ইযযুদ্দিন বিন আবদুস সালাম রহ. -এর কবর গুড়িয়ে দেওয়া ছবি প্রচার, উত্তপ্ত মিসরের সামাজিক মাধ্যম

তারিক মুজিব ।।

গত দুইদিন ধরে বেশ উত্তপ্ত মিসরের সামাজিক মাধ্যম। ফেসবুক, টুইটারে এখন আলোচনার প্রধানতম বিষয় হলো, সিসি সরকার কি সত্যিই রাস্তা নির্মাণের জন্য বিখ্যাত ইসলামি ব্যক্তিত্ব শায়খুল ইসলাম ইযযুদ্দিন বিন আবদুস সালাম রহ. -এর কবর গুড়িয়ে দিয়েছেন?

এ নিয়ে সরগরম নেটিজেননদের সামাজিক মাধ্যম। কায়রোতে অবস্থিত শায়খ ইযযুদ্দিন বিন আবদুস সালামের কবরের পার্শ্ববর্তী ভবনের ভগ্নাবস্থার ছবি, ভিডিও আপলোড করে একদল দাবি করছেন, মিসরের স্বৈরাচারি সিসি সরকার সাম্প্রতিক সময়েই এই ঘৃণ্য কাজটি করেছে। তাদেরর দাবি অনুযায়ী আবদেল ফাতাহ সিসি দেশটিতে বসবাসরত ইয়াহুদিদের কবরস্থানের মেরামত এবং তাদের নানামাত্রায় সহযোগিতা করলেও ঐতিহাসিক মুসলিম নিদর্শনগুলোকে সহ্য করতে পারছে না।

তবে মিসরের সরকারপন্থী আরেকদল দাবি করছে, বর্তমানে প্রচারিত ছবি বা ভিডিওগুলো পুরাতন। সাম্প্রতিক সময়ে এরকম কোনো ঘটনা ঘটেনি। সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের জন্য উদ্দেশ্বপ্রনোদিতভাবে কোনো মহল থেকে এ ছবিগুলো প্রচার করা হচ্ছে।

তবে সময় নিয়ে দুই পক্ষের দ্বন্ধ থাকলেও ছবি এবং ভিডিও দেখে এটা নিশ্চিত হওয়া গেছে শায়খ ইযযুদ্দিন বিন আবদুস সালাম রহ.-এর কবরস্থান আর অক্ষত নেই। নতুন রাস্তা নির্মাণ বা অন্য কোনো কাজে তা গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

শায়খ ইযযুদ্দিন রহ.-এর ব্যক্তিত্ব এবং বিশেষ অবদানের কারণে তার কবরস্থান গুড়িয়ে দেওয়ার ছবি মিসরবাসীর মনে গভীর আঘাত করেছে। আহত হয়েছে সারাবিশ্বের মুসলমান।

ইযযুদ্দীন বিন আবদুস সালাম রহ. ষষ্ট হিযরীর বিখ্যাত আলেম। সুলতানুল উলামা এবং বাইউল উমারা (আমীরদের বিক্রেতা) তার উপাধী। তিনি ছিলেন সেসময়ের মিসরের প্রধান বিচারপতি। দামেশকের জামে উমাভির খতিব ছিলেন তিনি দীর্ঘদিন।

ইলম, যুহদের পাশাপাশি শরিয়াহ পালনে তিনি ছিলেন খুবই কঠোর। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের কোনো বিষয়েও তিনি ছিলেন সামান্য ছাড় দিতে নারাজ।

পূর্ববর্তি সংবাদদুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশ এখন অনেক শক্তিশালী: কাদের
পরবর্তি সংবাদউত্তরায় বহুতল ভবনে আগুন