ইসলাম টাইমস ডেস্ক: ভারতের পেঁয়াজ আমদানি বন্ধের পর পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে বিকল্প ৭৯ হাজার ৩৯০ টন পেঁয়াজ আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্র থেকে ৩-১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২১৭টি আমদানি অনুমতিপত্রের (আইপি) বিপরীতে এসব পেঁয়াজ আসছে।
চীন, তুরস্ক, মিশর, মিয়ানমার, পাকিস্তান, নেদারল্যান্ডস ও নিউজিল্যান্ড থেকে পেঁয়াজগুলো আনা হবে জাহাজে।
গতকাল বৃহস্পতিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বিভিন্ন দেশ থেকে জরুরি ভিত্তিতে পেঁয়াজ আমদানির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যেই পর্যাপ্ত পেঁয়াজ দেশে আসবে। আগামী এক মাসের মধ্যে পেঁয়াজের বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে। সরকারের অন্যান্য পদক্ষেপে পেঁয়াজের দাম কমতে শুরু করেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভারতকে পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রস্তাব দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আমদানি করা পেঁয়াজ বন্দর থেকে দ্রুত ছাড় ও আগামী মার্চ পর্যন্ত শুল্ক্ক কমাতে এনবিআরকে চিঠি দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। কৃষি মন্ত্রণালয় পেঁয়াজ আমদানিতে দ্রুত সনদ ইস্যু করতে উদ্ভিদ সংগনিরোধ শাখাকে নির্দেশনা দিয়েছে। দেশের পেঁয়াজ উৎপাদনকারী জেলা ফরিদপুর, পাবনা, রাজবাড়ী, রাজশাহী, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোরসহ সব জেলা প্রশাসককে সরবরাহ ঠিক রাখতে মনিটরিং জোরদারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ পরিস্থিতি পরিদর্শন ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ৩ জন যুগ্ম সচিবকে এসব জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও প্রতিটি বন্দরে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বাজার মনিটরিং জোরদার করতে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসকদের চিঠি দিয়েছেন। পেঁয়াজ আমদানিকারকদের এলসি খোলাসহ সার্বিক সহযোগিতা দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে চিঠি দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপ-পরিচালক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বুলবুল বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) জানান, আজ ২১ হাজার ৯১১ টন পেঁয়াজ আমদানির জন্য ৬৭টি আমদানি অনুমতিপত্র ইস্যু করেছি আমরা। পেঁয়াজ আমদানিতে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারের নানা প্রণোদনার কারণে ব্যবসায়ীরা উৎসাহী হচ্ছেন।
একজন আমদানিকারক জানিয়েছেন, পচনশীল পণ্য হওয়ায় যত দ্রুত সম্ভব রেফার কনটেইনারে পেঁয়াজ আনার চেষ্টা চলছে। পরিমাণ বেশি হলে হিমাগার সুবিধা আছে এমন কার্গো জাহাজে চট্টগ্রাম বন্দরে পেঁয়াজ আনা হবে। যদি ‘কস্ট অব ডুয়িং বিজনেস’ অনুকূলে থাকে তবে চাহিদা অনুযায়ী পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত রাখা হবে।
জানা যায়, বিভিন্ন দেশ থেকে পেঁয়াজ আনার সব উদ্যোগ নিয়েছেন আমদানিকারকরা। মিয়ানমার থেকে ৫০০ টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি নিয়েছে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ ট্রেডিং। পাকিস্তান থেকে আরও ৫০০ টন পেঁয়াজ আনবে এ প্রতিষ্ঠান। চট্টগ্রামের বকশিরহাটের ট্রেডলিংক মিসর থেকে এক হাজার টন, আবুল বাশার অ্যান্ড সন্স ৫০০ টন, আমদানিকারক জিয়াউর রহমান পাকিস্তান থেকে ৫০০ টনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি নিয়েছে।
মিসর, চীন, নেদারল্যান্ডস, পাকিস্তান, মিয়ানমারসহ সাতটি দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতিপত্র ইস্যু করা হয়েছে। ভারত রপ্তানি বন্ধের পরদিনই সবচেয়ে বেশি আবেদন করেন ব্যবসায়ীরা। গত মঙ্গলবার এক দিনে প্রায় ৩০ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়। এর পর থেকে অসংখ্য আবেদন আসছে। এসব আবেদনের ভিত্তিতে নিয়মিত অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।
ভারত থেকেই ৯০ শতাংশ পেঁয়াজ আমদানি হয়ে থাকে। কারণ পাশের দেশ, আমদানি ব্যয়ও কম। আর প্রথম বিকল্প দেশ হচ্ছে মিয়ানমার। গত বছর দেশে অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির সময়ে টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে মিয়ানমার থেকে প্রচুর পেঁয়াজ আমদানি করা হয়। কিন্তু এবার করোনার কারণে টেকনাফ স্থলবন্দর বন্ধ রয়েছে। এ অবস্থায় সিঙ্গাপুর হয়ে পেঁয়াজ আনতে হবে বলে জানান ব্যবসায়ী রাকিব হোসেন। তিনি বলেন, সিঙ্গাপুর দিয়ে পেঁয়াজ আনতে গুনতে হবে বাড়তি খরচ। এ ছাড়া অন্য দেশ থেকে আমদানিতেও খরচ বেশি পড়বে। তবে আমদানি পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়লে দাম কমে আসবে বলে মনে করেন তারা।
এদিকে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরসহ দেশব্যাপী স্থানীয় প্রশাসনের নেতৃত্বে পেঁয়াজের বাজারে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। গতকালও অধিদপ্তরের অভিযানে রাজধানীর পাইকারি বাজারের ৮টি আড়তে ৭২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এতে বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
দেশে পেঁয়াজের মূল্য ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে টিসিবির মাধ্যমে ৩০ টাকা কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। এই পেঁয়াজ বিক্রি আগামী মার্চ পর্যন্ত চলবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় টিসিবির মাধ্যমে এবার ব্যাপক পেঁয়াজ আমদানি ও বিক্রি করবে। অনলাইনেও টিসিবির পেঁয়াজ পাওয়া যাবে। পেঁয়াজের অবৈধ মজুদ বা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দাম বড়ানোর চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানায় মন্ত্রণালয়।
















