করোনায় গরীবের চালে ভুয়া কার্ড দিয়ে যেভাবে ভাগ বসালেন জনপ্রতিনিধিরা

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: সিরাজগঞ্জের চৌহালী রংপুরের মিঠাপুকুরসহ প্রায় সারা দেশেই  নয়ছয় করে সরকারি চালের সুবিধা  ভোগ করছিলেন  স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। করোনাকালে অনেক স্থানীয় জনপ্রতিনিধিকে এসব চালসহ আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

অনিয়ম ও দুর্নীতির অপরাধে এ পর্যন্ত ১১৫ জনপ্রতিনিধিকে বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। অনেকের নামে দুদকে মামলাও হয়েছে। এর মধ্যে ৩৮ জন ইউপি চেয়ারম্যান, ৭০ জন ইউপি সদস্য, ২ জন জেলা পরিষদ সদস্য, ৪ জন পৌর কাউন্সিলর এবং একজন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান রয়েছেন।

এমন পরিস্থিতিতে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে এসব ভুয়া কার্ড শনাক্ত করার উদ্যোগ নেয় খাদ্য অধিদফতর। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নেতৃত্বে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকরা খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির এই তালিকাটি হালনাগাদ করছে। এখন পর্যন্ত ৪ লাখ ৫১ হাজার ১২৪টি ভুয়া কার্ডের সন্ধান পাওয়া গেছে।

এর মধ্যে ময়মনসিংহে রয়েছে ৫০ হাজার ৫০০, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১৮ হাজার, বগুড়ায় ১৪ হাজার, টাঙ্গাইলে ১২ হাজার ৩৯৩, নওগাঁয় ১১ হাজার ২৬৩, জামালপুরে ৮ হাজার ৫৬৮, কুড়িগ্রামে ৯ হাজারের মতো। ইতোমধ্যে এসব কার্ড বাতিল করা হয়েছে।

যা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের আত্মীয়স্বজন, মৃত ব্যক্তি, সচ্ছল পরিবার, গ্রামে বসবাস করে না, আবার কারও নামের কার্ড থাকলেও সে ব্যক্তি জানে না এরকম ব্যক্তিদের নামের কার্ড। এসব কার্ডের বিপরীতে সরকারি সহায়তা দীর্ঘদিন দরে আত্মসাৎ করা হচ্ছিল। এসব কার্ড বাতিল করে নতুন করে আরও ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৮৫৫টি কার্ড প্রকৃত দরিদ্রদের নামে করা হয়েছে। রংপুর ও শেরপুরে নতুন করে তালিকা করা হচ্ছে।

সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার ঘোরজান ইউনিয়নের চরজাজুরিয়া গ্রামের শ্রমিক পিয়াস। তার ‘খাদ্যবান্ধব’ কর্মসূচির (১০ টাকা কেজি দরের চাল) কার্ড নম্বর-৫৫৩। বাস্তবে এই নামে কোনো ব্যক্তি নেই ওই গ্রামে। ২০১৬ সাল থেকে এই নামে চাল তুলছেন সংশ্লিষ্ট ডিলার আবদুস সালাম। সরকারি ওয়েবসাইটে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির তালিকায় পিয়াসের নামের পাশে একটি মোবাইল ফোন নম্বর দেয়া আছে। ওই নম্বরে ফোন করলে ধরেন একটি বেসরকারি ব্যাংকের এক কর্মকর্তা। যিনি ঘোরজান ইউনিয়নের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার আবদুস সালামের ফুপাতো ভাই।

জানতে চাইলে ওই ব্যাংক কর্মকর্তা জানান, তার গ্রামের বাড়ি চৌহালী সদরে। ঘোড়জান ইউনিয়নের ডিলার আবদুস সালাম তার মামাতো ভাই। তিনিই হয়তো তার মোবাইল ফোন নম্বরটি ওই তালিকায় দিয়ে থাকতে পারেন। কারণ সালামের কাছেই তার মোবাইল নম্বর আছে। গত দুই বছর তিনি এলাকায় যাননি বলেও জানান। পিয়াসের মতো একই ইউনিয়নের রেহাইকাউলিয়া গ্রামের গোলাম মোস্তফার কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। তালিকায় দেয়া তার মোবাইল ফোন নম্বরে কল দিলে বলছে ‘নম্বরটি আর ব্যবহার হচ্ছে না’।

শুধু ঘোরজান ইউনিয়নেই খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির তালিকায় প্রবাসী, সচ্ছল ও অস্তিত্বহীন প্রায় একশ মানুষের নাম রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করতে চৌহালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাকে চিঠি দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ঘোরজান ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. রমজান আলী।

সিরাজগঞ্জের মতো ভুয়া কার্ডের ছড়াছড়ি রয়েছে রংপুরেও। জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার ময়েনপুর ইউনিয়নের এরশাদুল ও গোলাম মোস্তফা কাজের সুবাদে পরিবার নিয়ে ঢাকায় থাকেন। খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির সুবিধাভোগী হিসেবে তাদের নামেও একটি করে কার্ড ছিল, যা তারা জানতেন না। তবে কার্ডের বিপরীতে আসা খাদ্য সহায়তা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা দীর্ঘদিন ধরে নিজেরাই ভোগ করছিলেন। সম্প্রতি সরকারি তদন্তে উঠে এসেছে এমন তথ্য।

খাদ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক সারোয়ার মাহমুদ  বলেন, ‘খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির কয়েক লাখ ভুয়া কার্ড বাতিল করা হয়েছে। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে উপজেলা কমিটি প্রকৃত গরিবদের নামে নতুন করে কার্ড ইস্যু করছে।’

 

 

পূর্ববর্তি সংবাদনির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মালির বিদ্রোহী সেনারা
পরবর্তি সংবাদমাদারীপুরে স্কুল খোলার দাবিতে মানববন্ধন