ইসলাম টাইমস ডেস্ক: শুরু থেকেই নারীর বিরুদ্ধে ব্যাপক যৌন উস্কানি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে ভারতের চলচ্চিত্র জগতের বিরুদ্ধে। আন্তর্জাতিকভাবেও ভারতে ধর্ষণ ও নারী সহিংসতার জন্য দায়ী করা হয় ভারতের চলচ্চিত্র বা ফিল্ম ইন্ড্রাস্ট্রিকে। চলচ্চিত্রের রঙিন জগতের পেছনে যে তিমির অন্ধকার ছেয়ে আছে, তা কখনো কখনো সিন্ডিকেটের শেকল ভেঙ্গে চলে আসে সংবাদমাধ্যমে। বলাবাহুল্য মি-টু আন্দোলনের যাত্রাও শুরু হয়েছে বিশ্বব্যাপী চলচ্চিত্র অঙ্গন থেকেই।
ভারতের প্রভাবশালী পত্রিকা আনন্দবাজারের তথ্যমতে, এবার ভারতীয় চলচ্চিত্র পরিচালক অনুরাগ কশ্যপের বিরুদ্ধে ধর্ষণ এবং শ্লীলতাহানির অভিযোগে মুম্বইয়ের ভারসোভা থানায় এফআইআর দায়ের করেছেন অভিনেত্রী পায়েল ঘোষ।
মঙ্গলবার পায়েলের আইনজীবী সংবাদমাধ্যমকে জানান, ভারতীয় সংবিধানের ৩৭৬, ৩৫৪, ৩৪১ এবং ৩৪২ ধারা অনুযায়ী অনুরাগের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে।
গত শনিবার বাঙালি অভিনেত্রী পায়েল ঘোষ টুইটারে প্রধানমন্ত্রীকে ট্যাগ করে একটি পোস্ট করেন। পায়েল লেখেন, পাঁচ বছর আগে নিজের বাড়িতে তাঁকে যৌন হেনস্থা করেন অনুরাগ। ওই অভিনেত্রী এ-ও অভিযোগ করেন, কুপ্রস্তাব দেওয়ার পর পায়েল তা প্রত্যাখান করায় অনুরাগ ‘অশালীন’ শব্দ ব্যবহার করে বলেছিলেন, ‘একটা ফোন করলেই হুমা, রিচা এবং মাহি চলে আসবে।”
তবে পরিচালক অনুরাগ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার বিরুদ্ধে যত অভিযোগ আনা হয়েছে, সব ভিত্তিহীন।
এ বিষয়ে একটি বিবৃতিও জারি করে অনুরাগ বলেন, “#মিটু আন্দোলনের গুরুত্বকে লঘু করতেই এ ধরনের অভিযোগ তোলা হচ্ছে। এটা খুবই দুঃখজনক একটা বিষয় যে #মিটু-র মতো একটা গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলনকে ব্যক্তিস্বার্থে ভোঁতা করে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। বিষয়টিকে ব্যক্তি আক্রমণে নামিয়ে আনা হচ্ছে।”
অনুরাগ আরও বলেন, “এ ধরনের মনগড়া অভিযোগের ফলে আন্দোলনের গুরুত্বটা যেমন লঘু হয়ে যাচ্ছে, তেমনই যাঁরা সত্যিই যৌন হেনস্থার শিকার হচ্ছেন তাঁদের আবেগ নিয়ে খেলা হচ্ছে।”
পায়েল তাঁর টুইটে যে তিন বলি অভিনেত্রী অনুরাগের ‘লালসার শিকার’ হয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন সেই তিন অভিনেত্রী অর্থাৎ হুমা কুরেশি, রিচা চাড্ডা এবং মাহি গিল গোটা ঘটনায় অনুরাগেরই পক্ষ নিয়েছেন। তিন জনেই একই সুরে বলেছেন, অনুরাগের কাছ থেকে কোনও রকম খারাপ ব্যবহার তাঁরা পাননি।
প্রথমে মাহি গিল এবং পরে রিচা চাড্ডা অনুরাগের হয়ে পাশে দাঁড়ান। আর মঙ্গলবার অনুরাগের হয়ে মুখ খোলেন হুমা। ‘অনুরাগ কখনও এ সব বলতে পারেন না’, রবিবার এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্টতই জানিয়ে দেন মাহি। অন্য দিকে, ইনস্টাগ্রামে রিচার আইনজীবী সবিনা বেদী সচার জানান, অনুরাগের যৌন হেনস্থার প্রসঙ্গে তাঁর মক্কেলের নাম অন্যায় ভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। এমন কোনও ঘটনা আদৌ ঘটেনি। তবে রিচা বিশ্বাস করেন যিনি কাজের জায়গায় বা অন্যত্র যৌন হেনস্থার শিকার হয়েছেন, তাঁর বিচার পাওয়া উচিত। রিচার আইনজীবী জানান, পায়েল ঘোষের বিরুদ্ধে তাঁর মক্কেল আইনি ব্যবস্থা নেবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
















