এবার আর্মেনিয়ার দখলমুক্ত হল নাগানো-কারাবাখের জাব্রাইল প্রদেশ

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: আজারবাইজান সামরিক বাহিনী নাগানো-কারাবাখের গুরুত্বপূর্ণ জাব্রাইল প্রদেশ মুক্ত করেছে। স্থানীয় সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে তুর্কি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ তথ্য দিয়েছে। ডেইলি আল সাবাহ ও খবর প্রকাশ করেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, আর্মেনিয়ার দখলদারিত্ব থেকে বয়ুক মারক্যানলি, মারিলিয়ন ও সেবে গ্রামগুলোকে মুক্ত করা হয়েছে। পরে আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ তার সরকারি টুইটার অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তীব্রতর হচ্ছে যুদ্ধ, আরো এলাকা আজারবাইজানের নিয়ন্ত্রণে

যুদ্ধবিরতির আহ্বান উপেক্ষা করে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান। বাড়ছে হতাহতের সংখ্যা। হামলা নিয়ে দুই পক্ষের পাল্টা দাবিতে সঙ্কট আরো বাড়ছে। সপ্তাহ পেরুতে চললেও বিতর্কিত নাগার্নো-কারাবাখ নিয়ে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে লড়াই অব্যাহত রয়েছে। এরই মধ্যে ২৩০ জনের বেশি প্রাণ হারিয়েছেন।

এ দিকে বিতর্কিত কারাবাখের মাদাগিজ শহর দখল করে পতাকা উত্তোলন করেছে আজারবাইজানের সেনাবাহিনী। ওই শহরটি এক সময় আর্মেনিয়া দখল করে নিয়েছিল। গত শনিবার এক ঘোষণায় আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ এ কথা জানান। এক টুইট বার্তায় তিনি লেখেন, আজ (শনিবার) আজারবাইজানের সেনাবাহিনী মাদাগিজে আমাদের পতাকা উত্তোলন করেছে। মাদাগিজ আমাদের। কারাবাখ আজারবাইজানের। ইয়েলিশাফাক ও ডেইলি সাবাহ।

বিতর্কিত অঞ্চল নাগারনো-কারাবাখ নিয়ে গত সপ্তাহে বিরোধে জড়ায় দুই প্রতিবেশী দেশ আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান। এ দিকে আজারবাইজানি সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, আর্মেনিয়ানরা দখলকৃত আজারবাইজানীয় অঞ্চল ছেড়ে চলে যেতে শুরু করেছে। নাগারনো-কারাবাখের খবরেদি শহরের কেন্দ্রস্থলে জড়ো হয়ে আর্মেনিয়ার উদ্দেশে রওনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

গতকাল রোববার আজারবাইজান তাদের দ্বিতীয় বৃহৎ শহর গানজাতে আর্মেনিয়ার সেনাবাহিনী হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে। পাশাপাশি নাগারনো-কারাবাখের সীমান্তবর্তী তাদের আরো দু’টি শহরে গোলাবর্ষণের অভিযোগ করেছেন আজেরি প্রতিরক্ষামন্ত্রী। এতে দুই দেশের যুদ্ধ পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে মোড় নেয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

আজারবাইজানের এই দাবি অস্বীকার করেছে আর্মেনিয়া। তবে নাগারনো-কারাবাখে তাদের সমর্থিত আর্মেনিয়ানদের প্রধান আরাইক হারুতিউনইয়ান গানজা শহরে একটি বিমানঘাঁটিতে হামলার কথা স্বীকার করেছেন। আজারবাইজানের সামরিক বাহিনী নাগারনো-কারাবাখের প্রধান শহর স্টেপানকার্টে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে রকেট হামলা চালিয়েছে বলে পাল্টা অভিযোগ করেন তিনি।

এর আগে বিতর্কিত অঞ্চলটির একটি শহর ও সাতটি গ্রাম দখলে নেয়ার দাবি করে আজারবাইজন। অন্য দিকে নাগারনো-কারাবাখে বসবাসরত আর্মেনীয়দের সুরক্ষায় সব ধরনের উপায় ব্যবহার করা হবে বলে জানিয়েছে আর্মেনিয়া। আজারবাইজানের তিনটি বিমান ভূপাতিত করার দাবিও করেছেন দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সুশান স্টেপানিয়ান, যদিও এই তথ্য অস্বীকার করেছে বাকু।

এ দিকে যুদ্ধবিরতির জন্য ফ্রান্স মধ্যস্থতার উদ্যোগ নিলেও তাতে কাজ হয়নি। দুই পক্ষই লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেছে। বিতর্কিত অঞ্চল নাগারনো-কারাবাখ নিয়ে গত রোববার দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের মধ্যে সঙ্ঘাত ছড়িয়ে পড়ে। সোভিয়েত ইউনিয়ন পতনের পর থেকেই এই অঞ্চলে দুই দেশের বিরোধ চলছে। ১৯৯০ এর দশকে আর্মেনিয়ান নৃগোষ্ঠী আজারবাইজানের কাছ থেকে কারাবাখ দখল করে। এ নিয়ে সঙ্ঘাত ছড়িয়ে পড়ে সে সময়ই। শুরু হয় যুদ্ধ, যাতে প্রাণ হারিয়েছেন ৩০ হাজার মানুষ। ১৯৯৪ সালে দুই পক্ষের মধ্য যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সরাসরি সঙ্ঘাতের ইতি ঘটলেও এ নিয়ে দুই দেশের বিবাদ অব্যাহত ছিল। নিজেদের অঞ্চল আবার দখলে বেশ কয়েকবারই হুমকি দিয়েছে আজারবাইজান।

পূর্ববর্তি সংবাদনারী নির্যাতন: কবে আমাদের বোধোদয় হবে?
পরবর্তি সংবাদসব ধরনের তুর্কি পণ্য বর্জনের আহ্বান সৌদির!