শায়খ মাহমুদ আলহাসানাত ।।
আমাদের সবচে বড় ট্র্যাজেডি হলো আমরা মৃত মানুষকে তো বিদায় দিই, কিন্তু নিজেরা আল্লাহমুখী হই না। আমাদের সমস্যা হলো, প্রতিদিন আমরা কবরস্থানে লাশ দাফন করতে যাই। প্রতিদিন আমাদের কোন না কোন প্রিয়জন, নিকটাত্মীয়, পড়শী কিংবা বাবা-মা মারা যান, কিন্তু আমরা তা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করি না।
সুবহানাল্লাহ! তারা কি কিছুক্ষণ পূর্বে আমাদের সাথে ছিল না? তারা কি আমাদের সাথে ছিল না? তারা কি আমাদের সাথে আহার করতো না? আমাদের সাথে কি তাদের আন্তরিকতা ছিল না? তারা কি আমাদের সাথে পান করতো না? তারা কি আমাদের সাথে হাসি-কৌতুক করতো না? এটাই কি দুনিয়া? এটাই দুনিয়া?
সাধারণত কী হয়? লোকটি কিছুকাল আপনার প্রতিবেশী ছিলেন। হঠাৎ আপনি তার মৃত্যুসংবাদ শুনতে পান। আল্লাহর ওয়াস্তে বলুন, তখন কী বলা হয়? তখন কী বলা হয় “অমুকের কাছে যাও, অমুককে কবরে রাখো, অমুক ডক্টরকে কবরে রাখো, অমুক ইঞ্জিনিয়ারকে কবরে রাখো, অমুক অফিসারকে কবরে রাখো,অমুক ধনীকে কবরে রাখো? না, তখন বলা হয়, “তোমরা লাশের কাছে যাও, লাশ উঠাও, লাশের জানাযার নামায পড়ো, লাশের পিছু পিছু যাও।”
সব উপাধি শেষ। সব উপাধি শেষ। এখন আর কোন উপাধি বাকি নেই। কোন নাম বাকি নেই। যদি আপনি কোন গাড়ির মালিক হন, তাহলে তার সামনে ও পেছনে লিখে রাখবেন, “যেভাবে চাও জীবনযাপন করো, তবে (একদিন) নিশ্চয়ই তোমাকে মরতে হবে। যাকে চাও ভালোবাসো, তবে একদিন নিশ্চয়ই তোমার বিচ্ছেদ হবে।” আপনি আপনার ঘরের সামনেও লিখে দিন। ঘরে প্রবেশ করতে পড়বেন, “যেভাবে চাও জীবনযাপন করো, তবে একদিন নিশ্চয়ই তোমাকে মরতে হবে। যাকে চাও ভালোবাসো, তবে একদিন নিশ্চয়ই তোমার বিচ্ছেদ হবে।”
আপনি আপনার মোবাইলেও এই কথা লিখে রাখুন। যখনি মোবাইল খুলবেন, পড়বেন “যেভাবে চাও জীবনযাপন করো, তবে একদিন নিশ্চয়ই তোমাকে মরতে হবে। যাকে চাও ভালোবাসো, তবে একদিন নিশ্চয়ই তোমার বিচ্ছেদ হবে।”
অনুবাদ: শাহাদাত হুসাইন
















