পশ্চিমবঙ্গে অমিত শাহ: তৃণমূলের ‘মুসলিম তোষণের’ রাজনীতির সমালোচনা

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন মমতা ব্যানার্জির তৃণমূল সরকার সেখানকার মুসলিম নাগরিকদের প্রতি কেন বিজেপির মতো আগ্রাসী নয়, তার জন্য আফসোসের শেষ নেই ভারতের ক্ষমতাসীন হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপির। বিজেপির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পশ্চিবঙ্গে নির্বাচনী সফরে শুক্রবার দক্ষিণেশ্বরের মন্দিরে পুজো দিয়ে সে আক্ষেপই ব্যক্ত করলেন। ফুল-প্রদীপ দিয়ে পুজো এবং আরতি সেরে মন্দিরেই আক্রমণ করেন রাজ্যটিতে ক্ষমতাসীন মমতা ব্যানার্জির তৃণমূল সরকারকে।

অমিত বলেন, ‘‘তোষণের রাজনীতি বাংলার ঐতিহ্য নষ্ট করছে।’’ যার পাল্টা তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় বলেন, ‘‘দক্ষিণেশ্বরে গিয়ে সাম্প্রদায়িক মন্তব্য করে অমিত শ্রীরামকৃষ্ণের সাধনভূমির ঐতিহ্য নষ্ট করেছেন।’’ বলাবাহুল্য, তোষণের রাজনীতি বলে আমিত শাহ মুসলমানদের তোষণকে বুঝাতে চেয়েছেন । এটি ভারতীয় সাম্প্রদায়িক রাজনীতিতে বহুল পরিচিত শব্দ।

মন্দির চত্বরেই তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘এখানে অনেকবার এসেছি। প্রতিবারই এখানে এলে শক্তি ও চেতনা পাই। বাংলা পবিত্র ভূমি। চৈতন্য মহাপ্রভু, স্বামী প্রণবানন্দ, ঠাকুর রামকৃষ্ণ পরমহংস, স্বামী বিবেকানন্দ, ঋষি অরবিন্দের মতো মানুষ জন্মেছেন এই ভূমিতে। আর এই ভূমিতেই তোষণের রাজনীতি বাংলার পরম্পরা নষ্ট করছে।’’ বাংলা যাতে এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে পারে, সে জন্য তিনি মা কালীর কাছে প্রার্থনা করেছেন বলেও জানান অমিত।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমি রাজ্যের মানুষের কাছে আবেদন করছি, যে আধ্যাত্মিকতা ও ধর্মীয় চেতনার কেন্দ্র ছিল বাংলা, তা যেন ফিরে আসে। আপনারা নিজেদের দায়িত্ব পালন করুন। মা কালীর কাছে বাংলা ও দেশের মানুষের মঙ্গল প্রার্থনা করেছি। মোদীজির নেতৃত্বে এই দেশ যাতে ফের একবার বিশ্বে গৌরবময় অবস্থায় ফিরে যেতে পারে, সেই প্রার্থনা করেছি।”

অমিত শাহ ‘তোষণের রাজনীতি’ বলে যে মুসলিম তোষণ বুঝিয়েছেন তাতে কোনো সন্দেহ নেই। যার প্রমাণ হলো, দক্ষিণেশ্বর মন্দির চত‌্বরে দাঁড়িয়ে অমিতের মন্তব্যের কড়া নিন্দা করেছেন সাংসদ সৌগত রায়। আনন্দবাজার ডিজিটালকে তিনি বলেন, ‘‘অত্যন্ত আপত্তিজনক বক্তব্য। তুষ্টিকরণ বা তোষণের কথা বলে যে সাম্প্রদায়িক কথা তিনি উচ্চারণ করেছেন, সেটা রামকৃষ্ণের সাধনভূমির পবিত্রতা নষ্ট করে দিয়েছে। ঠাকুর রামকৃষ্ণ ‘যত মত তত পথ’-এর কথা বলেছিলেন। সেখানে দাঁড়িয়ে ধর্মীয় সঙ্কীর্ণতা দেখানো অত্যন্ত আপত্তিকর।’’

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার বাঁকুড়ায় গিয়ে অমিত বলেছিলেন, রাজ্যে দুই-তৃতীয়াংশ আসন পেয়ে ক্ষমতায় আসবে বিজেপি। যদিও সেটাকে ‘দিবাস্বপ্ন’ বলে কটাক্ষ করেছিল তৃণমূল। এর পরে তৃণমূল সরকারকে ‘উপড়ে ফেলে দেওয়ার’র কথা বলেন তিনি। যার পাল্টা অমিতের নাম করে আক্রমণ শানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবারও সেই বিতর্কের মধ্য দিয়েই শুরু হল অমিতের বাংলা সফরের তৃতীয় তথা শেষদিন।

সূত্র: আনন্দবাজার
এস আই
পূর্ববর্তি সংবাদশাহজালাল বিমানবন্দরে প্রায় ৫ কোটি টাকার স্বর্ণ জব্দ
পরবর্তি সংবাদফ্রান্সে নবীজির অবমাননা: গোপালগঞ্জ যুব সমাজের বিক্ষোভ ও মানববন্ধন