ইসলাম টাইমস ডেস্ক: রংপুর বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল ওয়াহাব ভূঞা বলেছেন, বুড়িমারীতে আবু ইউসুফ শহিদুন্নবী জুয়েল নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার ঘটনায় জঙ্গি সম্পৃক্ততা ছিল না। স্থানীয় উত্তেজিত জনতাই এ ঘটনা ঘটিয়েছে। পুলিশ ফাঁকা গুলি ছুড়েও তাদের থামাতে পারেনি।
তিনি বলেছেন, এ ঘটনায় যারা জড়িত তাদের প্রত্যেককে খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারীতে গিয়ে মসজিদে কোরআন শরীফ অবমাননার অভিযোগে আবু ইউসুফ শহিদুন্নবী জুয়েলকে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এ মন্তব্য করেন তিনি।
বিভাগীয় কমিশনার বলেন, ইতোমধ্যেই তিনটি মামলা হয়েছে। আইনানুগ যে পদ্ধতি সে অনুযায়ীই বিচার হবে। এ ঘটনায় যারা জড়িত তাদের খুঁজে বের করার জন্য আমাদের অনেক প্রসেস (পদ্ধতি) রয়েছে, আমরা সেগুলো করছি।
এ ঘটনায় জঙ্গি সম্পৃক্ততা ছিল বলে মনে করেন কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, আমরা এখনও এমন কিছু পাইনি, জঙ্গি সম্পৃক্ততা আমরা মনে করি না।
জুয়েল নামের ওই ব্যক্তিকে ধরে নিয়ে যাওয়া থেকে হত্যা করে পুড়িয়ে ফেলার মধ্যে দুই আড়াই ঘণ্টা সময় লেগেছে। এই পুরো সময়ে কোনও দল প্রভাব খাটিয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, এত সময় নয়, আমরা স্পটে (ঘটনাস্থলে) গিয়ে যা জেনেছি তা হচ্ছে খুব অল্প সময়ের মধ্যে ঘটনাটি ঘটছে। এ ঘটনাটি এখন পুলিশ তদন্ত করেছে। তদন্তে যারা অভিযুক্ত হবে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে তিনটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। বাকি বিষয় আদালতে সমাধা হবে।
পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য তিনটি মামলা দায়েরের তথ্য জানিয়ে বলেন, ‘এ ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের প্রত্যেককে আমরা খুঁজে বের করবো এবং যার জন্য যতটুকু শাস্তি প্রযোজ্য সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
নিহত ব্যক্তি বহিরাগত কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘তিনি বহিরাগত কিনা এ বিষয়ে এখনই বলা সম্ভব নয়।’
জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার লালমনিরহাটের পাটগ্রাম এলাকায় কোরআন শরীফ অবমাননার অভিযোগে এক জনকে (জুয়েল) পিটিয়ে হত্যা করে বিক্ষুব্ধ জনগণ।
জানা যায়, উপজেলার বুড়িমারী ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় বাজার মসজিদে অজ্ঞাত দুই ব্যক্তি প্রবেশ করে আসরের নামাজ আদায় করে। নামাজ শেষে উপস্থিত মুসল্লী ও ইমামকে গোয়েন্দা সংস্থার পরিচয় দিয়ে মসজিদের ভেতরে থাকা অস্ত্র বের করতে বলেন। একপর্যায়ে তারা নিজেরাই মসজিদে অস্ত্র খুঁজতে থাকেন। এ সময় র্যাকে রক্ষিত কোরআন শরীফ নিচে পড়লে তারা কোরআন শরীফের উপর পা রেখেই অস্ত্র খুঁজতে থাকেন। এ দৃশ্য দেখে মসজিদে থাকা মুসল্লী উত্তেজিত হয়। পরে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও কয়েক জন মুসল্লী উত্তেজিত মুসল্লীদের হাত থেকে ব্যক্তিদ্বয়কে উদ্ধার করে বুড়িমারী ইউনিয়ন পরিষদের ভেতরে নিয়ে যান।
এদিকে কোরআন শরীফে পা রাখার খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত মুসল্লীরা বুড়িমারী ইউনিয়ন পরিষদ ঘেরাও করেন। এ সময় বিজিবি ও পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে উত্তেজিত মুসল্লীকে শান্ত করার চেষ্টা করে। পরবর্তীতে মুসল্লীদের আরোও একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল এসে ইউনিয়ন পরিষদের দরজা ভেঙ্গে দুই ব্যক্তির মধ্যে এক ব্যক্তিকে পেয়ে উত্তেজিত মুসল্লিরা গণপিটুনী দিয়ে হত্যা করেন। অতঃপর লাশ টেনে-হেঁচড়ে পরিষদের বাহিরে এনে পেট্রোল ও লাকড়ী দিয়ে পুড়িয়ে ফেলেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আরও অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি গিয়ে অপর ব্যক্তিকে উদ্ধার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
উল্লেখ্য, এ ঘটনার একদিন পর একটি গোয়েন্দা সংস্থা সরকারের নীতি নির্ধারণী মহলে প্রতিবেদন দাখিল করেছে। প্রতিবেদনে ‘জুয়েলের বিরুদ্ধে কোরআন অবমাননার প্রমাণ পাওয়া যায়নি’ বলে উল্লেখ করে প্রতিবেদনে মসজিদের খাদেম, ডেকোরেটর মালিক ও ইউপি সদস্যকে প্রধান অভিযুক্ত করা হয়েছে।
















