি প্রতিষ্ঠান ওই সব মাস্ক সরবরাহ করেছিল।

১৯ এপ্রিল এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়। গত মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ঔষধাগারকে চিঠির সঙ্গে ওই কমিটির প্রতিবেদনও দেয় মন্ত্রণালয়।

কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের অনুরোধে জেএমআই দুই চালানে ২০ হাজার ৬০০টি এন-৯৫ নামের ফেস মাস্ক সরবরাহ করে। তদন্তে দেখা গেছে, সরবরাহ করা পণ্যের মান ঠিক নেই, তাদের পণ্য তৈরির অনুমোদন প্রক্রিয়াও শুরু হয়নি, পণ্য তৈরির জন্য বৈধভাবে কাঁচামাল সংগ্রহ করা হয়নি।

উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ভাষ্য অনুযায়ী পণ্যটি (কথিত এন-৯৫ মাস্ক) গবেষণা ও উন্নয়ন পর্যায়ে রয়েছে। এন-৯৫ মাস্কের বৈধ উৎপাদনকারী বা আমদানিকারক না হয়েও সুদৃশ্য মোড়কে ৯৯ দশমিক ৯ শতাংশ সুরক্ষার নিশ্চয়তা দিয়ে এসব মাস্ক সরবরাহ করা হয়েছে। এটিকে কোনোভাবেই ভুল হিসেবে বিবেচনার সুযোগ নেই। মাস্কগুলো ব্যবহৃত হলে কোভিড-১৯ সংক্রমণকালে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটার আশঙ্কা ছিল। ঘটনাটি একটি পরিকল্পিত প্রতারণা এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে প্রতীয়মান হয়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, চাহিদার সঙ্গে সরবরাহের মিল না থাকার বিষয়টি জেনেও তা গ্রহণ এবং বিতরণ করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় দিয়েছেন। তাই তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের পরিচালককে তদন্তের এসব সুপারিশের আলোকে ব্যবস্থা নিয়ে তা জানাতে বলেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের তৎকালীন পরিচালক এখন দায়িত্বে নেই। মন্ত্রণালয়ের চিঠির বিষয়ে বর্তমান পরিচালকের সঙ্গে চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

প্রসঙ্গত, এই মাস্ক পেয়ে মুগদা জেনারেল হাসপাতালের সে সময়ের পরিচালক শহিদ মো. সাদিকুল ইসলাম স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে চিঠি দিয়ে জানতে চেয়েছিলেন এগুলো আসল এন-৯৫ মাস্ক কি না। এর কিছুদিন পর তাকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়।

পূর্ববর্তি সংবাদদেশে ১৮ জেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ২২ লাখ মানুষ, নিহত ৮
পরবর্তি সংবাদদেশে উচ্চ ও অধস্তন আদালতে বিচারাধীন প্রায় ৩৭ লাখ মামলা