ইসলাম টাইমস ডেস্ক: পরিকল্পিতভাবে ইসলাম ও দেশের বিরুদ্ধে ঘৃণা-বিদ্বেষ ছড়ানো অভিযোগে বিতর্কিত বেসরকারি টিভি চ্যানেল একাত্তর টিভিকে বয়কটের ঘোষণা দিয়েছেন দেশের অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট বিভিন্ন ইসলামপ্রিয় ব্যক্তিগণ। তাদের মধ্যে জনপ্রিয় আলেম ও বক্তা যেমন রয়েছেন, তেমনি রয়েছেন ইসলামপ্রিয় লেখক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী ও তরুণসমাজ।
এছাড়াও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একাত্তর টিভি বয়কটের অংশ হিসেবে একাত্তর টিভির ফেসবুক পেইজ আনলাইক ও ইউটিউব চ্যানেল আনসাব্সক্রাইব করার ঘোষণা দিয়েছে অসংখ্য ফেসবুক ব্যবহারকারী। একাত্তর টিভিকে বয়কটের ঘোষণা দেয়ার পর ইতোমধ্যে লক্ষাধিক ফলোয়ার ও সাব্সক্রাইবার কমে গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
লালবাগ মাদ্রাসার সিনিয়র মুহাদ্দিস মুফতি সাখাওয়াত হুসাইন রাজি বলেন, “আমি ৭১টিভিকে আমলিভাবে বয়কট করেছি। চার বছর হয়ে গেছে তাদের কোনো আহবানে সাড়া দেই না। যেদিন তারা রাষ্ট্রধর্ম নিয়ে মিথ্যাচার করেছে এবং ভুল তথ্য দিয়ে দেশের সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছে সেদিন থেকেই আমার এই সিদ্ধান্ত।”
জনপ্রিয় অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট শায়খ মাওলানা আহমাদুল্লাহ তার এক স্ট্যাটাসে বলেন, “কোনো কোনো মুর্খ বক্তা ওয়াজ মাহফিলে নারীকে নিয়ে বেফাঁস ও মুর্খতাসূলভ উক্তি করে এটা অসত্য নয়, তাই বলে সে সব বক্তব্যের কারণে ধর্ষকরা নারী ধর্ষণে উদ্বুদ্ধ হয়- একটি টিভি চ্যানেল এতো নির্জলা মিথ্যাচার ও কুৎসিত মন্তব্য করতে একটুও বাধলো না! গণমাধ্যম মানে কি শুধু ময়লা-আবর্জনা ঘাঁটার যন্ত্র? তিনি প্রশ্ন তোলেন, “৭১টিভির মতো চ্যানেলগুলো যেভাবে নারীকে সারাক্ষণ পণ্য ও ভোগ্য বস্তু হিসেবে উপস্থাপন করে তা থেকে ধর্ষক উৎপাদন হওয়ার কথা, নাকি ফেরেশতা?”
শায়খুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হক রহ. এর সন্তান, বিশিষ্ট বক্তা মাওলানা মামুনুল হক একাত্তর টিভি কে গণমাধ্যম না বলে ইসলামের বিরুদ্ধে ঘৃণা-বিদ্বেষ ছড়ানোর মাধ্যম বললেই যথার্থ হবে বলে মন্তব্য করেছেন।
জনপ্রিয় বক্তা মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী দেশবাসীর প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন, “যাদের সর্বত্রই ইসলাম বিদ্বেষ তাদের বয়কট করা সময়ের দাবি।”
এর আগে ছাত্র নেতা সাবেক ভিপি নুর একাত্ত টিভি বয়কটের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “৭১ টিভি তাদের প্রোগ্রামে যাওয়ার জন্য বার বার ফোন দিয়েছিলো। আমি সরাসরিই বলে দিয়েছি, বিভিন্ন সময়ে ৭১ টিভির পক্ষপাতমূলক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ জনমনে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে। তাই ৭১ টিভিতে কথা বলার ইচ্ছে ও রুচি নেই। সহযোদ্ধা, শুভাকাঙ্ক্ষী, সমর্থকদের বলবো সকল ধরণের হলুদ সাংবাদিকতা এবং দালাল গণমাধ্যম বর্জন করুন।”
















