বগুড়ায় বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে ৩শ’ ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: বগুড়ায় বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এতে সোনাতলা ও সারিয়াকান্দি উপজেলায় নদী তীরে ভাঙন দেখা দিয়েছে।

১০টি চরের ৩০০ বাড়িঘর নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। হুমকির মুখে পড়েছে আউচারপাড়া নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়। যে কোনো সময় বিদ্যালয়টি নদীতে ধসে যাওয়ার আশংকা দেখা দেয়ায় স্থানীয়রা দ্রুত স্থানান্তরের দাবি জানিয়েছেন।

শুক্রবার বিকালে যমুনা নদীতে পানি বিপৎসীমার ১২৫ সেন্টিমিটার ও বাঙালি নদীতে ২২.৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

শুক্রবার সোনাতলায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় যমুনা ও বাঙালি নদী তীরে ভাঙন তীব্র হয়েছে। গত কয়েকদিনে উপজেলার তেকানীচুকাইনগর ও পার্শ্ববর্তী সারিয়াকান্দির চালুয়াবাড়ি ইউনিয়নের ১০ চরের প্রায় ৩০০ ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।

পাঁচ শতাধিক মানুষ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে আশ্রয় নিয়েছেন। সোনাতলা উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের প্রায় ২৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। গবাদিপশু নিয়ে বাঁধে আশ্রয় নেয়া বন্যাদুর্গতদের খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। মাঠে পানি থাকায় গবাদি পশুর খাদ্যভাব দেখা গেছে। বন্যার্তরা বাঁধে দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন।

তেকানীচুকাইনগরের সরলিয়া এলাকার বাসিন্দা শামছুল হক (৭০), আউচারপাড়ার গিয়াস উদ্দিন বেপারী (৬৫), শাহজাহান আলী (৩৫), আছিয়া বেওয়া (৫৫), তেকানীচুকাইনগর এলাকার নিহার বানু প্রমুখ জানান, রাতে ভ্যাপসা গরম ও মশার অত্যাচারে দু’চোখে ঘুম আসে না। অপরদিকে গোখাদ্যের চরম সংকট দেখা দিয়েছে।

অপরদিকে গত ২০০০ সালে চরের ছেলে-মেয়েদের মাধ্যমিক শিক্ষার জন্য প্রতিষ্ঠিত আউচারপাড়া নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়টি যমুনা নদীর তীরে চলে এসেছে। যে কোনো সময় বিদ্যালয়টি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।

স্থানীয়রা জরুরিভিত্তিতে বিদ্যালয়টি অন্যত্র স্থানান্তরের দাবি তুলেছেন। প্রধান শিক্ষক শাহজাহান আলী জানান, বিদ্যালয়ের ৩ শতাধিক শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ আহমেদ জানান, শুক্রবার পর্যন্ত ৫শ’ হেক্টর পাট, ৪৮০ হেক্টর আউশ ধান, ২৮ হেক্টর শাক-সবজি, ৩০ হেক্টর বীজতলা ও ৩০ হেক্টর জমির মরিচ বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান জানান, সোনাতলা উপজেলার ৩টি ইউনিয়নের বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

অন্যদিকে যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। বাড়িঘর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীতে বিলীন হচ্ছে। গত কয়েকদিনে সারিয়াকান্দির চালুয়াবাড়ি ইউনিয়নের কমিউনিটি ক্লিনিক, মসজিদ ও এতিমখানা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। হমকির মধ্যে পড়েছে, চরদিঘাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও শিমুলতাইড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান জানান, শুক্রবার বিকাল ৬টায় সারিয়াকান্দির মথুরাপাড়া পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি বিপদসীমার ১২৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

পূর্ববর্তি সংবাদবিনা মূল্যের ফেইসবুক প্যাকেজ আর থাকছে না
পরবর্তি সংবাদআন্তার্জাতিক মিডিয়ায় সাহেদ-সাবরিনা কান্ড, বিশ্ব দরবারে দেশের ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ