পৌনে ৫ ঘন্টা জবানবন্দি শেষে কারাগারে পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকত

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মকর্তা মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলার প্রধান আসামি, টেকনাফের বাহারছড়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের বহিষ্কৃত পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকত আলী আদালতের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

আজ রোববার সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নীচতলায় অবস্থিত কক্সবাজার সদর জ্যৈষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালত-৪ এর বিচারক তামান্না ফারাহ’র খাস কামরায় জবানবন্দি দিতে নেওয়া হয় লিয়াকত আলীকে। প্রায় চার ঘণ্টা ৪৫ মিনিট লিয়াকত আলীর জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন বিচারক। বিকেলে প্রিজনভ্যানে করে তাকে কক্সবাজার জেলা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও র‌্যাব-১৫ কক্সবাজারের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার খাইরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ‘সিনহা হত্যা মামলার মূল আসামি র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদের অনেক কিছু স্বীকার করেছেন। এ কারণে তাকে আদালতে আনা হয়েছে। আমি আশা করি আসামি লিয়াকত সব সত্য আদালতের কাছেও স্বীকার করবে।’

এর আগে রবিবার দুপুরে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর লিয়াকত আলীকে সরাসরি আদালতে নিয়ে আসে র‌্যাবের একটি দল।

শুক্রবার উক্ত মামলায় তৃতীয় দফায় বরখাস্ত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, ইন্সপেক্টর লিয়াকত আলী, এএসআই নন্দদুলাল রক্ষিতের তৃতীয়বারের মতো তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। তৃতীয় দফায় তিনের রিমান্ড মঞ্জুরের একদিন পরই আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন লিয়াকত।

মেজর সিনহা নিহতের ঘটনায় আত্মসমর্পণের পর গত ৬ আগস্ট ওসি প্রদীপ, লিয়াকত ও নন্দদুলালসহ সাত পুলিশের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। এরপর সাত দিনের রিমান্ড শেষে দ্বিতীয় দফায় ২৪ আগস্ট আরো সাত দিনের রিমান্ড চেয়েছিল র‌্যাব। আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। ওই চার দিন রিমান্ড শেষ হলে তদন্তের স্বার্থে তৃতীয় দফায় আরো চার দিনের আবেদন করা হলে শুক্রবার আদালত তাদের তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

গত ৩১ জুলাই রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকত আলীর গুলিতে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান। ঘটনার পর পুলিশ বাদী হয়ে টেকনাফ থানায় দুটি ও রামু থানায় একটি মামলা করে।

মামলায় এ পর্যন্ত সাত পুলিশ সদস্য, এপিবিএনের তিন সদস্য ও টেকনাফ পুলিশের করা মামলার তিন সাক্ষীসহ ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। এর মধ্যে এপিবিএনের তিন পুলিশ সদস্য পৃথকভাবে বুধ ও বৃহস্পতিবার আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। এরপর এ তিন পুলিশ সদস্য কারাগারে রয়েছেন।

পূর্ববর্তি সংবাদহাইআতুল উলয়ার তাকমীল পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ
পরবর্তি সংবাদস্বামীকে বেঁধে স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার ৪