মুহাম্মাদ আদম আলী।।
তুরস্কে কয়েকবার যাওয়া হয়েছে। প্রথমবার প্রফেসর হযরত মুহাম্মাদ হামিদুর রহমান সাহেবের সঙ্গে গিয়েছিলাম। সেবারের মতো অনুভূতি দ্বিতীয়বার আর হয়নি। সৌন্দর্যের অনেক কিছুই দেখা অপূর্ণ ছিল। কিন্তু কোনো আফসোস ছিল না। কেবলই মনে হয়েছে, এত কাছের মানুষ―প্রফেসর হযরতকেই তো এখনো ভালো করে দেখা হলো না!
একটা মানুষকে এত কী দেখার আছে? চব্বিশ ঘণ্টা একই সঙ্গে আছি। আমার মতোই মানুষ। দিন-রাত একইরকম। পাশাপাশি―কাছাকাছি, প্রায় একই কাজে সময় পার করছি। তবু দেখা শেষ হয় না। অন্তরের রাজ্য বড় বিচিত্র―না তাকে দেখা যায়, না ছোঁয়া যায়!
শায়েখ তো অনেক নসীহতই করেন। ধারণ করে ক’জন? শায়েখের কথায় বরকত থাকে। এ বরকত সবার ভাগ্যে জুটে না। প্রফেসর হযরত এ বরকত নিজের চোখে দেখেছেন। একবার হাফেজ্জী হুযুর রহ. তাকে বললেন, ‘চোখের গুনাহ থেকে বাঁচেন।’ সঙ্গে সঙ্গে তিনি শায়েখের এই কথাকে নিজের জীবনের ব্রত বানিয়ে নিলেন। শুরু হলো জীবনের নতুন অধ্যায়। বাড়িতে ফুফাতো বোন ছিল। তাকে দিয়েই শুরু হলো নযরের হেফাজত। তিনি যেই বাহ্যিক চোখের গুনাহ থেকে বাঁচতে শুরু করলেন, আর তখনই তার অন্তর চক্ষুর পর্দা উন্মোচিত হতে লাগল। এমন অন্তরের সঙ্গে সখ্যতার দাবি করা যায়, পরিচ্ছন্ন হৃদয় না হলে সেই সখ্যতার স্বাদ পাওয়া যায় না।
আরেকবার কি এক ঘটনায় হাফেজ্জী হুযুর রহ. বললেন, ‘মানুষের মধ্যে খোবি দেখন চাই।’ এতে প্রফেসর হযরত যেন আরেক হীরক খণ্ডের সন্ধান পেলেন। এই একটা কথা যে ধারণ করতে পারে, তার চেয়ে উন্নত মানুষ কেউ হতে পারে না। প্রফেসর হযরত দ্রুত ছাড়িয়ে গেলেন অনেককেই। শত্রুকেও তিনি ভালোবেসে সেবা করতে শিখে গেছেন। চরম ধৈর্যের পরীক্ষায় সহজেই উতরে গেছেন। এজন্য অবাধ্য পণ্ডিতরাও তাকে সমীহ করে। বিরুদ্ধবাদীরাও তাকে শ্রদ্ধা করে। এমন মানুষ এখন খুব কমই পৃথিবীতে বেঁচে আছেন!
















