ইসলাম টাইমস ডেস্ক: আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহেই ভারতের অযোধ্যায় শহিদ করা বাবরি মসজিদের জায়গায় রামমন্দির নির্মাণের কাজ শুরু হতে চলেছে। লাদাখে ভারত চীনের মধ্যে চলমান উত্তেজনা, করোনায় লাখ লাখ মানুষের আক্রান্ত হওয়া ইত্যাদি কোনো পিছুটানই হয়তো ভারতকে এই দুর্ভাগ্য থেকে সরাতে পারবে না।
ইতিমধ্যে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনে ডাক পেয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তার জন্য ৩ এবং ৫ অগাস্টকে কথিত ‘শুভদিন’ হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে যে কোনও এক দিন ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হবে।
অথচ এই ভারতে যে সুদীর্ঘ কাল মুসলিম শাসকগণ শাসন করেছেন তারা যদি মন্দিরকে মসজিদ বানানোর পরিকল্পনা করতেন তাহলে হয়তো ভারতে না এত এত হিন্দুর অস্তিত্ব থাকত, যেভাবে স্পেনে কোনো মুসলমানের অস্তিত্ব পাওয়া যায় না, আর না এত এত মন্দিরের অস্তিত্ব থাকত, যেমন মুসলমানদের সাথে ঘটেছে স্পেনে।
এক্ষেত্রে সাহাবাগণ এবং পরবর্তী মুসলিম আদর্শ শাসকগণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শকে পূর্ণ মাত্রায় ধরে রেখেছেন। বিধর্মীদের উপাসনালয়ের ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উদারতা ছিল অতুলনীয়। সে যুগে বিজিত ভূখণ্ডের যেসব অধিবাসী বশ্যতা আনুগত্য করেছে তাদের জান-মাল, ধর্ম ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান আল্লাহর আমানত ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জিম্মাদারি বলে গণ্য হতো
সফরে হজরে সর্বাবস্থায় তারা পূর্ণ নিরাপত্তা ভোগ করত। তাঁর ফরমান এই ছিল যে, তাদের কোনো কিছুতে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করা যাবে না। তাদের মূর্তি বিগ্রহ ভাঙ্গা যাবে না । এবং কোনো পূজারীকে অপসারণ করা যাবেনা। কোনো সন্ন্যাসীকে তার অবস্থা থেকে এবং গির্জা মন্দিরের কোনো সেবায়েতকে তার পদ থেকে সরানো যাবে না । দাদের যা কিছু যেভাবে আছে সেভাবে থাকবে। কেউ ফরিয়াদি হলে তার প্রতি ন্যায় বিচার করা হবে।
আল্লাহর রাসূলের পর খোলাফায়ে রাশেদীন ও সাহাবায়ে কেরাম এই নীতি অনুসারণ করেছেন। সাহাবাদের পর মুসলিম শাসকদেরকেও দেখা গেছে এ নীতির উপর অটল থাকতে।
ইসলামের ইতিহাসে এমন দৃষ্টান্তও অতিবাহিত হয়েছে যে, জবর দখলকৃত জমি মজিদের অন্তর্ভুক্ত করার কারণে মসজিদের ঐ অংশ ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে।
উমাইয়া খলীফা ওয়ালিদ বিন আবদুল মালিক দামেশকে একটি শানদার মসজিদে নির্মাণের ইচ্ছা করেছিলেন। পরিকল্পনা মত মসজিদটি নির্মাণ করতে গিয়ে জমির সংকট দেখা দিল। পাশেই একটি গির্জা ছিল। তিনি ঈসায়ীদের কাছে জমি চাইলেরন। তারা বলল, এই জমি দিতে আমরা প্রস্তুত নই। তারপরও যদি জোর করে নেওয়া হয় তাহলে জবর দখলকারী কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত হবে। তাদের জবাব শুনে ওয়ালিদ ক্রুদ্ধ হলেন এবং বললেন দেখা যাক কুষ্ঠ হয় কিনা।
ওমর ইবনে আজিজ রহ. এর যামানায় ঈসায়ীরা তার কাছে অভিযোগ নিয়ে এল। হযরত ওমর ইবনে আবদুল আজিজ রহ. ছিলেন খোলাফায়ে রাশেদীনের প্রকৃত উত্তরসূরী। তিনি সঙ্গে সঙ্গে মসজিদের ঐ অংশ যা গির্জার জমিতে নির্মাণ করা হয়েছিল ভেঙ্গে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। উপরন্তু বায়তুল মালের খরচে গির্জা পুন নির্মাণের নির্দেশ দিলেন।
মুসলমানদের এসব নীতি একথার প্রমাণ বহন করে যে বাবরি মসজিদ শুরু থেকেই মসজিদ ছিল। এ মসজিদ কখনো মন্দিরের উপর বানানো হয়নি। হিন্দু ভারত কি মুসলমানদের মসজিদকে মন্দিরে পরিণত করার মত দুর্ভাগ্যজনক কাজ থেকে নিজেদেরকে বাঁচাতে পারবে?
















