স্বাস্থ্যকর খাবার ও ব্যায়ামের উপকারিতা

আবু ইমাম ।।

জীবন যেমন আল্লাহ তাআলার অনেক বড় দান, তেমনি সুস্বাস্থ্যও কুদরতের অমূল্য উপহার। জীবনের হাসি আনন্দ থেকে পুরোপুরি উপকৃত হওয়ার জন্য সুস্থতার প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। প্রকৃতপক্ষে একজন সুস্থ মানুষই পারে আল্লাহ তাআলার দেওয়া নেয়ামতরাজি থেকে পুরোপুরি আস্বাদ গ্রহণ করতে। কেউ একজন যথার্থ বলেছেন, স্বাস্থ্যই সুখের মূল।

কুদরতি ব্যবস্থাপনা আমাদের স্বাস্থ্যকে সুরক্ষা দিতে এবং আমাদের দেহকে যৌক্তিক সময় পর্যন্ত টিকিয়ে রাখতে আমাদের শরীরে এমন স্বয়ংক্রিয় সিস্টেম সেট করে দিয়েছে, যা নিয়ে চিন্তা করলে মানুষের মস্তিষ্ক হতভম্ব হয়ে যায়।

মানবদেহে রোগব্যাধি এবং  সুস্থতার এক অনিঃশেষ ধারাক্রম সবসময় এবং প্রতি মুহূর্তে ক্রিয়াশীল। মানুষের দেহের ভেতর একটি স্বয়ংক্রিয় রোগপ্রতিরোধ শক্তি সবসময় কাজ করে যেতে থাকে। যা আমাদের দেহের অভ্যন্তরে সৃষ্ট অসংখ্য রোগবালাইকে নিজে নিজেই ধ্বংস করে দেয়। উদাহরণস্বরূপ, আমাদের মুখে প্রতিদিন এমন অসংখ্য জীবাণু সৃষ্টি হয় যা বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ  বিশেষকরে আমাদের হার্টের পক্ষে মারাত্মক ক্ষতিকর। কিন্তু যখন কোনো ব্যক্তি দ্রুত হাটাচলা করে এবং দ্রুত শ্বাসপ্রশ্বাস গ্রহণ করতে তার মুখ খোলে তখন এর ওসিলায় অগণিত ক্ষতিকর জীবাণু ধ্বংস হয়ে যায়। অর্থাৎ প্রয়োজনীয় ব্যায়ামের মাধ্যমে আমাদের শরীর নানাভাবে উপকৃত হয়। যা সাধারণভাবে আমরা উপলব্ধি করতে পারি না।

গবেষণায় দেখা গেছে,  বয়স যত বাড়তে থাকে মানুষের শিরাগুলো ততই কঠিন হতে থাকে। যার ফলে শরীরের শিরাগুলোয় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি আরম্ভ হয়। শিরা কঠিন হয়ে যাওয়ার কারণেও মানুষ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে যেতে পারে। হালকা ধরনের ব্যায়াম ও শরীরচর্চা দ্বারা শিরা-উপশিরা নরম  আর মস্তিষ্ক পরিচ্ছন্ন হয় তা-ই নয়; বরং এটি রগসমূহকে আরো বেশি প্রশস্ত হওয়ার উপযুক্ত করে দেয়। এজন্য যথাযথ ব্যায়ামকে জীবনের অভ্যাস বানিয়ে নেওয়া উচিত। অধিক বয়স্ক মানুষের জন্য ঘরের মধ্যে হাঁটাচলার মধ্যে থাকাই যথেষ্ট হতে পারে।

প্রতিটি মানুষ চায়, সে এবং তার প্রিয়জনেরা সুস্থ-স্বাভাবিক জীবন যাপন করুক। সুস্থ জীবন যাপন করার জন্য অন্যান্য অনেক করণীয়র পাশাপাশি ভালো এবং বিশুদ্ধ খাবার গ্রহণ করাও অত্যন্ত জরুরি। অতএব এমন খাবার প্রাত্যহিক জীবনের অংশ বানানো উচিত, যার মধ্যে ভরপুর পুষ্টি থাকে। মানবদেহের উত্তম বর্ধনের জন্য প্রতিদিন পানি, প্রোটিন, কর্বোহাইড্রেস, ভিটামিন এবং মিনারেলসের প্রয়োজন হয়। তাই চেষ্টা করা উচিত  এমন খাবার গ্রহণ করা, যা স্বাস্থ্য সুরক্ষার নিয়ম অনুযায়ী প্রস্তুত করা হয়।

উত্তম স্বাস্থের জন্য যদি কিছু মৌলিক বিষয় মাথায় রেখে জীবন যাপন করা হয় তাহলে মানুষ অনেক বিপদ থেকে রক্ষা পেতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, মানব স্বাস্থের উন্নতির জন্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অনেক গুরুত্ব রয়েছে। খাবার-দাবারের নিয়মতান্ত্রিকতা, কাজ এবং বিশ্রামে ভারসাম্য রক্ষা এবং স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ মানুষের স্বাস্থের পক্ষে অত্যন্ত উপকারী সাব্যস্ত হতে পারে।

স্বাস্থকর খাবারের মানে কক্ষনো এটা নয় যে, মানুষ প্লেট ভরে ভরে খাবার খাবে, নিঃশ্বাসের কোনো জায়গা থাকবে না। অনেক মানুষ গোশতের প্রতি অতিরিক্ত মনোযোগ দিয়ে থাকেন। অথচ সপ্তাহে গরুর গোশতের একটি বার্গার অথবা মাসে এক শিক পরিমাণ গোশত মানুষের শরীরের জন্য যথেষ্ট মনে করা হয়। সপ্তাহে একবার কিছু পরিমাণ মাছ-মুরগীও খেতে পারেন। এর বাইরে দেহের জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিনের বাকি অংশ সবজি দ্বারা পূর্ণ করা উচিত। ফল এবং শাক-সবজি আমাদের খাবারের অপরিহার্য অংশ হওয়া উচিত। আল্লাহ তাআলা আমাদের জন্য বিচিত্র যেসব ফলমূল উদ্গত করেছেন, সেগুলের যথাযথ ব্যবহার মানবস্বাস্থ্যকে টিকিয়ে রাখতে খুবই উপকারী। এজন্য কোনো একটি বস্তুর বেশি বেশি ব্যবহারের পরিবর্তে নানান জাতের খাবার গ্রহণ করা উচিত। যাতে শরীর তার প্রয়োজন অনুযায়ী পুষ্টি অর্জন করে।

এক গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষের জন্য ফাইবার সমৃদ্ধ খাদ্য খুবই উপকার বয়ে আনে। গবেষকদের মতে, মানুষের খাবারের তালিকায় প্রতিদিন ২৫ গ্রাম ফাইবার থাকা চাই। ৩০ গ্রাম ফাইবার থাকলে বেশি ভালো। ফাইবার কুদরতিভাবে হার্ট এটাক,  প্যারালাইসিস এবং ডায়বেটিসের মতো রোগগুলোর আশংকাকে কমিয়ে দেয়। এর মাধ্যমে অতিরিক্ত ওজন, ব্লাড প্রেশার এবং কোলেস্টোরলের মাত্রাও নিয়ন্ত্রণে থাকে।

ফাইবার আমরা ফলমূল, শাকসবজি, ব্রেড, খোসা বিশিষ্ট আনাজ-তরকারি দ্বারা তৈরি পাস্তা, ডাল, ছোলা, মিষ্টিফল এবং বীজ থেকে গ্রহণ করতে পারি। সাধারণ সাইজের একটি কলার মধ্যে সাধারণত ৩ গ্রাম ফাইবার থাকে। আর আধা কাপ জবের মধ্যে ৯ গ্রাম, এক কাপ রান্না করা ডালে ৪ গ্রাম, চামড়াসহ রান্না করা আলুতে ২  গ্রাম, একটি গাজরে ৩ গ্রাম, চামড়াসহ আপেলে ৪ গ্রাম ফাইভার থাকে।

শুধু শরীরের সঙ্গেই নয়, আমাদের স্বাস্থ্যের সম্পর্ক রয়েছে মানসিক অবস্থার সঙ্গেও। রাগ এবং নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে না পারা মানবদেহের জন্য ক্ষতিকারক। এজন্য নিজেদের অন্তর্জগতকেও পবিত্র রাখার চেষ্টা করা চাই। হিংসা যেভাবে নেকীসমূহকে ধ্বংস করে দেয়, তেমনি মানুষের শরীরেরও ক্ষতিসাধন করে। এজন্য উত্তম আখলাক, সুন্দর আচরণ ও মানসিকতা অবলম্বন করা, একইসঙ্গে মন্দ আখলাক, খারাপ অভ্যাস থেকে বেঁচে থাকা মানুষের স্বাস্থ্য এবং  আত্মার জন্য দারুণ উপকার বয়ে আনে।

পবিত্র এবং উৎকৃষ্ট খাদ্যগ্রহণের ফলে দেহে পবিত্র এবং খাঁটি রক্ত তৈরি হয়। যার মাধ্যমে মানুষের চিন্তা-ভাবনা এবং ইচ্ছাশক্তিতেও পবিত্রতার জন্ম হয়। যার প্রভাব পড়ে মানুষের আত্মায়ও।

অতএব, নিজেদের আত্মার পবিত্রতা এবং দেহের সুস্থতার জন্য পবিত্র খাদ্য গ্রহণ করুন। নিজেদের চিন্তা, ইচ্ছা এবং অন্তর্জগতে উত্তম এবং ইতিবাচক সিদ্ধান্তকে স্থান দিন। যাতে আমাদের দেহ এবং আমাদের আত্মা পবিত্র হতে পারে।

পূর্ববর্তি সংবাদস্বাধীনতাবিরোধী ট্যাগ দিয়ে ধর্ষণের বৈধতা দানকারীদের বিরুদ্ধে গণআন্দোলন গড়ে তুলতে হবে: নুর
পরবর্তি সংবাদআগামী সোম-মঙ্গলবারের মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হবে: শিক্ষামন্ত্রী