ঠাকুরগাঁওয়ে স্বামীর নির্যাতনে অন্তঃসত্ত্বার মৃত্যু

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: ঠাকুরগাঁওয়ে স্বামীর নির্যাতনে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা নারী পারভীন আক্তার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। অমানবিক এ ঘটনায় স্বজন ও এলাকাবাসী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

বাবার বাড়ি বেড়াতে গিয়ে স্বামী বলার একদিন দেরি করে শ্বশুরবাড়িতে ফেরায় কাল হয় ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার মালঞ্চা গ্রামের সফিকুল ইসলামের মেয়ে পারভীন আক্তারের। কোনোকিছু বুঝে উঠার আগেই সদর উপজেলার রহিমানপুর ইউনিয়নের পল্লীবিদ্যুৎ এলাকার দারাজ আলীর ছেলে স্বামী নুর ইসলাম ঘরের ছিটকিনি লাগিয়ে শারীরিক নির্যাতনের পর রড় দিয়ে পিটিয়ে দু-হাত-পা ভেঙে দেয় গৃহবধূ পারভীনের। পরে স্থানীয়রা ঘরের দরজা ভেঙে রক্তাক্ত অবস্থায় ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।

চিকিৎসা শেষে দুদিন আগে বাড়ি ফিরে এলেও পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে স্বজনরা গতকাল বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর)  দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেলে ভর্তি করলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ দিন পর মারা যায় সে। স্বামীর এমন অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে গৃহবধূ ও ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা শিশুকেও হত্যা করায় কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না স্বজন ও এলাকাবাসী। নির্যাতনকারী নুর ইসলামের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।

সদর উপজেলার রহিমানপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান হান্নু জানান, স্বামীর নির্যাতনের স্বীকার হয়ে গৃহবধূ পারভীন চিকিৎসাধীন অবস্থায় দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেলে মারা গেছেন। ছাড়পত্র না পাওয়ায় লাশ এখনো নিয়ে আসা হয়নি। লাশ দাফন-কাফনে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে। পরিবারের সম্মতিতে নিহতের বাবার বাসা অথবা শ্বশুরবাড়ি এলাকায় শুক্রবার (২ অক্টোবর) লাশ দাফন কাফন সম্পূর্ণ করা হবে।

সদর থানার ওসি তানভিরুল ইসলাম জানান, এমন ঘটনা দুঃখজনক। এ বিষয়ে আইনের ধারা অনুযায়ী দ্রুত সময়ের মধ্যে পুলিশ রিপোর্ট দাখিল করা হবে। গত ১৭ সেপ্টেম্বর নির্যাতনের শিকার হয় পারভীন। পরে ১৯ সেপ্টেম্বর বাবা সফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে সদর থানায় মামলা দায়ের করলে পরবর্তীতে নির্যাতনকারী নুর ইসলামকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ।

পূর্ববর্তি সংবাদটাঙ্গাইলে সড়ক দুর্ঘটনায় পিকআপ চালক নিহত
পরবর্তি সংবাদপাবনায় জমি পাহারা দিতে গিয়ে লাশ হয়ে ফিরলেন কৃষক