একটি বরকতপূর্ণ আমল: প্রয়োজন সতর্কতার

মাওলানা হাসান মুরাদ।।

বরকতপূর্ণ জীবন পূর্ণ। বরকতশূন্য জীবন অপূর্ণ। আমরা প্রতিনিয়ত বরকতময় জীবন প্রত্যাশী ।একে অপরের জন্য বরকতের দোয়া করি। হাদীস শরীফে এসেছে হযরত আবু হুরাইরা রা. বর্ণনা করেন রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, বিসমিল্লাহ ছাড়া কোন ভালো কাজ শুরু করলে তা অপূর্ণ ও বরকতশূন্য থাকে।তাই আমরা বিসমিল্লাহ হির রহমানির রহীম দ্বারা কাজ শুরু করি। এটি অত্যন্ত বরকতময় আমল।

মুমিনের জবানের সৌন্দর্য।মুমিনের জবানে সর্বদাই বিসমিল্লাহ হিররহমা নিররহীম এর আমল জারি থাকবে। আবার আমরা কোন কিছু লেখার শুরুতেও বিসমিল্লাহ হিররহমা নিররহীম দ্বারা শুরু করি।চিঠি ,দরখাস্ত ইত্যাদির শুরুতে বিসমিল্লাহহির রহমানির রহীম লেখা সুন্নাত। হযরত সুলাইমান আ. চিঠির শুরুতে বিসমিল্লাহহির রহমানির রহীম লিখেছিন।(সুরা নামল-৩০) রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিভিন্ন অমুসলিম দেশে যে দাওয়াতি চিঠি পাঠিয়েছিলেন তাতেও বিসমিল্লাহ লিখতেন। হুদাই বিয়ার সন্ধি পত্রেও বিসমিল্লাহহির রহমানির রহীম লিখিত ছিল। কিন্তু সুহাইল বিন আমর এর আপত্তির কারনে সেটি মুছে দেয়া হয়েছিল। এজন্য আমরাও বিভিন্ন লেখার শুরুতে বিসমিল্লাহহির রহমানির রহীম লিখি। তবে প্রয়োজন পূর্ণ সতর্কতার। কারণ “বিসমিল্লাহহির রহমানির রহীম” এটি একটি কোরআনের আয়াত। বরকতের আশায় যেন আয়াতের অবমাননা না হয়।তাই আয়াতের সম্মান রক্ষার্থে দ্বীনি ভাইদের খেদমতে কিছু নিবেদন করছি।

এক. এক দোকানে গেলাম। দোকানের নাম “বিসমিল্লাহ বস্ত্রালয়”। খুব ভালো বেচাকেনা হয়। এই নামেই শপিং ব্যাগ বানানো। দোকানীরা সে ব্যাগেই পণ্য সরবরহ করছে।ব্যাগের প্রয়োজন শেষ হলে আমরা তা যত্রতত্র ফেলে দিচ্ছি। কখানো পায়ের নিচে,কখানো ময়লা ডাস্টবিনে পড়ছে। বিষয়টি খুবই কষ্টদায়ক। ‘বিসমিল্লাহ’ দিয়ে দোকানের নাম অনেক আছে। যাদের দোকানের এমন নাম আছে বিনীত নিবেদন থাকবে আল্লাহর কালামের সম্মানে নামটা পরিবর্তন করলে মালিক খুশি হবেন।অন্যরাও দ্বীনি আমানত মনে করে সেসব ভাইদের দোকানে দাওয়াত দিতে পারি।

দুই.গত নির্বাচনের সময় বিভিন্ন প্রেসে গেলাম। নিবেদন করলাম ভাই পোস্টারগুলোতে বিসমিল্লাহহির রহমানির রহীম না লিখলে হয় না? এগুলোতো রাস্তায় পড়ে, পায়ের নিচে পড়ে। উত্তর দিল; মাওলানা সাহেব আমাদের আপত্তি নেই, তবে তারা বিসমিল্লাহহির রহমানির রহীম আগে দিতে বলে।আবার ধর্মীয় মাহফিলের পোস্টারেও দেখি বিসমিল্লাহহির রহমানির রহীম লেখা।সব পোস্টারগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষন করা হয় না। যখনি নজরে পড়ে কাগজগুলো সংগ্রহ করি। আমার কাছেতো জমতে জমতে একটি ডিব্বা ভরে গছে।এছাড়াও ভিজিটিং কার্ড,ভাউচার ইত্যাদিতে অনেকেই বিসমিল্লাহহির রহমানির রহীম লিখে। এগুলো না লেখা উচিত। শরহু মুসলিম,নববী ২/৯৮,আহসানুল ফতোয়া ৮/২৪

তাহলে কী করব?
মুফতি তাকি উছমানী দামাত বারাকাতুহুম এই প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি লিখেছেন, যে সকল জিনস সংরক্ষন করা সম্ভব হবে না এমন জিনিস লেখার শুরুতে “বিসমিল্লাহহির রহমানির রহীম” মুখে পড়ে নিবে। লিখবে না। অনেকে ৭৮৬ লিখে।মুফতি ছাহেব বলেন, কখন থেকে৭৮৬ লেখার এর ধারা শুরু হয়েছে তা জান যায় না। তবে কেউ যদি মুখে বিসমিল্লাহহির রহমানির রহীম পড়ে ৭৮৬ লিখে তাহলে আশা করা যায় বিসমিল্লাহহির রহমানির রহীম লেখার নেকী পাওয়া যাবে।শুধু ৭৮৬ লিখলে কোন সওয়াব পাওয়া যাবে না। ফতোয়ায়ে উছমানী- ২/১৬৪

তিন. বিভিন্ন কোম্পানির ক্যালেন্ডারে আয়াত ক্যালিগ্রাফি করা থাকে। এগুলো দিয়ে অনেক সময় আমরা বচ্চাদের বই মোড়াই। এটাও ঠিক না । কারণ অজু ছাড়া কোরআনের আয়াত স্পর্শ করা নাজায়েজ।

চার. তাবিজ,আংটি ইত্যাদিতে আল্লাহর নাম,কালেমা তাইয়্যিবা, নবীর নাম খোদাই করা থাকে। এগুলোও পরিহার করব। বিশেষত এসব খোদাইকৃত বস্তু নিয়ে কখনো টয়লেটে যাব না।

পাচ. বিভন্নি মসজিদে খাটিয়ার উপর দেয়ার জন্য কোরআনের আয়াত লিখিত চাদর ব্যবহার করা হয়। এটাও পরিহার করব।

ছয়. আমরা স্কুল,মাদরাসার ধর্মীয় পুরনো বই বিক্রি করি। যাতে কোরআনের আয়াত,হাদীস লেখা থাকে। এগুলো আবার বাদাম,ঝালমুড়ি বিক্রেতারা আমাদের হাতে পরিবেশন করে। আমি নিজেই অনেক বার এমন দেখেছি।সুরতাং এগুলো বিক্রর সময় সতর্ক থাকব।

কোরআনের সম্মানে, আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্য ছোট আমলগুলো করার চেষ্টা করব। আল্লাহ আমাদের তাওফিক দান করুন।

পূর্ববর্তি সংবাদজবাই সংক্রান্ত কয়েকটি মাসআলা
পরবর্তি সংবাদনবীজির মুখে যিনি জান্নাতী মানুষ