হিন্দু সমাবেশে উস্কানিমূলক স্লোগান: দেশ ব্যাপী পূর্ব তিমুর বানানোর নীল নকশা

সাদ উদ্দীন সাদী ।।

পার্বত্য চট্টগ্রামকে ঘিরে এনজিও খৃষ্টান মিশনারিসহ বিভিন্ন দেশের প্ররোচনায় নানা বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠির পৃথক রাষ্ট্রগঠনের অভিযোগ অনেক পুরানো। এখন সেই পরিকল্পনা সারা দেশ ব্যাপী চলছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেক পর্যবেক্ষক ও বিশ্লেষক।এক্ষেত্রে পূর্বতিমুর, দক্ষিণ সুদান, ইসরাইলের মত কোনো বিষফোঁড়া নামক রাষ্ট্রের আবির্ভাব হয় কিনা সেই আশঙ্কাও প্রকাশ করছেন কেউ।

তাদের সেই আশঙ্কার একটা খন্ডচিত্র  ‘জয় শ্রীরাম’ ‘হেফাজতের গালে গালে’ ‘চরমোনাইর গালে গালে’ ‘একটা একটা জবাই কর’ উস্কানিমূলক স্লোগানসম্বলিত দেশের বিভিন্ন স্থানে ‘হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের’ মিছিল ও সমাবেশ।

লেখক পর্যবেক্ষক ইমামুদ্দীন মেহের মনে করেন, কেউ কেউ শুধু পার্বত্য চট্টগ্রামের বেলায় বাংলাদেশকে টুকরা করার ষড়যন্ত্র হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন। কিন্তু আমার কাছে মনে হয়, এষড়যন্ত্র শুধু পার্বত্য চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করেই হচ্ছে এমন নয়। এই ষড়যন্ত্র এখন গোটা দেশকেই কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে।

দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রধান সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের  উগ্র একটি শ্রেণীকে শুরু থেকে মিলিট্যান্সি কায়দায় গড়ে তোলা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে, যাদের আদর্শ পার্শ্ববর্তী দেশের চরম উগ্রপন্থী সাম্প্রদায়িক দল আরএসএস, বজরং।

এক্ষেত্রে বাংলাদেশকে পূর্বতিমুর, দক্ষিণ সুদান ইত্যাদির মত কোনো ভাগ্য বরণ করতে হতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে পর্যবেক্ষক ইমামুদ্দীন মেহের বলেন, বাংলাদেশে পূর্ব তিমুর ও দক্ষিণ সুদানের মত ভাগ্য বরণ করতে হয় কিনা সেই আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

১৯৭৫ সালে পূর্ব তিমুরে ক্যাথোলিক খ্রীষ্টানের হার ছিল ৩০-৪০% যা ১৯৯০ এর দিকে বেড়ে দাড়ায় ৯০%। ঠিক তেমনি বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই ঝাঁকে ঝাঁকে খ্রিষ্টান মিশনারি, এনজিও, পশ্চিমা শক্তি বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহতায় তৎপরতা চালাচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রামে। চিকিৎসা, সমাজ ও মানবতার সেবার অভিনয়ে তারা  পার্বত্য এলাকার দারিদ্র্যপীড়িত জনগোষ্ঠীকে খৃষ্টান ধর্ম ইউরোপীয় জীবনাচার ও দর্শনের দিকে আকৃষ্ট করার প্রয়াস চালাচ্ছে।

খ্রিষ্টানাইজেশান প্রক্রিয়ার মাধ্যেমে মাত্র ২০ বছরের মাথায় পূর্ব তিমুরকে ইন্দোনেশিয়া থেকে আলাদা করে দিয়ে জাতিসঙ্ঘের নেতৃত্বে একটি পৃথক রাষ্ট্র করে দেয়া হল। অথচ কাশ্মীরের মানুষ মুসলমান হওয়ায় তারা ৬০ বছর ধরে সংগ্রাম করলেও জাতিসঙ্ঘ তাদের রাষ্ট্র গঠনে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি। যোগ করেন ইমামুদ্দীন মেহের।

সম্প্রতি সংখ্যালঘু শ্রেণীর সহিংস স্লোগান সম্বলিত আন্দোলন এদিকে ইঙ্গিত করে যে বাংলাদেশের ভেতরে পৃথক রাষ্ট্র গঠনের ষড়যন্ত্র শুধু পার্বত্য চট্টগ্রামেই সীমাবদ্ধ নয়, সারা দেশে সংখ্যালঘু শ্রেণীর যুবকদের বিশেষ কায়দায় গড়ে তুলে দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করার এক গভীর ষড়যন্ত্রে মেতেছে একটি শ্রেণী।

পর্যবেক্ষক ইমামুদ্দীন মেহের মনে করেন, শুধু আলেম ও ধর্মপ্রিয় নাগরিক হিসাবেই নয়, দেশপ্রেমী প্রতিটি নাগরিকের উচিত মাতৃভূমির বিরুদ্ধে এহেন ষড়যন্ত্রকে সূচনাতেই রুখে দেয়া। যদি এসব ষড়যন্ত্রের বীজ দেশে বিস্তার হতে দেওয়া হয়, তাহলে এর করুণ পরিণতি সকলকেই ভোগ করতে হবে। যোগ করেন তিনি।

পূর্ববর্তি সংবাদধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড চেয়ে সংসদে বিল
পরবর্তি সংবাদচট্টগ্রামে গ্যাসের আগুনে দগ্ধ একই পরিবারের ৯ জন