আলজেরিয়ায় আফ্রিকার সবচে বড় মসজিদ উদ্বোধন

সাইফ নূর ।। 

আলজেরিয়ার রাজধানীতে অবস্থিত জামে আলজাযায়ের মসজিদে একসঙ্গে এক লাখ বিশ হাজার মুসল্লি নামায আদায় করার ধারণক্ষমতা রয়েছে।

মসজিদটি নির্মাণে দেড় বিলিয়নের অধিক ডলার খরচ হয়েছে।

১২ই রবিউল আউয়াল এ মসজিদ  উদ্বোধন করা হয়। এর নির্মাণে দায়িত্বশীল চীনা কোম্পানির দাবি অনুযায়ী এটি আফ্রিকার সবচে বড় মসজিদ।

মসজিদের নির্মাণ ২০১২ সালে প্রধানমন্ত্রী আবদুল আযীয বু তাফলীকার আমলে শুরু হয়েছিল। দেড় বছর পূর্বে এটির নির্মাণকাজ সমাপ্ত করা হয়।

এটি উত্তর আফ্রিকার মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ আলজেরিয়ার রাজধানীতে অবস্থিত। মসজিদটির উদ্বোধন দেশটির প্রধানমন্ত্রী আবদুল আযীয করেছেন।

উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী আবদুল আযীয জাররাদ এখানে নামায আদায় করেন। তার সঙ্গে তখন দেশটির রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন মুসলিম দেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

মসজিদের নির্মাণ আধুনিক পদ্ধতি অনুসারে করা হয়েছে। এটি আনুমানিক ৭০ একর জমিজুড়ে বিস্তৃত। চীনা নির্মাণ কোম্পানির মতে এটি সৌদি আরবের মক্কা এবং মদীনার উভয় পবিত্র মসজিদ (মসজিদুল হারাম এবং মসজিদে নববী) এর পর সবচে বড় মসজিদ।

একসময় এখানে প্রায় একলাখ বিশ হাজার মানুষ নামায আদায় করতে পারবেন। কিন্তু করোনা মহামারির পরিস্থিতিতে এখন শুধু এর একটি হল উন্মুক্ত করা হয়েছে।

ব্যাপক জনপ্রিয়তা সত্ত্বেও মসজিদটির নির্মাণ নিয়ে মতবিরোধ ঘটে। যার ফলে এটি নির্মিত হতে সাত বছর সময় লেগে যায়। সরকারি কোষাগার থেকে এর জন্য ব্যয় হয় দেড় মিলিয়ন ডলার।

জামে আলজাযায়ের-এর এক স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, এর মিনার ২৬৭ মিটার উচু। এবং এটি রাজধানীর চতুর্দিক থেকে দেখা যায়। মিনারটির ৪৩টি ধাপ রয়েছে। প্রতিটি ধাপে লিফটের মাধ্যমে যাতায়াত করা যায়।

জামে আলজাযায়েরের ভেতরের অংশের নির্মাণে নীল রংয়ের মর্মর পাথর এবং বিশেষ লাকড়ি ব্যবহার করা হয়েছে।  দেয়ালজুড়ে আরবি ভাষার চিত্রাঙ্কন সাজানো হয়েছে।

এর কার্পেটে ফুলের বিশেষ ডিজাইন দেশটির সভ্যতা ও সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্ব করে।

এতে মোট ১২টি ভবন রয়েছে। যার মধ্যে ১০ লক্ষ কিতাববিশিষ্ট একটি লাইব্রেরি বিদ্যমান। এছাড়া লেকচার হল, ইসলামি ইতিাহাস ও আর্ট যাদুঘর, রিসার্চ সেন্টার, উদ্যান এবং পানির ফোয়ারা রয়েছে।

বিবিসির তথ্যমতে জামে আলজাযায়েরে পাঁচজন ইমাম এবং পাঁচজন মুয়াজ্জিন নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

আলজেরিয়ায় সুফী লাইব্রেরির পাবলিশিং ডাইরেক্টর হাম্মাদ আততীবী বলেন, জামে আলজাযায়েরকে অতীতে দেশের ফরাসি সাম্রাজ্যবাদ এবং খ্রিস্টবাদ প্রতিষ্ঠার ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে একটি নিদর্শন হিসেবে দেখা যেতে পারে।

এস এন

পূর্ববর্তি সংবাদমানবতার উপহাস: যুক্তরাষ্টের কেন্টাকির শহরে মেয়র নির্বাচিত একটি কুকুর!
পরবর্তি সংবাদরাজধানীতে ট্রেনে কাটা পড়ে দম্পতির মৃত্যু