দেশের ‘সবচে বড় তারকার’ সবচে বড় ভুল!

আলী হাসান তৈয়ব ।।

আজ দেশের সবচেয়ে বড় তারকার সবচেয়ে বড় ভুলে মুমিনরা স্তম্ভিত। যে কাজটি তিনি করলেন, তা যে কত বড় ভুল, সেটা তিনি জানেন না বলে সুধারণা করতে চাই।

অনেকেই নানা ব্যাখ্যায় তার কাজটিকে ছোট করে দেখাতে চাইছেন, অথচ বাস্তবতা হলো, পৃথিবীতে একজন মুসলিমের এরচেয়ে বড় গর্হিত অপরাধ আর হতে পারে না। শিরক সবচেয়ে বড় অপরাধ। শিরক করা মানে মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়া। শিরক সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনা। শিরক হলে তাওবা ছাড়া উপায় নেই। তাওবা ছাড়া কবরে গেলে ক্ষমা নেই। আপনি বলবেন পুজো তো করেন নি। বলব, শিরকে সমর্থন ও সহমতও যে একইমাত্রার গুনাহ।

বাংলাদেশে বহু শিক্ষিত মুসলিম মসজিদে যায় আবার মন্দিরেও যায়। কেউ মক্কায় গিয়ে হজ-উমরা করছে আবার মন্দিরে গিয়ে শিরকি উৎসব-আনন্দেও অবগাহন করছে।

বাস্তবতা হলো, অনেকদিন ধরেই চারপাশে ক্রমশ শিরককে গা সওয়া বানানো হচ্ছে। যেই শিরকের সঙ্গে ইসলামের সংঘাত চিরন্তন। ইসলাম সব ব্যাপারেই কখনো কখনো কিছু ছাড় দেয়, কিন্তু শিরক কখনো কোনোভাবেই ছাড় দেয় না। শিরকের ক্ষেত্রে ইসলামের নীতি জিরো টলারেন্সের।

গত কয়েক বছর ধরে নানা পরোক্ষ উপায়ে শিরকের প্রতি সহনশীল বানানো হচ্ছে। শিল্প-সাহিত্য-সম্প্রীতির নামে। আরও কত অজুহাতে। ঘনঘন দেখছি, মুসলিম নারী মুশরিকের সঙ্গে বিয়ে বসছে খুল্লামখুল্লা। দুই ধর্মের নিয়মেই নাকি বিয়ে হয় তাদের! আপনি যদি বলেন, আইসক্রিম ফ্রিজে ঠাণ্ডা করেছি তারপর ওভেনে গরম করেছি, তাহলে সেটা কি আইসক্রিম থাকে? কিংবা যদি বলেন নারকেল তেল রোদে গলিয়েছেন তারপর ফ্রিজে জমিয়েছেন, তাহলে সেটা মাথায় দেওয়া যাবে?বোতল থেকে বেরই তো করা যাবে না। অথবা যদি বলেন, পানি দিয়ে ধুয়েছি তারপর মূত্র দিয়েও ওয়াশ করেছি, তাহলে ওই পরিধেয় কি পাক হবে? হবে না।

অথচ দিনকে দিন এমন উল্টো যুক্তিতেই আমাদের জাতি অভ্যস্ত হয়ে উঠছে। এসব জায়েজ করার কলেমা ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’। আর হালাল করার যুক্তি ‘উদারতা ও অসাম্প্রদায়িকতা’।

অবস্থা কেন এমন হচ্ছে জানেন?

কারণ আমরা অজু শিখি এবং সন্তানদের শেখাই। একইসঙ্গে অজু ভাঙ্গার কারণ শিখি ও শেখাই। কিন্তু ঈমান খানিকটা শিখলে-শেখালেও, ঈমান ভঙ্গের কারণ শিখি না, শেখাইও না।

দুই লক্ষাধিক মসজিদে বছরে কমপক্ষে ৪৮টি জুমার কয়টি আলোচনা হয় সরাসরি তাওহিদ নিয়ে? তাওহিদ বিনষ্ট ও ঈমান ভঙ্গের কারণ বিষয়ে? দেশজুড়ে বছরে সম্ভবত চার লক্ষাধিক মাহফিল হয়। এর পাঁচ ভাগেও কি এ বিষয়ে আলোচনা হয়? শ্রদ্ধা রেখেই বলছি, অধিকাংশই থাকে সুন্নত-মুস্তাহাবের ফজিলত কিংবা গ্রুপিং আর ফেরকাজির ওয়াজ।

আপনি নিজেই বলুন জীবনে কয়টি মসজিদে বা কয়টা মাহফিলে আরকানুল ঈমান বা নাওয়াকেদুল ঈমান নিয়ে আলোচনা শুনেছেন? জেনারেল শিক্ষায় ধর্ম শিক্ষার পাঠ্যপুস্তকেও নাই এসব।

অথচ বলাবাহুল্য, ঈমান ভঙ্গের কারণ রোধ করলে তাওহিদের কালেমা বললেও তাওহিদ থাকে না। তাওহিদ ও কাঙ্ক্ষিত ঈমান ছাড়া আমল মানে তলা ফুটো পাত্রে মাছ রাখার নামান্তর। তাওহিদ হলো এক। এর পরে প্রতিটি আমল একেকটি শূন্য যোগ করে নেকির সংখ্যা বৃদ্ধি করতে থাকে। এই ‘এক’এ সমস্যা হলে ওই শূন্যগুলোর কোনো মূল্য থাকে না।

তাওহিদের কালেমা দুটি জিনিসের সমন্বয়ে গঠিত : হ্যাঁ ও না। তথা— ১. লা ইলাহা বা নেই কোনো মাবুদ। ২. ইল্লাল্লাহ বা আছেন শুধু আল্লাহ। আল্লাহতে ‘হ্যাঁ’ এবং অন্যতে ‘না’। দ্বিতীয়টা আবু জাহল-লাহাবরাও মানত। খোদ কুরআন বলছে, প্রথমটা তারা মানেনি বলে তারা লাত-উজ্জার অর্চনা করেছে। নবীকেও চিনত কিন্তু ওই অংশের জন্যই নবীজির (সা.) পক্ষ নিতে পারেনি।

আপনি মুসলিম হবেন আর কিছুতে ‘লা’ তথা ‘না’ বলবেন না, তা হতে পারে না। মুসলিম হতে হলে আপনাকে অবশ্যই ‘লা’, ‘না’, ‘নো’ বলতেই হবে। জেনাকে বলতে হবে ‘নো’। বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ককে বলতে হবে ‘নো’। গার্লফ্রেন্ডকে বলতে হবে ‘নো’। সুদ, ঘুষ, দুর্নীতিকে বলতে হবে ‘নো’। আল্লাহ-রাসূলের সব নিষিদ্ধ করা বিষয়কে বলতে হবে ‘নো’। ভুলে গেলে চলবে না, আপনি ইসলামে দাখিলই হয়েছেন ‘নো’ মানে ‘লা’ দিয়ে। ইল্লাল্লাহ পরে, আগে লা ইলাহা।

এই দুটি অংশের যৌগ বলেই এই ছোট্ট বাক্য এত দামি। এত তাৎপর্য আর এত শক্তি। এত ভারি যে সারাজীবনের কর্মের বিপরীতে এর ওজনই মিজানে-পাল্লায় ভারি হবে। এজন্যই এই একটি বাক্য জান্নাতের জন্য যথেষ্ট হবে।

(লেখকের ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

এম এস আই