করোনাকালে বিশ্ব ইজতেমা: কী ভাবছেন দায়িত্বশীলরা?

বিশ্ব ইজতেমার একটি দৃশ্য।

নুরুদ্দীন তাসলিম।।

টঙ্গীর তুরাগ তীরে প্রতি বছর বিশ্ব ইজতেমায় একত্রিত হন বিভিন্ন দেশের মুসলমানরা। ১৯৬৭ সালে শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত টঙ্গী ইজতেমাকেই মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় গণজমায়েত বলা হয়। ২০২০ সালের বিশ্ব ইজতেমা শেষে ২০২১ সালের ইজতেমার (৮ থেকে ১০ জানুয়ারি ইজতেমার প্রথম পর্ব ও ১৫ থেকে ১৭ জানুয়ারি ২য় পর্ব) তারিখ ঘোষণা করা হয়।

প্রতি বছর শীতকালীন সময়- ডিসেম্বর অথবা জানুয়ারিতে হয়ে থাকে ইজতেমার আয়োজন। এবছর শীতের সময়ে বাংলাদেশে বৈশ্বিক মহামারী করোনা সংক্রমণ বাড়ার শঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। তাই ১৯৬৭ সালে শুরু হওয়ার পর থেকে প্রতি বছর নিয়মতান্ত্রিকভাবে পালিত হয়ে আসলেও মহামারী করোনার কারণে এবার কিছুটা আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হওয়া নিয়ে।

শীতকালে করোনার দ্বিতীয় সংক্রমণ- স্বাস্থ্য অধিদফতরের এমন আশঙ্কার পর বিশ্ব ইজতেমা নিয়ে কী ভাবছেন দায়িত্বশীলরা? জানতে যোগাযোগ করেছিলাম টঙ্গী ময়দানের জিম্মাদারদের একজন তারেক ভাইয়ের সাথে।তিনি বলছেন, নিয়ম অনুযায়ী প্রতি বছরের মতো এবারো ২০ সালের ইজতেমা শেষে আগামী বছরের ইজতেমার তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে শেষ মুহূর্তে সময় মতো ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে কিনা, অথবা সময় মতো না হলে বিকল্প কোন ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা তা এখনো নিশ্চিত করে বলা কঠিন।

আরো পড়ুন: পাকিস্তানের রাইবেন্ডে তাবলীগের বিশ্ব ইজতেমা ‍শুরু

তিনি বলছেন, পরিস্থিতি কখন কোন দিকে যায় তা বলা মুশকিল। বৃহত্তর ক্ষতি থেকে রক্ষা পেতে মুরব্বীরা সবসময় স্বাস্থ্যবিধি মানার নির্দেশ দিয়ে যাচ্ছেন। ডিসেম্বরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ১৮ জেলায় ৩ চিল্লার সাথীদের জোড় অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে পরিস্থিতি বিবেচনায় ইজতেমা অনুষ্ঠিত হওয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে ইসলাম টাইমসকে জানাচ্ছেন তারেক ভাই।

আরো পড়ুন: মাদরাসাগুলোতে করোনা পরবর্তী তাবলীগী মেহনত বিষয়ে টঙ্গীতে আলেমদের জোড়

তারেক ভাই বলছেন, ১৮ জেলায় অনুষ্ঠিত জোড়গুলোতে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত হওয়ার সম্ভবনা নেই। কারণ প্রতিবছর টঙ্গীতে এই জোড়ে অংশ নিতেন প্রায় ৪৫ হাজার মানুষ। কিন্তু স্বাস্থ্যবিধিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এবার তা ১৮ জেলায় ভাগ করা হয়েছে, যেখানে দূরত্ব বজায় রেখে অংশগ্রহণ করবেন মাত্র দুই থেকে ৩ হাজার সাথী। আর এই জোড়ের পরেই জানা যাবে ইজতেমা অনুষ্ঠিত হওয়া না হওয়া নিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত।

আরো পড়ুন: করোনাকালে যেভাবে সময় কাটাচ্ছেন তাবলিগী সাথীরা

বিশ্ব ইজতেমার রাতের দৃশ্য।

অনান্য বছর ইজতেমার মাঠ প্রস্তুত করতে নভেম্বর থেকেই মাদরাসা-ছাত্রসহ নানা পেশার মানুষ মাঠে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করতেন, এবছর এখনো এমন কিছু নজরে পড়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এবছর ইজতেমা নিয়ে এক রকম সংশয় রয়ে গেছে, তাই মাঠে কাজ করার কোন অনুমতি দেওয়া হয়নি মুরব্বীদের পক্ষ থেকে। জোড়ের পরে তাদের অনুমতি পেলেই কাজ শুরু হবে বলে জানান তিনি।

আরো পড়ুন: করোনার তীব্রতা কমার পর যেভাবে চলছে তাবলীগের কার্যক্রম

দীর্ঘ সময় নিয়ে ইজতেমা মাঠ তৈরী হতে দেখে এসেছি এতোদিন, ডিসেম্বরে জোড়ের পর সিদ্ধান্ত হলে এতো অল্প সময়ে মাঠ প্রস্তুত করাটা কি খুব সহজ ব্যাপার হবে? – এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলছেন, আল্লাহ তায়ালার অনুগ্রহে মাত্র এক সপ্তাহে পুরো মাঠ প্রস্তুত হয়েছে, এমন পরিস্থিতিও দেখেছেন তিনি। সেক্ষেত্রে ডিসেম্বরে ইজতেমা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হলে মাঠ প্রস্তুত করতে বেগ পেতে হবে না জানালেন এই দায়িত্বশীল।

-আরএম

পূর্ববর্তি সংবাদযুদ্ধ নয়, বাংলাদেশ আক্রমণ প্রতিহতের সক্ষমতা অর্জন করতে চায়: প্রধানমন্ত্রী
পরবর্তি সংবাদতাহলে মুখে তাদের সারাক্ষণ বিএনপি কেন? আ.লীগ নেতাদের উদ্দেশ্যে ফখরুল