মিসাইল ছুড়ে মার্কিন নকল রণতরী ধ্বংস করল ইরান, নিন্দা যুক্তরাষ্ট্রের

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্রের নোঙ্গর করা বিমানবাহী রণতরীর আদলে সাজানো একটি ‘ডামি’ বা সাজানো রণতরী একের পর এক মিসাইল ছুড়ে ধ্বংস করেছে ইরান।

তবে এতেও কোনো ক্ষয়-ক্ষতি হয়নি কোনো পক্ষেরই। কারণ এই পুরোটাই ছিল ইরানের একটি মহড়ার অংশ। জানা গেছে, হরমুজ প্রণালীতে একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজের আদলে একটি নকল রণতরি সাজিয়ে সেটির ওপরই মিসাইল হামলা চালিয়েছে ইরান।

পারস্য উপসাগর নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা যখন বাড়ছে এমন সময়ই ইরানের পক্ষ থেকে এই মহড়া চালানো হলো। এই মহড়ার নাম তারা দিয়েছে মহানবী -১৪। এদিকে ইরানের মহড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজের আদলে রণতরি বানিয়ে মিসাইল হামলার ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছে মার্কিন নৌবাহিনী। এ নিয়ে মার্কিন নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়, এটি ইরানের দায়িত্বহীন ও বেপরোয়া আচরণ।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, হরমুজ প্রণালীর এই মহড়া ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনেও সম্প্রচারিত হয়েছে। যেখানে দেখা যায়, ইরান নিজেরাই একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজের মতো একটি রণতরি সাজিয়েছে। সেখানেই একের পর এক চালানো হচ্ছে মিসাইল হামলা।

এ বিষয়ে ইরানের রেভ্যুলেশনারি গার্ডের কমান্ডার মেজর জেনারেল হোসেইন সালামি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন, আজকের মহড়ায় যা দেখানো হয়েছে সবই আক্রমণাত্নক ছিল।

এই মহড়ার সময় এতো বেশি গোলাগুলি হয় যে, ওই অঞ্চলের দুইটি সামরিক ঘাঁটিতে সাময়িক সতর্কাবস্থা জারি করে যুক্তরাষ্ট্র।

একে ‘ইরানের দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং বেপরোয়া’ আচরণ বলে নিন্দা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী। সেই সঙ্গে এই আচরণকে ভীতি প্রদর্শন এবং চাপ প্রয়োগের চেষ্টা বলে বর্ণনা করেছে।

ভূমধ্যসাগরে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই এই মহড়ার ঘটনা ঘটলো

‘নবী মোহাম্মদ চতুর্দশ’ নামের এই মহড়াটি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। ভূমধ্যসাগরে নিয়মিত টহল দিয়ে থাকে, এমন একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর আদলে নকল একটি স্থাপনা তৈরি করা হয়, যেটির দুই পাশে মডেল যুদ্ধবিমান, রানওয়ে ইত্যাদিও সাজানো ছিল। এরপর বিভিন্ন কোন থেকে মিসাইল ছুঁড়ে মারা যায়, যার কয়েকটি ওই নকল রণতরীটি লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করা হয়। আরেকটি হেলিকপ্টার থেকেও রণতরীটির দিকে মিসাইল ছোঁড়া হয়। ভূমি থেকেও মিসাইল ছোড়া হয়।

ইরানের বিপ্লবী গার্ডের কমান্ডার মেজর জেনারেল হোসেইন সালামি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেছেন যে, ”আজকের মহড়ার মধ্য দিয়ে বিমান ও নৌবাহিনীর আক্রমণ করার সক্ষমতা তুলে ধরা হয়েছে।”

ব্যালিস্টিক মিসাইল নিক্ষেপের সঙ্গে সঙ্গেই যুক্তরাষ্ট্র শনাক্ত করে এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত আর কাতারের সেনা ঘাঁটিকে সতর্ক অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের ফিফথ ফ্লিটের মুখপাত্র কমান্ডার রেবেকা রিবারিচ বলেছেন, ”সমুদ্র চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহযোগীদের সঙ্গে মিলে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিরক্ষা মহড়া চালিয়ে থাকে। কিন্তু ইরান আক্রমণাত্মক মহড়া করেছে যা ভীতি প্রদর্শন এবং চাপ প্রয়োগের একপ্রকার চেষ্টা।”

পূর্ববর্তি সংবাদচাঁদপুর-কুমিল্লা মহাসড়কে বাস-সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ৩
পরবর্তি সংবাদশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি বাড়ল ৩১ আগস্ট পর্যন্ত