জার্মানিতে মুসলিম সৈনিকরা নিজেদের জানাযা নিয়ে চিন্তিত

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: দেশের হয়ে নানা বিপদের মাঝে লড়লেও অনেক ক্ষেত্রেই ধর্মীয় নিয়ম মানতে গিয়ে নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়  জার্মান মুসলিম সৈনিকদের৷

বিপদের ঝুঁকি নিয়ে লেফটেন্যান্ট নারিমান হামৌন্টি-রাইনকে জার্মানির হয়ে  লড়েছেন৷ দেশের হয়ে লড়তে কোনো যে কোনো বিপদে যেতে রাজি তিনি৷ কিন্তু ব্যক্তিগত বিশ্বাসের জায়গায়, কখনো কখনো অন্য সৈনিকদের চেয়ে একটু দূরত্ব বোধ করেন তিনি৷

মরোক্কান মা-বাবার সন্তান নারিমান জার্মানির উত্তরাঞ্চলের একটি শহরে জন্মগ্রহণ করেন৷ দেশের জন্য লড়ার অভিজ্ঞতা তাঁর বিশ্বাস ও চিন্তাকে নানাভাবে প্রভাবিত করেছে, জানান তিনি৷

এবিষয়ে একটি বইও লিখেছেন তিনি ইতিমধ্যে, যার নাম ‘ইশ ডিনে ডয়েচলান্ড’ অর্থাৎ, ‘আমি জার্মানির সেবা করি’৷ বিভিন্ন যুদ্ধের মাঝে লড়তে যাওয়ার সময় কী প্রস্তুতি নেন তিনি, সে প্রশ্নের উত্তরে ডয়চে ভেলেকে নারিমান বলেন, ‘‘আমি যেখানেই যাই, সাথে করে আমার জায়নামাজ নিয়ে যাই৷ যদি যুদ্ধে প্রাণ হারাই, সেক্ষেত্রে কীভাবে আমার শেষকৃত্যের আয়োজন করা হবে, বাবা-মাকে জানাবে, তা-ও আমি বিস্তারিত লিখে রেখেছি আমার উর্ধ্বতন অফিসারদের বোঝার জন্য৷”

কেন দরকার এমন পরিকল্পনা?

জার্মানিতে সেনাবাহিনীতে যারা কর্মরত থাকেন, তাদের যুদ্ধক্ষেত্রে বা অন্য কোনো বিপজ্জনক কর্মক্ষেত্রে মৃত্যু হলে, তাদের ধর্ম অনুযায়ী শেষ শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করার দায়িত্ব বর্তায় সেনাবাহিনীর ওপর৷ এবং বর্তমানে, সেনাবাহিনীতে প্রায় তিন হাজার ইসলাম ধর্মাবলম্বী সৈনিক রয়েছেন৷

কিন্তু সেনাবাহিনীর সাথে যুক্ত নেই কোনো নির্দিষ্ট ধর্মযাজক বা ইমাম, যারা কোনো মুসলিম সৈনিকের মৃত্যুর পর জানাজা আয়োজন বিষয়ে পরামর্শ দিতে পারেন৷ কিন্তু সেনাবাহিনীতে ইতিমধ্যে যুক্ত হয়েছেন ইহুদি ধর্মযাজকেরা৷ আগে থেকেই ছিলেন খ্রিষ্টধর্মের বিভিন্ন ধারার পাদ্রীরা৷

নারিমানের মতে, প্রতিটি সৈনিকই এখানে গুরুত্বপূর্ণ৷ তিনি বলেন, ‘‘বর্তমানে মুসলিম সৈনিকের সংখ্যা মোটেই ফেলনা নয়৷ এখন অবশেষে ইহুদি সৈনিকদের জন্য বিশেষ প্রার্থনার ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে৷ কিন্তু মুসলিম প্রার্থনা বা জানাজা নিয়ে তারা স্পষ্ট করে কিছু বলছেন না৷ নেই কোনো বিশেষ ধর্মযাজকও৷”

সম্প্রতি, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা ডয়চে ভেলেকে জানান, যে প্রতি বছরই জার্মান সেনাবাহিনীতে বাড়ছে ইসলাম ধর্মাবলম্বী সৈনিকের সংখ্যা৷তিনি আরো জানান যে এই প্রবণতার কারণে শিগগিরই প্রয়োজন এই ধর্মগোষ্ঠীর কোনো ধর্মযাজককে সেনাবাহিনীর সাথে যুক্ত করা৷

আইনানুসারে, প্রতি দেড় হাজার সৈনিকের জন্য একজন ধর্মযাজক বরাদ্দ করা হয়৷ পাশাপাশি, জার্মান সংবিধান ফলাও করে বলছে প্রতিটি ধর্মের স্বাধীনতার কথা৷ কিন্তু আলোচনায় থাকা সত্ত্বেও এবিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তে এসে পৌঁছতে পারেনি সরকার এখনও৷

পাশাপাশি, সেন্ট্রাল কাউন্সিল অফ মুসলিমসের সাথে আলোচনাও আটকে থাকায় কোনো সুরাহা হচ্ছে না৷ বর্তমান নিয়ম বলছে, যুদ্ধে কোনো জার্মান মুসলিম সৈনিক মারা গেলে অবিলম্বে একজন ইমামের দ্বারস্থ হতে হয়৷ এই কাজে মধ্যস্থতা করে সেনাবাহিনীর ‘সেন্ট্রাল কনটাক্ট পয়েন্ট ফর সোলজারস অফ আদার ফেথস’৷ সেখানেও নেই কোনো নির্দিষ্ট সার্বক্ষণিক ইমামের পদ৷

রাজনীতিবিদদের মত, ২০২০ সালের আঞ্চলিক নির্বাচনের আগেই হয়তো কোনো নতুন আইন প্রণয়ণ হতে পারে৷

জার্মান সেনাবাহিনীতে ইমামের পদ না থাকার বিষয়ে নারিমান বলেন, ‘‘বর্তমান ব্যবস্থা অন্যায্য৷ আমার মতে, ইসলাম এখনও জার্মানিতে পুরোপুরি মিশে যেতে পারেনি৷ কিন্তু আমরা জার্মানির হয়েই লড়ছি৷ আমাদের দেশ জার্মানি, যার জন্য আমরা প্রাণ দিতেও প্রস্তুত৷”

পূর্ববর্তি সংবাদখেলাফত প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই চলমান অরাজকতা ও অশান্তি দূর করা সম্ভব : আতাউল্লাহ হাফেজ্জী
পরবর্তি সংবাদট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত