ফ্রান্সে যা দেখে এলাম

মুফতি মুহাম্মদ রফি উসমানি ।।

ইউরোপে ফ্রান্স একমাত্র দেশ যেখানে বিধর্মীরা খুব দ্রুত গতিতে মুসলমান হচ্ছে। বিগত অনেক বছর ধরেই এটা চলছে এবং ক্রমাগতভাবে ইসলাম গ্রহণের হার বাড়ছে।

ইসলাম গ্রহণের এই জোয়ার শুরু হয়েছে বিশিষ্ট বুজুর্গ আলেম ও মুহাক্কিক স্কলার ড. হামিদুল্লাহর প্যারিস যাওয়ার পর। ড. হামিদুল্লাহ হায়দারাবাদের অনেক বড় আলেম ছিলেন। আমার আব্বা মুফতি শফি রহমতুল্লাহি আলাইহি বন্ধু ছিলেন। পাকিস্তানে হিজরত করেছিলেন। পাকিস্তানে ইসলামী আইন প্রণয়ন বোর্ডের সদস্য ছিলেন। পরে পাকিস্তান থেকে হিজরত করেছিলেন ইউরোপে। তিনি এতই মেধাবী ছিলেন যে ইউরোপে থেকে তিনি সেখানকার প্রায় দশ বারোটি ভাষা আয়ত্ত করে ফেলেছিলেন। এবং ইউরোপের একাধিক ভাষায় তিনি ইসলামের বিভিন্ন বিষয়ে বই রচনা করেছিলেন।

ফ্রান্সে তখন থেকেই ইসলামের প্রচার-প্রসার জোরেশোরেই শুরু হয়ে যায়। এর উপর সোনায় সোহাগা হিসেবে যুক্ত হয় দাওয়াত ও তাবলীগের মেহনত।

অনেক আগের কথা। দিন তারিখ এখন মনে নেই। যখন আমি প্রথমবার ফ্রান্স গিয়েছি তাবলীগের মারকাযে হাজির হলাম। সেখানে তখন আমীর ছিলেন ইউনুস। তার বাড়ি ছিল তিউনিসিয়ায়। তাকে বলা হত, ইউনুস মিন তুনুস।

তখন তিনি আমাকে বলেছিলেন, ফ্রান্সে আলহামদুলিল্লাহ ইসলাম অনেক জোরেশোরে প্রচার হচ্ছে। দৈনিক প্রায় ১৬-২০ মানুষ অমুসলিম ইসলাম গ্রহণ করছেন।

আমাদের দারুল উলুম করাচীর এক ছাত্র ছিলেন বাড়ী শ্রীলংকায়। পরে তিনি ফ্রান্সের বাসিন্দা হয়ে যান। একবার তার দাওয়াতে ফ্রান্স সফরে যাই। তিনি জানালেন, ফ্রান্সে এখন ইসলাম গ্রহণ যেভাবে বাড়ছে ঠিক সেভাবেই বাড়ছে আত্মহত্যার পরিমাণ।

আমি জিজ্ঞেস করলাম, কেন আত্মহত্যার পরিমাণ বাড়ছে? দারিদ্র সংকট? তিনি বললেন, না, অস্থিরতা পেরেশানি।। এই অস্থিরতা হল কুফুরের অস্থিরতা। অন্তরে শান্তি পাওয়া যেত না। নিরুপায় হয়ে মানুষ আত্মহত্যা করছে।

সেখানে যখন ইসলাম প্রচার বেড়ে গেল তখন পর্দার বিধান পালনের মানুষের সংখ্যাও বেড়ে গেল। তখন তারা পর্দার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করল। কিন্তু ফলাফল হল উল্টো। দেখা গেল নিষেধাজ্ঞার পর পর্দা পালনের পরিমাণ আরো বেড়ে গেছে।

সেখানকার বাসিন্দাদের যারা আমার কাছে আসেন তাদেরকে আমি জিজ্ঞাসা করলাম, তোমাদের এখানে পর্দার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হচ্ছে। তারা জানালেন, খুব ভালো হয়েছে আগে যারা পর্দা করত না, তারাও এখন পর্দা করতে শুরু করেছে।

বলা হয়, ফ্রান্সের এক প্রধানমন্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, আপনাদের এখানে তো অনেক দ্রুত গতিতে মানুষ ইসলাম গ্রহণ করছে। যদি সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ মুসলমান হয়ে যায় তাহলে আপনি কি করবেন? প্রধানমন্ত্রী বললেন, তাহলে আমিও মুসলমান হয়ে যাব।

তো সত্যি বলতে কি, ফ্রান্স এখন চরম অস্থিরতা ও চিন্তাগত নৈরাজ্যের শিকার।

 [জুমার বয়ান থেকে: অনুবাদ- এনাম হাসান জুনাইদ]