ইসলাম টাইমস ডেস্ক: ভারতের উত্তর প্রদেশের হাথরসে এক দলিত নারীকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় প্রতিবাদ জানাতে তার বাড়িতে যাওয়ার পথে ১৪৪ ধারা ভাঙ্গার অভিযোগে ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস (আইএনসি) নেতা রাহুল গান্ধীকে গ্রেফতার করেছে রাজ্য পুলিশ।
প্রথমে দেয়া হলো গলাধাক্কা। উত্তরপ্রদেশ পুলিশের এ ধাক্কায় মাটিতে পড়ে যান কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধীর ছেলে রাহুল গান্ধী। তারপর করা হলো গ্রেফতার।
তার আগে পথের মধ্যেই পুলিশের সাথে রাহুলের তর্কাতর্কি শুরু হয়। কর্তব্যরত পুলিশ অফিসার রাহুলকে বলেন, ‘আপনি ১৪৪ ধারা ভাঙছেন।’ রাহুল পাল্টা বলেন, ‘১৪৪ ধারার অপব্যবহার করছেন আপনারা।’
গণধর্ষণ ও নির্মম অত্যাচারে এক দলিত তরুণীর মৃত্যুর প্রতিবাদ জানাতে এ দিন প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ কংগ্রেস নেতা-নেত্রীদের প্রতিনিধি দলের একটি কনভয় হাথরসের পথে রওনা হয়। মাঝপথে তাদের প্রথমে আটকে দেয়া হয়। কিন্তু নাছোড় রাহুল-প্রিয়াঙ্কাও। তারা স্থানীয় নেতা-কর্মীদের সাথে হেঁটেই রওনা দেন হাথরসের দিকে। রাহুল-প্রিয়াঙ্কার সাথে ছিলেন বহরমপুরের কংগ্রেস সাংসদ তথা লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতা অধীর চৌধুরীও। দিল্লি-উত্তরপ্রদেশ হাইওয়ের উপরেই তাদের কনভয় আটকে দেয়া হয়।
ये लड़ाई न्याय की है, भाजपाई गोली- लाठी से नहीं रुकेगी।
ये लड़ाई देश बेटियों के लिए है, अहंकारी भाजपा के धक्कों से नहीं रुकेगी।कांग्रेस का इतिहास न्याय के लिए सीने पर लाठी-गोली झेलने का रहा है। गर्व है कि श्री @RahulGandhi उस परम्परा को निभा रहे हैं।#JusticeForIndiasDaughters pic.twitter.com/Q9BcUcxTOv
— Congress (@INCIndia) October 1, 2020
আগে থেকেই রাহুল-প্রিয়াঙ্কা ঘোষণা করেছিলেন হাথরসে যাওয়ার কথা। কিন্তু আজ বৃহস্পতিবার ১৪৪ ধারা জারি করে যোগী সরকার। তাতেও কর্মসূচি বাতিল করেননি কংগ্রেস নেতা-নেত্রীরা। রাহুল-প্রিয়াঙ্কার কনভয় গ্রেটার নয়ডায় আসতেই আটকে দেয়া হয়। সেখানে গাড়ি থেকে নেমে উত্তরপ্রদেশ-দিল্লি হাইওয়ে ধরে হাঁটতে শুরু করেন তারা। রাহুল-প্রিয়াঙ্কাকে যেখানে আটকানো হয়েছে, সেখান থেকে হাথরসের দূরত্ব প্রায় ১৪০ কিলোমিটার।
উত্তরপ্রদেশ পুলিশের অজুহাত, কোভিডের কারণেই রাজ্যে নিয়ন্ত্রণ জারি রয়েছে। সেই কারণেই রাহুল-প্রিয়াঙ্কার কনভয় আটকানো হয়েছে। এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ আটকাতে ১ সেপ্টেম্বর থেকে রাজ্যে প্রবেশের উপর নিয়ন্ত্রণ জারি করা হয়েছিল। সেই নিয়ন্ত্রণ বাড়িয়ে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত করা হয়েছে। তার দাবি, রাজ্যে বহু পুলিশকর্মী করোনায় আক্রান্ত।
গণধর্ষণ ও নির্মম অত্যাচারে হাথরসে দলিত তরুণীর মৃত্যুর ঘটনায় ভারতজুড়ে তোলপাড় চলছে। ফের জীবন্ত হয়ে উঠেছে ২০১২ সালে নির্ভয়া গণধর্ষণ কাণ্ডের স্মৃতি। ইতিমধ্যেই দেশের একাধিক জায়গায় হাথরসের ঘটনাকে সামনে রেখে বিক্ষোভ-প্রতিবাদে নেমেছে বিরোধী দলগুলো। বুধবার মুম্বাইতে মোমবাতি মিছিল করেন কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকরা। বৃহস্পতিবার কলকাতাতেও একটি প্রতিবাদ বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়েছে। সেই আন্দোলন আরো জোরদার করতেই হাথরস যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন দুই কংগ্রেস নেতা-নেত্রী।
অন্যদিকে ঘটনার তীব্র নিন্দা করে যোগী সরকার তথা বিজেপির বিরুদ্ধে ধারালো আক্রমণ শানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিও। তিনি টুইট করেছেন, ‘হাথরসের দলিত তরুণীকে ঘিরে এই বর্বর এবং লজ্জাজনক কাণ্ডের নিন্দার কোনো ভাষা নেই। নির্যাতিতার পরিবারকে গভীর সমবেদনা জানাই। আরো লজ্জাজনক ঘটনা হলো, পরিবারের কারো অনুমতি এবং উপস্থিতি ছাড়াই তরুণীর দেহ সৎকার করে দেয়া। যারা শুধু ভোটের জন্য স্লোগান দেয় আর লম্বাচওড়া প্রতিশ্রুতি দেয় তাদের আসল চেহারাটা সামনে এনে দিচ্ছে এ ঘটনা।’
হাথরসের জেলাশাসক পি লস্কর সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে আগেই জানিয়েছিলেন, রাহুল- প্রিয়াঙ্কার সফরের কোনো খবর তাদের কাছে নেই। তিনি আরো বলেছেন, ‘অপ্রীতিকর পরিস্থিতি’ এড়াতে জেলার সীমানা সিল করে দেয়া হয়েছে এবং এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। ঘটনার তদন্তে যে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করা হয়েছে, তার সদস্যরা এদিন নিহত তরুণীর পরিবারের সাথে দেখা করবেন বলে জানিয়েছেন লস্কর।
সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা
















