ইসলাম টাইমস ডেস্ক: বগুড়া শহরের অভিজাত এলাকায় দিনদুপুরে কিশোর অপরাধীদের ছুরিকাঘাতে আর কে রশিদুল ইসলাম (৩২) নামে এক তরুণ ব্যবসায়ী খুন হয়েছেন। এসময় তার ভগ্নিপতি বছিরও (৩৫) আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে শহরের জলেশ্বরীতলা এলাকাস্থ টাউন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। পুলিশ তাৎক্ষণিক মূল ঘাতক সিয়াম হোসেনকে (২০) আটক করেছে।
রশিদুল শহরের রহমান নগর এলাকার মৃত জাহেদুল ইসলাম লালুর ছেলে ও জলেশ্বরীতলা এলাকায় জব্বার ক্লাব মোড়ে ফ্লেক্সিলোড ব্যবসায়ী ছিলেন। এছাড়াও তিনি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বন্ধন ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন বগুড়ার অর্থ সম্পাদক ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রশিদুলের ভাগ্নে শান্ত (১২) টাউন স্কুল মাঠে খেলাধুলা করছিল। এসময় কয়েকজন কিশোর তাকে মারধর করে। ঘটনার সময় রশিদুল রিকশাযোগে টাউন স্কুলের সামনে দিয়ে যাচ্ছিলেন। তার ভাগ্নেকে মারধর করার দৃশ্য দেখে রিকশা থেকে নেমে মারধরকারী কিশোরদের সাথে কথা বলছিলেন। এসময় তার ভগ্নিপতি বছির ছেলেকে মারধরের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন। সেখানে তর্ক-বিতর্কের একপর্যায় দুই কিশোর রশিদুলের পিঠে ও বছিরের হাতে ও উরুতে ছুরিকাঘাত করে।
স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাদেরকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল চারটায় রশিদুল মারা যান।
রশিদুল সমাজসেবক হিসেবে এলাকায় ব্যাপক পরিচিত ছিলেন। মানুষের জীবন বাঁচাতে তিনি অনলাইনে ব্লাড ব্যাংকের রক্ত সংগ্রহ করে দিতেন। এলাকায় পুরুষ মানুষ মারা গেলে লাশ গোসল করানোর জন্য ডাক পড়তো রশিদুলের। এছাড়াও করোনাকালে তিনি স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে করোনায় কেউ মারা গেলে লাশ দাফন করার দায়িত্ব নিতেন। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী রশিদুল করোনা প্রাদুর্ভাবের মধ্যে নিজের মোটরসাইকেল বিক্রি করে অসহায় মানুষকে খাদ্য সহায়তা করেছেন।
রশিদুলের ভায়রা ও বগুড়া পৌরসভার ১০ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আরিফুল হক আরিফ বলেন, রশিদুলের ভাগ্নেকে মারধরের প্রতিবাদ করার একই এলাকার সামাইন ও সিয়াম নামের দুই কিশোর দুজনকে ছুরিকাঘাত করে। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর অপারেশন থিয়েটারে রশিদুল মারা যান।
বগুড়া সদর থানার ওসি হুমায়ুন কবীর বলেন, ঘটনার সাথে জড়িতদের পুলিশ গ্রেফতার করতে মাঠে নেমেছে। অপরাধীদের ধরতে অভিযান চলছে। সন্ধ্যা ৬টায় মূল ঘাতক সিয়ামকে পুলিশ আটক করেছে। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
















