“উস্তাযগণের শাসন জীবনের শ্রেষ্ঠতম অর্জন”

মাওলানা শরীফ মুহাম্মদ ।।

(গত সোমবার ২৬ অক্টোবর ঢাকার উত্তরার জামিয়াতুল মানহালের তালিবুল ইলমদের উদ্দেশে প্রদত্ত বয়ান থেকে)

আজকে আমি একজন পুরনো পথিকের মতো কিছু কথা বলব। জীবনের একটি দীর্ঘ সময় পাড়ি দেয়ার মধ্য দিয়ে যে অভিজ্ঞতা লব্ধ হয়েছে, সেখান থেকে কিছু কথা রাখব।

১) সময়ের মূল্যায়ন করুন

  • নিজের জীবনের দিকে তাকালে মনে হয়, যতটুকু সময়ের মূল্যায়ন করেছি জীবনের অর্জন ততই সমৃদ্ধ হয়েছে। যে যতো বেশি সময়ের মূল্যায়ন করবে সে ততো বড় হবে।

২) উস্তাযগণের শাসন জীবনের শ্রেষ্ঠতম অর্জন

  • পঞ্চাশের কোঠায় এসে আজকে নিজের মধ্যে দুটি অনুভূতি একসাথে কাজ করে।

একটি আনন্দের। জীবনে যতটুকু যা হয়েছি, পুরোটাই আসাতিযায়ে কেরামের তত্ত্বাবধানের ফলে। যে উস্তায যত বেশি শাসন করতেন, তাঁর কথা ততো বেশি মনে পড়ে, তাঁর জন্য হৃদয় ভেঙে ততো বেশি দোয়া আসে।

আরেকটি অনুভূতি আক্ষেপের। মনে হয়, উস্তায যদি আরেকটু বেশি শাসন করতেন, কানটা যদি আরও বেশি মলে দিতেন, চড়-থাপ্পর যদি আরও কয়েকটি বেশি দিতেন, তাহলে হয়তো আরও অগ্রসর হতে পারতাম।

৩) কওমী শিক্ষাব্যবস্থার প্রধান আনাসির তিনটি

  • মুতালায়া, দরসের ইহতিমাম এবং তাকরার। যে এগুলোর প্রতি যতো যত্নশীল হবে, সে ততো বড় হবে।

আপনারা তো আমিনী সাহেবকে চিনেন একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে। কিন্তু উনার মূল ফাউন্ডেশন কী ছিল বলতে পারেন? মুতালায়া এবং মুতালায়া।

হুযুরের একটি ঘটনা তো কিংবদন্তিতুল্য। ট্রেনের অপেক্ষায় বসে থাকতে থাকতে কিতাব মুতালায়া শুরু করলেন। ট্রেন আসলো, মানুষজন উঠলো, ট্রেন ছেড়ে চলে গেলো। স্টেশন খালি হয়ে গেলো। রাতের অন্ধকার থেকে ফজর হয়ে গেলো। হুযুর মুতালায়ার ধ্যান থেকে বের হলেন। জনশূন্য স্টেশনে মাস্টারকে জিজ্ঞেস করলেন, ট্রেন আসে নাই?

এরকম ছিল তাঁদের মুতালায়া। এগুলো ছিল তাঁদের ফাউন্ডেশন। ফাউন্ডেশন যখন এমন মজবুত হয়, তখন সে ভবনের স্থায়িত্বও ততো সুসংহত হয়।

৪) ভালো লেখক ভালো আলোচক হতে চাইলে

  • এক কথায়–ভালো লেখক হতে চাইলে ভালো লেখাকে নমুনা বানাতে হবে। ভালো লেখা বেছে বেছে পড়তে হবে। ঠিক তদ্রুপ ভালো আলোচক, ভালো কথক হতে হলে ভালো আলোচনাকে নমুনা বানাতে হবে। এর কোন বিকল্প নেই।

তবে এ কাজ করতে গিয়ে ঢালাওভাবে বাম-রামদের দিকে ঝুঁকে যাওয়া যাবে না। সবটাই হবে নিজের মুশীর ও মুশরিফ উস্তাযের তত্ত্বাবধানে।

আল্লাহ আপনাদেরকে আগামী দিনের যোগ্য কাণ্ডারী হিসেবে কবুল করুন।

অনুলেখন: আদনান মাসুদ