আজারবাইজানকে সমর্থন করায় তুরস্ককে ড্রোন বিক্রি বন্ধ ঘোষণা কানাডার

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: আর্মেনিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে আজারবাইজানকে সমর্থন দেয়ায় তুরস্ককে ড্রোন প্রযুক্তি বিক্রি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে কানাডা। সূত্র মিডল ইস্ট আই।

আজারবাইজান ও আর্মেনিয়া মধ্যকার যুদ্ধে তুরস্কের ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ কানাডার। দেশটি থেকে ড্রোন প্রযুক্তি কিনে থাকে তুরস্ক।

সোমবার সেই ড্রোন প্রযুক্তি তুরস্ককে বিক্রি বন্ধের ঘোষণা দেন কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রাঙ্কোইস-ফিলিপ চ্যাম্পইন। অন্যান্য সামরিক প্রযুক্তি বিক্রিও বন্ধ করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

গত বছর উত্তর সিরিয়ায় অভিযান চালানোয় তুরস্ককে সব ধরনের অস্ত্র বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছিল কানাডা। তবে ন্যাটোর সদস্য হিসেবে আঙ্কারাকে ড্রোন প্রযুক্তিসহ নন-লেথাল সামরিক প্রযুক্তি বিক্রি করে আসছিল অটোয়া।

শুক্রবার কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো জানান, তুরস্কের মিত্র আজারবাইজান এবং আর্মেনিয়ার মধ্যে লড়াইয়ে কানাডার প্রযুক্তির ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে কিনা তা তদন্ত করবে অটোয়া।

আর্মেনিয়ার দখলে থাকা আজারবাইজানের ভূখণ্ড নাগরনো-কারাবাখকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে তীব্র লড়াই চলছে।

গত সপ্তাহে শুরু হওয়া এ লড়াইয়ে আজারবাইজানের বড় কয়েকটি শহরে হামলা চালিয়েছে আর্মেনিয়া। দুই দেশের বিপুলসংখ্যক সেনা ও বেসামরিক লোক হতাহত হয়েছেন।

ইতিমধ্যে আর্মেনিয়ার দখলে থাকা কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জাব্রাইল জেলাসহ কয়েকটি এলাকা পুনরুদ্ধার করেছে আজারবাইজান। গত ২৭ বছর ধরে এসব এলাকা আর্মেনিয়া দখল করে রেখেছিল।

আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান উভয় দেশই সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ ছিল। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর তারা দুটি স্বাধীন দেশে পরিণত হয়।

তবে নাগোরনো-কারবাখ অঞ্চল নিয়ে প্রতিবেশী দেশ দুটির মধ্যে বিরোধ বাধে। এ নিয়ে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ১৯৯৪ সালে অঞ্চলটি দখলে নিয়ে নেয় আর্মেনিয়া।

যদিও নাগোরনো-কারবাখ অঞ্চলটি এখনো আন্তর্জাতিকভাবে আজারবাইজানের এলাকা হিসেবে স্বীকৃতি।

ওই যুদ্ধে কয়েক লাখ মানুষ মারা যায় এবং ১০ লাখের বেশি মানুষ উদ্বাস্তু হয়ে পড়ে। এই উদ্বাস্তুদের চাপ তৈরি হয় আজারবাইজানের ওপর। ২০১৬ সালেও অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুইপক্ষ লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়েছিল। সেসময় অন্তত ২০০ জন নিহত হয়েছিল।

চলতি বছরের গত জুলাইয়ে সীমান্তে দুইপক্ষের মধ্যে লড়াইয়ে কমপক্ষে ১৬ জন নিহত হয়। নিহতদের মধ্যে আজারবাইজানের উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাও রয়েছেন। এরপর থেকে দু’দেশের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল।

পূর্ববর্তি সংবাদম্যাক্র্যোঁ! ইসলাম নয়, সংকটের মুখে আপনাদের পশ্চিমা বিশ্ব
পরবর্তি সংবাদ‘শেখ হাসিনার সরকার নিজের দলের লোক হলেও তাকে রেহাই দেয় না’