বিচারপতি শামসুদ্দীন মানিকের ইসলাম বিদ্বেষী বক্তব্য নিয়ে যা বললেন মুফতি মিজানুর রহমান সাঈদ

এনাম হাসান জুনাইদ ।।

সম্প্রতি জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে শালীন পোষাক পরার এক বিজ্ঞপ্তিকে কেন্দ্র করে সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিকের ইসলাম বিদ্বেষী বক্তব্য গণমাধ্যমে এসেছে।  তাঁর বক্তব্যগুলো  এতই আক্রোশপূর্ণ যে একজন বিচারপতি কেন একজন সাধারণ মুসলমানের মুখেও এ ধরণের বক্তব্য মানায় না।  তার পুরো বক্তব্য জুড়ে রয়েছে ইসলামের মহান বিধান পর্দার প্রতি তাচ্ছিল্য, অবজ্ঞা, ক্রোধ।  যতটা না  বিজ্ঞপ্তির জন্য তিনি নাখোশ তার চেয়ে তিনি পর্দার বিধান তথা শালীন পোশাক পরার নির্দেশনার জন্য ক্ষিপ্ত। তিনি যে পর্দার বিধানকে অপসন্দ করেন এবং বাংলাদেশের মানুষের জন্য এটাকে ‘বেমানান’ মনে করেন সেটা বোঝাতে গিয়ে তিনি তার বিচারকালে স্কুলে পর্দা বিরোধী রায় দিয়েছিলেন বলে গর্বের সাথে উল্লেখ করেন।

সাবেক এই বিচারপতির কথায় দেশের আলেমওলামা  ও সাধারণ মুসলমানগণ ভীষণভাবে ব্যাথিত ও মর্মাহত।  ইতিমধ্যে গণমাধ্যমে দেয়া বিভিন্ন বিবৃতিতে  আলেমদের ক্ষুব্ধতা প্রকাশ পেয়েছে।

বিচারপতি মানিকের বক্তব্য নিয়ে ইসলাম টাইমসের সঙ্গে কথা বলেছেন বিশিষ্ট ইসলামী আইনবিদ ফকীহ আলেম মুফতি মিজানুর রহমান সাঈদ ।  মুফতি মিজানুর রহমান সাঈদ বলেন, বিচারপতি মানিকের এই বক্তব্য অনেক বড় পাপাচার ও সীমালঙ্ঘন। এসব বুদ্ধিজীবীরা জেনে বুঝে ইসলামের বিরোধীতা করে। এসব লোকের চিন্তাধারা হল,  ইসলামকে সমাজ  ও রাষ্ট্র থেকে ভিন্ন রাখতে হবে। সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলামকে চলতে দেয়া যাবে না। ইসলামকে সমাজ ও রাষ্ট্র থেকে ভিন্ন রাখার চিন্তা একটি কুফরি চিন্তা, কুফরি মতবাদ ।  কোনো মুসলমান এধরণের চিন্তাধারা পোষণ করতে পারে না। এসব ইসলাম বিদ্বেষী বুদ্ধিজীবীদের বিরুদ্ধে অন লাইনে অফলাইনে  মিডিয়ার সকল অঙ্গনে  আলেমদেরকে আরো  সোচ্চার হতে হবে বলে উল্লেখ করেন এই আলেম।

এই ইসলাম বিদ্বেষী বক্তব্যের  কারণে  বিচারপতি মানিক কি ইসলাম থেকে বের হয়ে গেছেন এমন প্রশ্ন করলে মুফতি মিজানুর রহমান সাঈদ বলেন, কোনো সন্দেহ নেই তার কথাগুলো কুফরিতে পরিপূর্ণ। তবে কুফরির মধ্যে অনেক স্তর রয়েছে। তার কথাগুলো চরম পর্যায়ের কুফরি তবে তাকে ইসলাম থেকে বাহির হয়ে গেছে এ কথা এখনই বলা যায় না।

এর আগে জনস্বাস্থ্যের পরিচালককে শোকজ নোটিশ পাঠানোকে অযৌক্তিক উল্লেখ করে এই আলেম বলেন, অফিস পরিচালকের বক্তব্য হল, আমি অফিস পরিচালক। আমি সরকারি কোনো নোটিশ দেইনি। আমার এই অধিকার আছে আমি মুসলমান হিসাবে আমার অধীনস্থদেরকে আল্লাহর কথা বলব। সেটা আমি বলেছি। সুতরাং তাকে যারা শোকজ করছে এই শোকজ করা মারাত্মক অন্যায় হয়েছে। ইসলামের বিধিবিধানের সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক হয়েছে।

দেশে কিছুদিন পর পর ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে নানা অঘটন ঘটানো হচ্ছে। কয়েকদিন আগে সহীহ শুদ্ধ ভাবে সালাম ও আল্লাহ হাফেজ বলার বিরোধিতা করার বক্তব্য দিয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। এধরণের ন্যাক্কারজনক আচরণ কিভাবে বন্ধ হতে পারে?

এ প্রশ্নের জবাবে এই প্রবীণ আলেম বলেন, এসব বক্তব্যের ক্ষেত্রে কারণ দুটি: একটি হল জাহালাত। ইসলাম সম্পর্কে মানুষের অজ্ঞতা।  এই অজ্ঞতার সমাধান হল, আমাদেরকে দাওয়ার কাজ আরো বেশী করে করতে হবে। মানুষকে ইসলাম সম্পর্কে জানাতে হবে। ইসলামী শিক্ষার বিস্তার ঘটাতে হবে। ওয়াজ মাহফিল মসজিদ মাদরাসা মিডিয়া অন লাইন অফ লাইন যে যেখানে আছে প্রত্যেকে আপন জায়গা মানুষকে ইসলাম সম্পর্কে সঠিক কথা জানানো বুঝানো হল এই অজ্ঞতা রোগের চিকিৎসা।

আরেক শ্রেণী আছে যারা এসব কটুকাটব্য করে বিদ্বেষ থেকে। সেসব নাস্তিকদেরকে ক্ষেত্রে আমাদের করণীয় হল, তাদেরকে দলীলের আলোকে বিষয়গুলো বুঝানো। যুক্তির মাধ্যমে তাদের বিভিন্ন আপত্তি খণ্ডন করা। এক্ষেত্রে পর্যায়ক্রমে প্রতিবাদের সুরে বিভিন্ন লেখা প্রকাশ করতে হবে। বিভিন্ন সেমিনারে বক্তব্য দিতে হবে। অজ্ঞ লোকদেরকে জানানো আর জেনে বুঝে যারা আপত্তি করে তাদেরকে জানানোর ক্ষেত্রে একই ভাষা ব্যবহার করা হবে না। বলেন মাওলানা মিজানুর রহমান সাঈদ।

প্রসঙ্গত, বিচারপতি শামসুদ্দীন মানিক বিচার ও রাজনীতির অঙ্গনে একজিন বিতর্কিত  ব্যাক্তিত্ব। ইতিপূর্বে তিনি বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে গণমাধ্যমে আলোচনার সমালোচনার বিষয়বস্তু হয়েছেন। বিচারপতি থাকার সময় বিমানের বিজনেস ক্লাসে সিট না পাওয়া নিয়ে প্রতিক্রিয়া, আবার চাকুরী শেষে বাড়ি না ছাড়া-এসব বিষয়ও গণমাধ্যমে অনেক চাউর হয়েছিল।  তাছাড়া তিনি  বাংলাদেশের পাশাপাশি ব্রিটেনেরও নাগরিক। সাংবাদিকরা জিজ্ঞেস করেছিলেন, আপনি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালতের একজন বিচারপতি একই সঙ্গে আরেকটি দেশেরও নাগরিক, আইনগত দিক থেকে কোন ভুল না হলেও, নৈতিক দিক থেকে এটা কতটা যথার্থ ছিলো? – এ প্রশ্নের জবাবে বিচারপতি চৌধুরী বলেছিলেন, এতে অনৈতিকতার কি আছে? সাংবিধানিক, আইনগত বা নৈতিক কোন বাধা নেই এতে”।