ইসলাম টাইমস ডেস্ক: দেশে সড়কের প্রতিটি জায়গায় মৃত্যু ফাঁদ তৈরি হয়েছে। মহাসড়কে যানবাহন চলাচলের সময় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করলে দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমে যাবে বলে পায়েল হত্যা মামলার রায়ের সময় আদালত পর্যবেক্ষণে বলেছেন। এ ছাড়া সড়ক দুর্ঘটনা রোধে আদালত চারটি নির্দেশনা দিয়েছেন।
ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান রোববার চাঞ্চল্যকর এ মামলার রায়ে চার দফা নির্দেশনা দিয়েছেন। ট্রাইব্যুনাল মনে করেন ট্রাফিক আইন অনুযায়ী নিয়ম মেনে গাড়ি চালানো হলে সড়ক দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।
সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ট্রাইব্যুনাল যে চারটি বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন, তা হল-
এক. গাড়িচালক, সুপারভাইজার ও হেলপারদের গাড়ি চালাতে দেয়ার আগে মাদক সেবন করেছে কিনা সে লক্ষ্যে ডোপ টেস্ট করতে হবে। গাড়ি ছাড়ার কাউন্টারে, পথিমধ্যে রাস্তায় বিরতির স্থানে এবং গাড়ির গন্তব্যে পৌঁছানো স্থানে- এ তিন স্থানেই গাড়ির চালক, সুপারভাইজার ও হেলপারকে ডোপ টেস্ট করাতে হবে।
দুই. গাড়ির চালক, সুপারভাইজার ও হেলপাররা প্রায়ই যাত্রীদের সঙ্গে কর্কশ ও অভদ্র আচরণ করেন। এক্ষেত্রে গাড়ির চালক, সুপারভাইজার ও হেলপারদের অবশ্যই যাত্রীদের সঙ্গে নম্র ও ভদ্র আচরণ করতে হবে। গাড়ির চালক, সুপারভাইজার ও হেলপারদের গাড়ি চালানোর বিষয়ে এবং যাত্রীদের সঙ্গে কাউন্সিলিংয়ের বিষয়ে উচ্চতর ট্রেনিং বা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।
তিন. মহাসড়কের প্রতি ৩ কিলোমিটার পর পর গাড়ির চালক, সুপারভাইজার, হেলপার ও যাত্রী সাধারণদের ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাক ফ্রি আধুনিক বাথরুম ও টয়লেট স্থাপন করতে হবে। তবে এজন্য বাস মালিকরা সরকারের সড়ক বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে সরকার নির্ধারিত হারে সরকারকে বার্ষিক চাঁদা দিতে হবে।
চার. মহাসড়কে সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে যানবাহনের চলাচলের ওপর মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। এসব বিষয়ে বাস মালিক, ড্রাইভার, সুপারভাইজার ও হেলপার এবং যাত্রীদের সচেতন হতে হবে।
এদিকে, পায়েল হত্যা মামলায় তিন আসামির মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। রোববার ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামিদের কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় ঘোষণার পর মৃত্যুপরোয়ানা দিয়ে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মৃত্যুদপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- হানিফ পরিবহনের ড্রাইভার মো. জামাল হোসেন, সুপারভাইজার মো. জনি ও হেলপার মো. ফয়সাল হোসেন।
রায় ঘোষণার সময় পায়েলের মা কহিনুর বেগম, বাবা গোলাম মওলা, বড় বোন শামিমা আক্তার পলিসহ পরিবারের অপর সদস্য ও পায়েলের সহপাঠীরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
রায় ঘোষণার পর তারা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। একইসঙ্গে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর মো. আবু আবদুল্লাহ ভূঞা। তবে রায়ে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা অসন্তুষ্টি প্রকাশ করে জানিয়েছেন, তারা এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাবেন।
















