ইসলাম টাইমস ডেস্ক: বাংলাদেশের সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দিয়ে ধর্মনিরপেক্ষতা প্রতিষ্ঠা ও ইসলামী চেতনাবোধ ধ্বংসের চক্রান্তের প্রতিবাদে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ-এর উদ্যোগে আলেমদের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার ১৮ পল্টনস্থ দলীয় কার্যালয়ে এ জরুরী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দিয়ে ধর্মনিরপেক্ষতা লেখা চালু করার দাবিতে মাইনরিটি সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি, সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী অশোক কুমার ঘোষের লিগ্যাল নোটিশ পাঠানোর ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বৈঠকে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ।
বৈঠক নেতৃবৃন্দ বলেন, রাষ্ট্রধর্ম ইসলামের মতো একটি মীমাংসিত ইস্যুতে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার পায়তারা করা হচ্ছে ৷ রাষ্ট্রধর্ম ইস্যুটি ২০১৬ সালে মাননীয় আদালত মীমাংসা করে দিয়েছেন। তাই এই বিষয়ে নতুন করে বিতর্ক তোলার কোনও যৌক্তিকতা নেই।
তারা আরো বলেন, এই দেশ মুসলমানের দেশ। এই দেশ পীর আউলিয়াদের দেশ, আলেম উলামার দেশ, মসজিদ-মাদ্রাসার দেশ ৷ এই দেশে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম ছিলো, আছে ও থাকবে, ইনশাআল্লাহ। অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরা এদেশে তাদের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও শান্তি এবং নিরাপত্তার সাথে বসবাস করছে এবং করবে ৷ যারা রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাতিলের নোটিশ দেয় ও আবদার করে তারা দেশে শান্তি শান্তি-শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা কে বিনষ্ট করতে চায় ৷ যা রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল।
সুতরাং রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাতিল করা কোন ভাবে সম্ভব নয় ৷ এদেশের সর্বস্তরের মুসলিম জনতা তা বরদাশত করবে না। নিজের জীবন বাজি রেখে রাজপথে নেমে আসতে বাধ্য হবে ৷
নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, ধর্মপ্রাণ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠতার ফলেই এদেশের রাজনীতিবিদ ও রাজনৈতিক দলগুলো বরাবরই তাদের ধার্মিক চরিত্রটি ধরে রাখার চেষ্টা করেছে। ফলে ক্ষমতার পালাবদলের পরিক্রমায় ডান-বাম নানা মতাদর্শের ব্যক্তি বা গোষ্ঠী বিভিন্ন সময় ক্ষমতাসীন হলেও রাষ্ট্রধর্ম পরিবর্তনের দুঃসাহসটি দেখাননি। বরং সারাবছর সমাজতন্ত্রের বুলি আওড়ানো কমরেডরাও নির্বাচন এলে মাথায় টুপি চেপে মসজিদে প্রবেশ করেন।
যারা এই দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের ধর্মীয় আবেগ-অনুভূতি নিয়ে তামাশা করতে চায়, তাদের কঠোর হস্তে দমন করার আহ্বান জানান নেতৃবৃন্দ। মীমাংসিত ইস্যুতে নতুন করে বিতর্ক তুলে কারা ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায়, তা খুঁজে বের করতে হবে। অন্যথায় দেশের সর্বস্তরের মুসলিম জনতা পূর্বের ন্যায় আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন বলে হুঁশিয়ারি দেন তারা।
মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন- মহাসচিব আল্লামা নূর হোছাইন কাসেমী, সহসভাপতি মাওলানা জহিরুল হক ভূঁইয়া, মাওলানা জুনায়েদ আল-হাবীব, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, মাওলানা ফজলুল করীম কাসেমী, প্রচার সম্পাদক মাওলানা জয়নুল আবেদীন, দাওয়া বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা লোকমান মাজহারী, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা জিয়াউল হক কাসেমী,কেন্দ্রীয় সদস্য মাওলানা মাহবুবুল আলম, মাওলানা নুর মুহাম্মদ, মাওলানা মুনির আহমদ, মাওলানা ছিদ্দিকুল ইসলাম তোফায়েল প্রমুখ।
















