ইসলাম টাইমস ডেস্ক: চট্টগ্রামে ৩৪ জন জলদস্যু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের কাছে অস্ত্র জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করেছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে বাঁশখালী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তারা আত্মসমর্পণ করে।
অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী, মো. মোসলেম উদ্দিন, আশেক উল্লাহ রফিক ও মোহাম্মদ জাফর আলমসহ পুলিশ প্রধান বেনজির আহমেদ ও র্যাব কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে দস্যুদের কাছ থেকে ৯০টি আগ্নেয়াস্ত্র ও দুই হাজার ৫৬টি গুলি জমা পড়ে।
চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী উপজেলায় আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে এসে গণমাধ্যমকে র্যাবের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ বলেন, ‘মহেশখালী উপকূল অঞ্চলে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ লাখ মানুষ বসবাস করে। এই মানুষগুলোর জীবিকা নির্ভর করে উপকূল কেন্দ্রিক অর্থনীতির ওপর। কিন্তু এই ডাকাতদের কারণে তারা এক প্রকার জিম্মি হয়ে আছেন। ডাকাতদের আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে জিম্মি দশা থেকে মুক্ত হবেন সাধারণ মানুষ। এর মধ্যে দিয়ে উপকূল অঞ্চলে শান্তির সুবাতাস বইবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সুন্দরবন মহেশখালীতে একাধিকবার আত্মসমর্পণের পর আমরা এবার আরেকটি আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠান আয়োজন করেছি। ১১টি বাহিনীর ৩৪ জন ডাকাত আত্মসমর্পণ করছেন। যাদের এর আগে আত্মসমর্পণ করা সুযোগ ছিল না তারাই এবার সুযোগ পাচ্ছেন। এই আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে এই উপকূল এলাকা ডাকাত মুক্ত হবে।’
র্যাবের এই কর্মকর্তা জানান, আত্মসমর্পণ করা ডাকাতদের অধিকাংশের বিরুদ্ধেই রয়েছে মামলা। হত্যা ও ধর্ষণ মামলা ছাড়া অন্য মামলাগুলো আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রত্যাহার করা হবে।
তাছাড়া যারা ডাকাতদের তৈরির পিছনে মাস্টারমাইন্ড হিসেবে যারা কাজ করেছেন তাদের ওপর র্যাব নজরদারি করছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদেরকেও আইনের আওতায় আনা হবে বলে যোগ করেন তিনি।
র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২০০৪ সাল থেকে এখন পর্যন্ত র্যাব-৭ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২৪৮ জন ডাকাতকে আটক করে। উদ্ধার করে ৭৯৭টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং আট হাজার ৮৪২ রাউন্ড গোলাবারুদ। এছাড়াও ২০১৮ সালে ৪৩ জন ডাকাত র্যাবের কাছে আত্মসমর্পণ করে।
র্যাব সদর দপ্তরের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক আশিক বিল্লাহ জানিয়েছেন, সুন্দরবন এলাকার ৩২টি দস্যুবাহিনীর বাহিনীর ৩২৮ জন অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণ করেছে।
এম এস আই
















