ফেসবুকের আসক্তি ঠাহর করার উপায়

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: বর্তমানে দেশে সব থেকে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক। একথা নতুন করে বলার কিছু নেই। ২০১৭ সালে যুক্তরাজ্যে নিবন্ধিত ‘উই আর সোশ্যাল লিমিটেড’ ও কানাডার ‘হুটস্যুট ইনকরপোরেশনের’ এক যৌথ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সক্রিয় ফেসবুক ব্যবহারকারীর হিসেবে ঢাকা বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর। ঢাকা ও আশপাশের অঞ্চল মিলিয়ে ঢাকা শহর বোঝানো হয়েছে। এখানে ২ কোটি ২০ লাখের বেশি মানুষ সক্রিয়ভাবে ফেসবুক ব্যবহার করছেন।

ব্যাপাক জনপ্রিয়তা পাওয়া এ সামাজিক মাধ্যমটিতে প্রচুর সময় নষ্ট হয় বলে অভিযোগ করেন অনেকেই। এতে আসক্তি নিয়েও অভিযোগের শেষ নেই।

ফেসবুক ব্যবহারকারীরা কীভাবে বুঝবেন তিনি ফেসবুকে তার আসক্তির ব্যাপারটি? গবেষকরা বলছেন, -ধরুন, কেউ  কাউকে ফোন করার জন্য কিংবা একটা জরুরি ই–মেইল পাঠানোর জন্য ফোন হাতে নিয়েছেন। মিনিটখানেক পর তিনি আবিষ্কার করলেন, প্রয়োজনীয় কাজটি না করে অযথাই ফেসবুক স্ক্রল করছেন এবং কেন করছেন, তা তিনি নিজেও জানেন না! এমন অভিজ্ঞতা যদি কারো হয়ে থাকে, তাহলে বুঝতে হবে তার মাঝে রয়েছে ফেসবুক আসক্তি। ফেসবুকের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যা ব্যবহারকারীকে বারবার ফিরিয়ে আনবে…

একাধিক গবেষণায় এরই মধ্যে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে ফেসবুকের আসক্তি অনেকটা নেশাদ্রব্যে আসক্তির মতোই। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা ফেসবুকের আসক্তিকে কোকেইনে আসক্তির সঙ্গেও তুলনা করেছেন। নরওয়ের ইউনিভার্সিটি অব বারগেনের গবেষকেরা ফেসবুকে আসক্তি পরিমাপের একটি পদ্ধতি বের করেছেন, যাকে বলা হয় বারগেন ফেসবুক অ্যাডিকশন স্কেল (বিএফএএস)। এ পদ্ধতিতে ব্যবহারকারীকে ৬টি অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে নম্বর দিতে হবে। নম্বর দেওয়ার ৫টি মাত্রা আছে—১. খুব কম, ২. কম, ৩. মাঝারি, ৪. বেশি, ৫. খুব বেশি।

যদি অন্তত ৪টি প্রশ্নের উত্তর ‘বেশি’ বা ‘খুব বেশি’ হয়, তাহলে বুঝতে হবে ব্যবহারকারী ফেসবুক আসক্ত। ১. ফেসবুক নিয়ে ভেবে কিংবা কীভাবে ফেসবুক ব্যবহার করবেন সে–সংক্রান্ত পরিকল্পনা করে ব্যবহারকারী সময় ব্যয় করেন। ২. আরও বেশি বেশি ফেসবুক ব্যবহার করার জন্য ব্যবহারকারী একধরনের তাড়না অনুভব করেন। ৩. ব্যক্তিগত সমস্যা ভুলে থাকতে ফেসবুকে সময় দেন। ৪. একাধিকবার ফেসবুকে কম সময় ব্যয় করার সিদ্ধান্ত নিয়েও ব্যবহারকারী ব্যর্থ হয়েছেন।