মার্কিন নির্বাচন: ভোট গণনার উত্তেজনার মধ্যেই বিক্ষোভ, ভাঙচুর, সশস্ত্র মহড়া

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে ঘিরে দেশটিতে এখন টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। এরই মধ্যে বিভিন্ন রাজ্যে বিক্ষোভ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, দোকানপাট ভাঙচুর এমনকি ভোট গণনা কেন্দ্রের সামনে সশস্ত্র মহড়ার ঘটনাও ঘটেছে। এ ধরনের সহিংসতা থেকে মুক্ত নয় নিউইয়র্ক, শিকাগোর মতো ‘বিশ্বখ্যাত’ রাজ্যগুলোও।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের ফিনিক্সে মেরিকোপা কাউন্টির একটি ভোট গণনা কেন্দ্রে ট্রাম্প সমর্থকরা অস্ত্র হাতে বিক্ষোভ করেছে। এ সময় একদল সমর্থক ভোট গণনা কেন্দ্রের ভেতরে ঢুকে পড়ে।

এরপর তাদেরকে বের করে আনা হয়। বিক্ষোভকারীরা ‘ভোট চুরি বন্ধ করতে হবে’ বলে স্লোগান দেয়। ট্রাম্পও এর আগে ভোট চুরির অভিযোগ এনেছেন।

কেন্দ্রের বাইরে রিপাবলিকান সমর্থক বিক্ষোভকারীরা অবস্থান নেয়ার পর ভোট গণনা বন্ধ করবে নাকি করবে না- এমন দ্বিধায় পড়ে কর্তৃপক্ষ। ট্রাম্পের পক্ষে পড়া ভোট ইচ্ছাকৃতভাবে গণনা করা হচ্ছে না বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর ট্রাম্পের সমর্থকেরা ভোট গণনা কেন্দ্রের বাইরে অবস্থান নেয়। এ সময় তাদের অনেকের হাতে আধুনিক অস্ত্র ছিল।

অ্যারিজোনায় এখনও ভোট গণনা চলছে এবং জো বাইডেন প্রায় ২ শতাংশ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন। অবশ্য এখনও কয়েক লাখ ভোট গণনা বাকি রয়েছে বলে জানা গেছে। এ কারণে এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না ফলাফল কার পক্ষে যাবে।

তবে মার্কিন গণমাধ্যম ফক্স নিউজ ও এসোশিয়েটেড প্রেস আরও আগেই তাদের নিজস্ব বিশ্লেষণের  ভিত্তিতে ঘোষণা করেছে এই অঙ্গরাজ্যের ১১টি ইলেকটোরাল ভোট বাইডেনের ঝুলিতে যাবে। বাইডেন ২৬৪ ইলেকটোরাল ভোট পেয়েছেন বলে যে খবর বিশ্বব্যাপী প্রচারিত হচ্ছে তা অ্যারিজোনায় বাইডেনের বিজয় ধরে নিয়ে হিসাব করা হয়েছে।

বিবিসি জানায়, পোর্টল্যান্ড, ওরেগনের প্রতিটি ভোট গণনার দাবিতে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভ সহিংস পরিস্থিতি ধারণ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় হয়েছে ন্যাশনাল গার্ড।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, বিক্ষোভ থেকে কিছু মানুষ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়ে সিটি সেন্টারে কিছু দোকানের জানালা ভাঙচুর করেছে। একে ‘দাঙ্গা’ বলে উল্লেখ করেছে পুলিশ।

এদিকে মিনিয়াপোলিসে দুই শতাধিক বিক্ষোভকারী রাস্তা দখল করলে সেখান থেকে কয়েকজনকে আটক করেছে পুলিশ।

মার্কিন গণমাধ্যমগুলো বলছে, বিক্ষোভকারীরা বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার ভোট বন্ধের আহ্বানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করছিলেন।

একই ধরনের বিক্ষোভ হয়েছে নিউ ইয়র্ক, ফিলাডেলফিয়া এবং শিকাগোতেও।

ডেট্রয়েটে ট্রাম্প সমর্থকেরা ভোট গণনা কেন্দ্রের বাইরে জড়ো হয়ে ‘ভোট গণনা বন্ধ করো’ বলে স্লোগান দিতে থাকে। সেসময় জানালা ভাঙচুর করে তারা। অ্যারিজোনার ফিনিক্সেও একই ধরনের ছোটখাটো বিক্ষোভ হয়েছে।

অ্যারিজোনার মেরিকোপা কাউন্টির একটি ভোট গণনা কেন্দ্রের বাইরে রিপাবলিকান সমর্থক বিক্ষোভকারীরা অবস্থান নেয়ার পর ভোট গণনা বন্ধ করবে নাকি করবে না- এমন দ্বিধায় পড়েছে কর্তৃপক্ষ।

ট্রাম্পের পক্ষে পড়া ভোট গণনা করা হবে না- সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন দাবি ছড়িয়ে পড়ার পর ট্রাম্পের সমর্থকেরা ভোট গণনা কেন্দ্রের বাইরে অবস্থান নেয়।

অনেক বিক্ষোভকারী ভোটকেন্দ্রে ঢুকে পড়ার পর তাদের আবার বাইরে বের করে আনা হয়। কর্তৃপক্ষ স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে ডাকলেও গণনাকারীরা তাদের গণনা বন্ধ করেনি।

দুই যুগ ধরে রিপাবলিকানের সমর্থনে থাকা অ্যারিজোনার ফল কি হবে তা এখনো ধারণা করা যাচ্ছে না। বৃহস্পতিবার বেলা ১২ টা পর্যন্ত মেরিকোপা কাউন্টির ৮২ শতাংশ ভোট গণনা শেষ হয়েছে, যেখানে জো বাইডেন এগিয়ে রয়েছেন। এখনো ৪ লাখ ভোট গণনা বাকি রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

তবে অঙ্গরাজ্যটিতে নিজের জয়ের ব্যাপারে নিশ্চিত বাইডেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোও উঠে এসেছে, অ্যারিজোনাতে জয় পেতে যাচ্ছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী।

এদিকে ফক্স নিউজের হিসাব অনুযায়ী, ২৬৪টি ইলেক্টোরাল কলেজ ভোট নিয়ে চূড়ান্ত বিজয়ের কাছাকাছি বাইডেন। অন্যদিকে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প পেয়েছেন ২১৪টি ইলেক্টোরাল।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্য ৫৩৮টি ইলেক্টোরাল কলেজের জন্য লড়েছেন প্রার্থী দু’জন। জয় পেতে দরকার দুই-তৃতীয়াংশ ইলেক্টোরাল, অর্থাৎ ২৭০টি।

তবে নির্বাচনে নিজের জয় দাবি করে গুরুত্বপূর্ণ চারটি অঙ্গরাজ্যের ভোট গণনার উপর মামলা করেছেন ট্রাম্প। ফলে নির্বাচনী ফল প্রকাশ নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন জটিলতা।

পূর্ববর্তি সংবাদভারতের সঙ্গে ৩ কোটি করোনা ভ্যাকসিন কেনার চুক্তি হলো
পরবর্তি সংবাদবাংলাদেশীদের চীনে প্রবেশে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা