এবছর হজে খুতবা দেবেন শায়খ আবদুল্লাহ বিন সুলাইমান

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: চলতি বছর হজের জন্য নতুন খতিব দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছেন। নতুন এই খতিব হলেন শায়খ আবদুল্লাহ বিন সোলায়মান আল মানিয়া।

৩০ জুলাই (৯ জিলহজ) মসজিদে নামিরা থেকে তিনি স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে বারোটার পর হজের খুতবা দেবেন। এদিন হজযাত্রীরা মিনা থেকে আরাফাতের ময়দানে উপস্থিত হবেন। আরাফাতের ময়দানে জোহর ও আসরের নামাজ একত্রে পড়া হয়।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) খাদেমুল হারামাইন শরিফাইন সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ এক রাজকীয় ফরমানে শায়খ আবদুল্লাহ বিন সোলায়মান আল মানিয়া নিয়োগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। শায়খ আবদুল্লাহ বিন সোলায়মান আল মানিয়া হলেন সবচেয়ে বেশি বয়স্ক হজের খতিব।

আরো পড়ুন: হজ্ব ও কুরবানী :  জাগুক ঈমান, জ্বলুক ঈমানের প্রদীপ

এবার হজ্ব ‘নিষিদ্ধ’ না করে বিকল্প যা করতে পারত সৌদি আরব

আরাফাতের ময়দানে হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদায় হজের ভাষণ দিয়েছিলেন। সেই রীতি অনুযায়ী প্রতি বছর ৯ জিলহজ আরাফাতের ময়দানে হজের খুতবা দেওয়া হয়। আরবি ভাষায় দেওয়া হজের খুতবায় থাকে মুসলিম বিশ্বের জন্য নানা দিক-নির্দেশনা। এ বছর পবিত্র হজের আরবি খুতবা বাংলাসহ আরও নয়টি ভাষায় অনুবাদ করে সম্প্রচার করা হবে। এ লক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ওই নয় ভাষা হলো- ইংরেজি, মালয়, উর্দু, ফার্সি, ফ্রেঞ্চ, মান্দারিন, তুর্কি, রুশ ও হাবশি। ২০১৯ সালের হজে ৫ ভাষায় হজের খুতবার অনুবাদ প্রচারিত হয়েছিল।

৯২ বছর বয়সী শায়খ আবদুল্লাহ বিন সোলায়মান আল মানিয়া আইনজ্ঞ হিসেবে বেশ প্রসিদ্ধ। তিনি অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন বা ওআইসির ইসলামিক ফিকহ একাডেমির সদস্য। এর আগে তিনি মক্কা আল মোকাররামা কোর্টের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। শায়খ আবদুল্লাহ মানিয়ে সৌদি আরবের বিভিন্ন ব্যাংকের শরীয়া কমিটিতে আছেন। এছাড়া তিনি জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে জড়িত।

শরীয়া আইন নিয়ে তিনি পিএইচডি ডিগ্রী নিয়েছেন। তিনি একজন লেখক। শারিয়া শাসন ব্যবস্থা ও ইসলামিক অর্থনীতি বিষয়ে তার উল্লেখযোগ্য রচনা রয়েছে।

১৯৮১ সাল থেকে টানা ৩৫ বছর হজের খুতবা দিয়েছেন সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতি শায়খ আবদুল আজিজ বিন আবদুল্লাহ আশ শায়খ। ২০১৬ সালে তিনি বার্ধক্যজনিত কারণে অবসর নেন। এর পর থেকে প্রতি বছর একজন করে নতুন খতিব নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।

২০১৬ সালে হজের খুতবা দেন মসজিদে হারামের প্রধান ইমাম ও খতিব ড. আবদুর রহমান আস সুদাইস। সুললিত কন্ঠে কোরআন তেলাওয়াতের দরুণ বিশ্বে ব্যাপক জনপ্রিয় ড. সুদাইসকে হজের খতিব হিসেবে স্থায়ী মনে করা হলেও ২০১৭ সালে ঘোষণা হয় শায়খ ড. সাআদ আশ শাসরি এবার হজের খুতবা দেবেন। ইসলামি আইনে অভিজ্ঞ ও সুপণ্ডিত ড. আশ শাসরিকে ভাবা হচ্ছিল তিনিই হয়তো স্থায়ীভাবে হজের খুতবা দেওয়ার দায়িত্বটি পালন করবেন।

আরো পড়ুন: হজ্ব ও উমরাহ: পদ্ধতি ও মাসায়েল

 হজ্ব-উমরার আমলসমূহ: মর্তবা ও ফযীলত

হজ মুমিনের স্বপ্ন, মুমিনের ভালোবাসা

কিন্তু না, ২০১৮ সালে হজে খুতবা দেওয়ার জন্য নতুন আরেকজন খতিব নির্বাচন করা হলো। তিনি হলেন, শায়খ ডা. হুসাইন বিন আবদুল আজিজ আশ শায়েখ। পর পর তিন বছর নতুন খতিব নিয়োগের পর ধরে নেওয়া হচ্ছে, সৌদি সরকার এ পদে হয়তো স্থায়ীভাবে কাউকে নিয়োগ দেবে না।

২০১৯ সালে শায়খ মুহাম্মদ বিন হাসান আলে শায়খকে হজের খতিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি সৌদি আরবের সর্বোচ্চ উলামা পরিষদ ও মুফতি বোর্ডের সদস্য এবং খাদেমুল হারামাইন শরিফাইন হাদিস কমপ্লেক্সের পরিচালক।

এবার হজের দিন মসজিদে নামিরা মুয়াজ্জিন হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন শায়খ ইমাদ বিন আলি ইসমাইল। তিনি মসজিদের হারামের নিয়মিত মুয়াজ্জিন।

আরো পড়ুন: বিদায় হজ্বের খুতবা: চৌদ্দশ বছর পর এখনও কেমন বাস্তব

হজ্ব ‘বন্ধ’: একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার আছে কি সৌদি আরবের

পূর্ববর্তি সংবাদএবারও শোলাকিয়ায় ঈদের জামাত হচ্ছে না
পরবর্তি সংবাদঈদুল আযহা ও কুরবানী বিষয়ক কিছু হাদীস