সমালোচনায় আপত্তি নেই কিন্তু অপপ্রচার কেন: প্রধানমন্ত্রী

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা সমালোচকদের উদ্দেশে বলেন, সমালোচনা হলে ভালো, এতে সরকারের কার্যক্রমের ভালোমন্দ আমরা বুঝতে পারি। কিন্তু অপপ্রচার কেন? সমালোচনায় আমাদের আপত্তি নেই, ভালো কাজ করলে সেটা একটু স্বীকার করা উচিত।

এছাড়া করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ সামাল দিতে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, সরকার এক হাজার কোটি টাকা দিয়ে আগাম করোনার ভ্যাকসিন অর্ডার করেছে। যখনি এটা কার্যকর হবে, তখনি এটা যেন বাংলাদেশের মানুষ পায় আমরা সেই ব্যবস্থা নিয়েছি। একটা সময় দেখা যেতো একটু হাঁচি দিলেও চিকিৎসার জন্য বিদেশ চলে যেতো। কিন্তু করোনা বুঝিয়ে দিয়ে গেল টাকা-পয়সা, ধন-সম্পদের কোনো মূল্য নেই। মনে হয় করোনাভাইরাস এসেছে মানুষকে শিক্ষা দিতে। আর করোনাভাইরাস আমাদের শিখিয়েছে দেশেই চিকিৎসা সেবা নেয়া সম্ভব।

গতকাল বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলটির কেন্দ্রীয় সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, মিথ্যা-অপপ্রচার চালিয়ে শুধু দেশে নয়, বিদেশেও দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে বিএনপি।

বিভিন্ন উপ-নির্বাচনে তারা প্রার্থী দেয়। নির্বাচনের আগে খুব হৈ-চৈ করে। কিন্তু নির্বাচনের দিন দুপুরে পরাজয়ের ভয়ে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেয়। মূলত নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই পরিকল্পনা অনুযায়ী বিএনপি এ রকম করে। তারা নির্বাচনের দিনে বাসে আগুন দিয়ে আবার সংসদে দাঁড়িয়ে সরকারের সমালোচনা করে। বিএনপি’র এসব মিথ্যাচার থেকে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তারা তো নিজেরাই স্বীকার করছে, তারাই আগুন দিয়েছে। তারা আগুন দেবে, উল্টো বলবে সরকারি দল করেছে! সরকারি দল কেন করবে?

তিনি বলেন, অনেকে যা ইচ্ছা লিখতে পারেন, এতে হয়তো পত্রিকার কাটতি বাড়বে। নিজেদের একটু আঁতেল হিসাবে ভালো স্মার্ট হবেন, অথবা আমাদের বিরুদ্ধে কিছু বলে সংগঠনের জন্য ভালো ফান্ড আনতে পারবেন। হয়তো এনজিও’র জন্য বিদেশি ফান্ড আসবে। কিন্তু এই ফান্ড কোথায় যায়? ভবিষ্যতে এটার হিসাব নেয়া শুরু করবো। আর যারা বলেন- দেশে গণতন্ত্র নেই, তাদের কাছে আমার প্রশ্ন- জিয়াউর রহমান যখন হত্যা-ক্যু করে ক্ষমতা দখল করেছিল, ’৯৬ সালে দ্বিতীয়বার যখন খালেদা জিয়া ভোট চুরি করে ক্ষমতায় এলো, ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট মা- বোনদের ওপর অমানবিক নির্যাতন করলো তখন কি গণতন্ত্র ছিল?

সম্পাদকমণ্ডলীর সভায় উপস্থিত ছিলেন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, আফম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, মির্জা আজম, এসএম কামাল হোসেন, প্রচার সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সেলিম মাহমুদ, বন ও পরিবেশ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, অর্থ সম্পাদক ওয়াসিকা আয়েশা খান, আইন বিষয়ক সম্পাদক নজিবুল্লাহ হীরু, স্বাস্থ্য সম্পাদক রোকেয়া সুলতানা, আন্তর্জাতিক সম্পাদক শাম্মী আহমেদ, শিল্প ও বাণিজ্য সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান, উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান প্রমুখ।

-এনটি

পূর্ববর্তি সংবাদচলতি বছরে ফেইসবুকের কাছে সরকারের তথ্য চাওয়ার হার বেড়েছে
পরবর্তি সংবাদ২৭ বছর পর আর্মেনিয় দখল মুক্ত আজারবাইজানের ‘অগদাম’ অঞ্চল